Sunday, December 4, 2016

অশরীরী

আমি যে তোমার সঙ্গে হাঁটি তুমি বুঝতে পাও?
শীতের জমাট কুয়াশায় তোমাকে ছুঁয়ে দিলে
তুমি অনিচ্ছায় ঝুঁকে আস আমার দিকে

আমি যে তোমাকে ছুঁয়ে থাকি তুমি টের পাও?
বিহ্বলতায় হাত বাড়িয়ে অজান্তেই জড়িয়ে থাক
আমার কনুই, আমার শীর্ণ কনুইয়ে
তোমার স্বাস্থ্যবান জীবনের ভার


তুমি যে বাড়িতে থাক যে বিছানায় শোও
যে ঘরে স্নান কর কিংবা প্রার্থনা
সেখানেও আমার নিত্য আনাগোনা

মলাট খুললেই আমার চুম্বন গুলো
অবলীলায় হামাগুড়ি দিতে থাকে সমস্ত তুমি জুড়ে
তুমি কেঁপে ওঠ?

শরীরে শরীর ছেনেও যে তুমি ভীষণ শীতল
আমার করতল ছুঁয়ে নাও আদিম উত্তাপ

০৩.১২.২০১৬

Monday, November 14, 2016

দূরত্ব বাড়ছে


দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়
দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে দেয়ালে পলেস্তারায়
দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে নিজের সাথে নিজের
       দুঃখ ও দুঃখের
       সুখ ও সুখের
দূরত্ব বাড়ছে জীবনের সাথে যাপনের

কেমন অচেনা লাগে নারী, রোজকার নদী
অচেনা লাগে মানুষ
        জেগে থাকা মানুষ, ঘুমিয়ে থাকা মানুষ
        পুড়িয়ে দেয়া মা্নুষ,পুড়ে যাওয়া মানুষ
অচেনা লাগে ঘর, বিতাড়িত বিস্তৃত চর
অচেনা লাগে প্রেম, চকচকে বিষন্ন হেম

দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে ইশ্বরে
দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে মানুষে
দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে হাওয়ায়
দূরত্ব বাড়ছে নিজের সাথে নিজেরই
বিমুর্ত ছায়ায়

১৩.১১.২০১৬


Saturday, July 30, 2016

আমি



আমার নিজের বলতে আসলে এই আমি
দুটো হাত দুটো পা
আজন্ম খরগোশের মত দুটো কান
এই আঙ্গুল, আঙ্গুলের নখ
আমার নিজের বলতে আনমনে তুলে আনা এক আঁজলা জল
জলে ভেসে উঠা শৈশবের স্মৃতি

আমার নিজের বলতে অকপট মৃত্তিকা, স্থির নীলিমা
মাঝরাতে একঘেয়ে বৃষ্টি, কুয়াশাভেজা জ্যোছনা
আমার নিজের বলতে দূর থেকে ভেসে আসা বাঁশীর
করুণ দ্যোতনা

আমার নিজের বলতে
বোকাবোকা লিখে ফেলা কিছু কবিতা, একটা অপাংতেয় হৃদয়
আমার নিজের বলতে তুমি, তেষ্টায় কাতর আবাল্য মরুভূমি

আমার নিজের বলতে
ভুরুর মধ্যে একাকী বেড়ে উঠা একটা বিষন্ন লম্বা চুল

৩০.০৭.২০১৬

অপেক্ষা



অপেক্ষার ডালপালা নিজের হাতেই কেটে দিয়ে
তবু তুমি অপেক্ষায় থাক
মধ্যবিত্ত আবেগ গুলো পাশ কাটিয়ে
জীবিকা চাতুর্যে মনযোগী হয়ে উঠলে আমার
কবিতারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। তবু আমি
দাঁতে দাঁত চেপে সভ্যতার শেকলে নিজেকে বাঁধতে থাকি
কবিতা যদি পরাজিত না হয়
কবি কেন বার বার পরাজিত হবে?