Sunday, June 30, 2019

অমল চিৎকার


‘নিজেকে মহামানব ভাব?’ বলে গট গট
হেঁটে যাওয়া নারীর পশ্চাৎদেশে বিচলিত নই।
পলেস্তারা খসে যাওয়া ইটে গাছ হয়ে উঁকি দেয়া ছাড়া
বহুদিন ঘর্মাক্ত হইনি কামে। তবু কবিতার আশকারায়
কেঁপে উঠলে ঠোঁট, আমি ভীষণ পুলকিত হই

নিয়তই ভাঙ্গে যেই জীবনের তান, তানে তানে গাও তুমি
তারই জয়গান। সেই গান শুনি আমি, আর গাই, আর ভাবি
আহা, এইরকম পাই যদি, অবিকল, কবিতার ভাষা

এইরকম পাই যদি ছোট্ট বেগুনি ফুল, তিরতির জল
গহীন পরানে বাজে নদী কলকল, পার হতে ভয় হওয়া
বাঁশের হাতল। পাই যদি খুঁজেতারে, আমারই ভেতরজুড়ে
যে বেড়ায় উড়ে উড়ে, ঘুরে ঘুরে, ছুঁতে গেলে যায় দূরে

ক্রমাগত নুয়ে থেকে বুনি যেই বীজ, তার গোপন সবুজ কাঁপে
রাত্রির শীৎকারে। তুমি ছুঁয়ে দিলে আমি ভাসি, আহা

ভেসে যাই অমল চিৎকারে

১৮.০৬.২০১৯

Thursday, June 13, 2019

নিষ্প্রভ জন্মের ইতিহাসে আমার ঝুলে থাকাই কেবল দৃশ্যমান


আমি কিছুরই পক্ষে দাঁড়াই না, বিপক্ষেও না
সন্তর্পনে নিজের দিকে থুথু দেয়া ছাড়া
আমার ঘৃণা প্রকাশও অবান্তর

আমার বোনটা যে মরে গেল, সারারাত ওঁর পাশে বসে থেকেছি
দায়ী করবার মত কেউই কি ছিল না?
মা যে মরে গেল আমারও বাঁচার আগে, তারও নাকি দায় ছিল
তবু কাউকেই দায়ী ভাবিনি, একটা সরল রজ্জুতে আমি কেবল
বেঁধেছি ঈশ্বরকে।

পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে একটা সরল গিঁটে আমি বাঁধি ঈশ্বরকে
তেলে ভেজাল দিলেও তাই, উত্তরোত্তর সমাজে ধর্ষণ বেড়ে গেলে
উপরে নির্ভার মুচকিহাসিরত ঈশ্বরকে দেখেও আমার রজ্জুতে গিঁট
বাড়ে।

যদিও জানি, শেষমেশ এই অবাক যাদুকর
গিঁট থেকে আচানক বের হয়ে মানুষকেই ঝুলিয়ে দেন
অদৃশ্য রজ্জুতে।

নিষ্প্রভ জন্মের ইতিহাসে আমার ঝুলে থাকাই কেবল দৃশ্যমান

১২.০৬.১৯