আমার পাঁচ বছরের মেয়ে রোদ ; বলে বাবা
সিলেট থেকে এসে আমাকে একটা ছোট্ট ছাতা কিনে দিও।
এইবার যে বৃষ্টি প্রায় শেষ এটি ওকে কিছুতেই বোঝানো
যায় না
আমি বলি ঘরে তো তিনটি ছাতা আছে, কিন্তু ওর ছোট্ট ছাতা
চাই ই।
বলি আচ্ছা দেবো কিনে। তবু ও কথা থামাতেই চায় না
বলে যদি অনেক পয়সা লাগে কিনতে, আমি বলি দেবো
বলে যদি আরো অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
ও বলে, যদি আরো অনেক অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
যদি তোমার কাছে অত পয়সা না থাকে
বলি তাহলে সোফা টিভি বিক্রি করে তোমাকে ছাতা কিনে
দেবো
ও বলে, যদি তাতেও না হয়। আমি বলি তাহলে সব বেচে দেবো
যা আছে আমার, তবু তোমাকে ছাতা কিনে দেবই।
ও যেনো আশ্বস্ত হয়, মিষ্টি করে হাসে
যে রাতে আমি সিলেট থেকে ঘরে ফিরব
ও কিছুতেই ঘুমাতে চায় না। আমি গাড়িতে চড়ার সময় থেকেই
ওর সময় গননা শুরু; বাবা এখন কোথায়? বলি
ব্রাম্মনবাড়িয়া
ও খুবই হতাশ, ব্রাম্মনবাড়িয়া থেকে আসার সময় একবার গভীর
রাত
হয়ে যাওয়ায় ট্রেনের দ্যোদুল্যমান পুলকও ওকে জাগিয়ে
রাখতে পারেনি।
রাত বাড়ে, আমি পার হই মোহময়ী ভৈরব, নরসিংদী পেরিয়ে
মাধবদী
তারপর ভুলতা এসে আমার গাড়ি অবস্থান ধর্মঘটে বসে।
মেয়ের হতাশ
স্বরে আমার রক্তচাপ বাড়ে, ওকে ঘুমিয়ে পড়তে বলি। ও
কিছুতেই ঘুমাবে না।
অতঃপর মধ্যরাত কাছাকাছি এলে গাড়ি যাত্রাবাড়ি এসে
লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে;
ড্রাইভারের নাক-ডাকা কানে এলে আমি চৌদ্দদিনের
জঞ্জালের ভারী ব্যাগ সহ
নেমে পড়ি। আমার মেয়ের ঘুমজড়ানো গলা কানে বাজে
ওর মা ওকে ঘুমিয়ে যেতে বলে। বলে কাল সকালেই তো বাবাকে
দেখতে পাবে
ও কিছুতেই ঘুমাবে না, ‘আজ দেখলেতো বাবাকে একদিন বেশী
দেখা হবে’
ভারী ব্যাগ নিয়ে আমি যাত্রাবাড়ীর খানাখন্দ পার হতে
থাকি জোড় কদমে
জীবনভর আমার অপ্রাপ্তির হতাশাগুলো কোথায় পিছে পড়ে
থাকে!!
১২.০৯.২০১৩
No comments:
Post a Comment