Tuesday, February 25, 2014

বিশ্বাসের মড়ক

আজকাল কিছুই বিশ্বাস হতে চায় না। পত্রিকার হেডলাইন
উঁচু তাকে সাজানো বই এমনকি জ্বলজ্বলে কালো অক্ষর
বিশ্বাস হয় না নীতি প্রীতি বা একরোখা মোহে
রাজপথে উত্তোলিত হাত, লাল কাস্তে এমনকি নাগরিক দ্রোহে
বিশ্বাস হয় না তত্ত্ব কিংবা কথায়। রোজমেরী, গোলাপ
এমনকি বিছুটি পাতায়।

ইদানিং আর কিছুকেই বিশ্বাস হয় না আমার
সুশীল কুশীল অথবা প্রগতিশীল। বিশ্বাস হয় না
রাজা কিংবা তদ সংক্রান্ত নীতি,
গর্দভ বা কৃতী। 
মুদি দোকানদার অধ্যাপক কবি নিরপেক্ষ সাংবাদিক
মানব বা মহামানব, লুকানো ঘরকুনো বা ধ্বজা উড়ানো দিক বিদিক।

এখন আর কিছুকেই বিশ্বাস হয় না । পাঁচশ বা একহাজার টাকার নোট
অথবা প্রেসনোট । বিশ্বাস হয় না সং
সং সংক্রান্ত যাবতীয় বিধান অথবা প্রতিবিধান
সং সংক্রান্ত সরকারি অসরকারী বাদ অনুবাদ অথবা বাদানুবাদ
সং কে ঘিরে সভা, সদ অথবা চৌকশ সভাসদ 
সং এবং উঁচুতে দাঁড়িয়ে অশ্লীল ঢং

বিশ্বাস হয় না শ্রমে ও ঘামে, মহিমান্বিত শিল্পিত কামে
বিশ্বাস হয়না সলাজ কনে, না দেয়া পনে এমনকি ধুন্ধুমার বিজ্ঞাপনে
বিশ্বাস হয়না  উত্তাল নদী ও নারী, আটপৌরে শাড়ি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি কিংবা মিন্টু রোডের বাড়ি।
বিশ্বাস হয় না রাস্তার পাশে সারবদ্ধ দাঁড়ানো ‘মিলিটারি গাছ’ কিংবা কাশফুল
শান বাঁধানো ঘাট উদোম মাঠ নিকোনো উঠোন টলটলে জল

শোকাতুর বিশ্ব যখন মাদিবা মাদিবা বলে কাঁদে
আমি তখন বড় বেশী ব্যস্ত হয়ে থাকি সুনিলের নীরাকে নিয়ে
নীরার ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়ার জন্যে কি ব্যাকুল আকুলতা নিয়ে আড়াল খুঁজি
নীরার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে যদি সত্যি আমার ঠোঁট মিথ্যে বলতে ভুলে যেতো!!
যদিও আজকাল আর বিশ্বাস হয়না সত্য বা মিথ্যা
ন্যায় বা অন্যায়।

অবরুদ্ধ হয়ে  ঘরে বসে থেকে লা লিগা কিংবা টি-টুয়েন্টি বাদ দিয়ে
সবাই যখন দুঃসাহসী সাপ-লুডু খেলা দেখে নেতা নেত্রীর  
বড় বেশী উৎসুক হয়ে থাকে কানা কিংবা ছক্কার জন্যে, যদিও কারোরই
জানা নেই কিসে কালসাপের উদ্ধত হামুখ পেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ, সেই মুহুর্তে
পূর্নেন্দু পত্রীর নন্দিনীর জন্যে সে কি আকুলতা আমার-
নন্দিনীর নগ্নতাকে ছুঁয়ে দেয়ার জন্যে কিছুতেই পরজন্মের অপেক্ষার তর সয় না
আমি মুহুর্তে ‘দশ দিগন্তের অন্ধকার’ হয়ে বসে থাকি।
যদিও বিশ্বাস হয়না পরজন্ম কিংবা পরকালে
নগ্নতা কিংবা সভ্যতায়
আলো কিংবা অন্ধকারে।

বিশ্বাস হয়না আমি কিংবা আমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিশ্বাস
আমি কিংবা আমি সংক্রান্ত যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
বিশ্বাস হয়না হাত, হাতের পাঁচ আঙুল
বিশ্বাস হয়না চোখ, আদিগন্ত দৃষ্টি
বিশ্বাস হয়না শিশ্ন, শরীর এবং শরীর বৃত্তীয় কৃষ্টি  

বিশ্বাস হয়না তুমি কিংবা তুমি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রেম
তুমি কিংবা তুমি সংক্রান্ত যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
বিশ্বাস হয়না বিড়াল চোখ কিংবা তার মনি
বিশ্বাস হয়না স্তন এমনকি যোনি।

আমার বিশ্বাসের মড়ক আজ খেয়ে গেছে সমস্ত কিছু
সৃষ্টি কর্তা থেকে শুরু করে দৃশ্যমান সমস্ত সৃষ্টি
ছেলেবেলার না-ভোলা হলুদ জ্যোৎস্না, অলীক প্রজাপতি
এমনকি কাকভোরে ঘোরলাগা অবিশ্রান্ত বৃষ্টি।

২৫.০২.২০১৪


No comments:

Post a Comment