Sunday, July 27, 2014

দুঃখ কেবল সেই মায়ের জন্য

স্নানঘরে কাঁচের দরজায় উপচে পড়ে জল
কোথায় বৃষ্টি এপারে না ওপারে

তেল আবিবে সাইরেণ বাজে আর তুমি আরবি খেজুর নিয়ে
প্রস্তুত হতে থাকো রোজা খুলবে বলে
তুমি নিশ্চয় জানো না সাইরেন হল সতর্ক সংকেত
প্রতিবার সংকেতে কাউন্টার মিসাইল গুলো প্রতিহত করে দেয়
ফিলিস্তিনি রকেট, আর বৃষ্টির মত বোমা পড়তে থাকে গাজায়।

ও মানুষ, দেখো মৃত্যর আগে তোমার যেন বেশী রক্ত না ঝরে
বিধাতা সাওম পালনে তোমার আনুগত্যের নিশ্চয়ই প্রতিদান দেবেন
ও মানুষ, তুমি পালাচ্ছ না কেন
তিন’শ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য কি এতটাই কম যে তোমার
ঘর বাড়ী অক্ষত থেকে যাবে? পালাও মানুষ
বিধাতার এ ভূখন্ডে ভয় কি তোমার

মূহুর্তেই ইউক্রেনে লাশ হয়ে যায় তিন’শ মানুষ, লাশ বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনে
লাশ বাড়তে থাকে পাকিস্তানে লাশ বাড়তে থাকে ইরাকে
মানবিক লোভে এক যুদ্ধ সমান মানুষ চাপা পড়ে যায় রানা প্লাজায়
ও ইশ্বরের বরপুত্র মানুষ দুহাতে কংক্রিটের স্লাব ঠেলে ধরেও ঠিকঠাক
জপ করো ইশ্বরের নাম।

আমাদের মতই মহান নেতারা  আরো ভাল জানেন যে
মানুষ উৎপাদন যতটা সহজ রাজনীতি প্রভাব প্রতিপত্তি এবং ভূখন্ড রক্ষা ততটাই কঠিন
যদিও মানবিকতার হেন দুর্দশায় দুঃস্বপ্নের রাত্রিগুলোতে
স্ত্রী সঙ্গমেও আজকাল শরীর ততটা এগোয় না।

বিধাতার মত এতটা কঠিন পরীক্ষা অবশ্য নিতে পারেন না বিশ্ব নেতারা
মানবিকতার স্ল্যাশ ট্যাগ গুলো তাদেরও আর্দ্র করে।
যদিও আমরা বুঝি মানবিকতারও ধর্ম থাকে, থাকে ভূখন্ড এবং রাজনীতি
দিনের বেলা সামরিক সাহায্যের ফাইলে সই করলেও রাত্রিতে
ঘুমের ঘোরে  নিজের অজান্তেই আঁকড়ে ধরেন তার কিশোরী সন্তানকে।
ঘন ঘন বৈঠক হয়, বৈঠক দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
লাশ বাড়তে থাকে মানুষের

এবং যথারীতি তেল আবিবের বিমান বন্দরে রকেট পড়ে
বোমা বৃষ্টির সাথে সাথে কামান গর্জে উঠে গাজায়। ঘরবাড়ী
ধুলোয় মিশে গেলেও নারী পুরুষ আর শিশুর লাশের
প্রতিদিনের শুমারিতে কোনো সমস্যাই হয় না।

বিধাতা নিরবই থাকেন। দুঃখ কেবল সেই মায়ের জন্য
যার আর্তনাদের হাহাকারে বিধাতার সাম্রাজ্যের খুটিগুলো
প্রায়শই নড়েচড়ে উঠে। 

২৭.০৭.২০১৪

Saturday, July 26, 2014

গড়ানো বল উঠাতে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

আজকে আমি ঘুমাব, আজকে আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে
জন ডেনভার আপনি থাকুন আমার পাশে
কে তুমি পর্দা উঁচিয়ে উঁকি দিচ্ছ, কে তোমরা ফেসবুকে আমার
কবিতা নিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতো, কে বলে আমি কবিতা লিখি
এ আমার জীবন যাপনের লিরিক, এ আমার ক্রন্দন
কান্না নিয়ে এমন উচ্ছ্বাসে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

পিং পং বল গুলো আজকাল এত গড়ায় কেনো মাটিতে
গড়ানো বল উঠাতে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

২৫.০৭.২০১৪

Wednesday, July 23, 2014

ভালবাসা তোমার জন্য

ভালবাসা তোমার জন্যে কতবার ছুঁয়েছি ভোর, সোনালী শিশির
ভালবাসা তোমার জন্যে ছুটে বেড়িয়েছি খোলা বারান্দা, হামুখ দুপুর
ছুঁয়েছি ঝলমলে রোদ কিশোরী নুপুর।  

ভালবাসা তোমার জন্যে বিকেলগুলো থেমে গিয়েছে, গড়ায়নি সন্ধ্যায়
অথৈ বেদনায় ডুবেছে কিশোর, শিশিরে ভিজেছে ঘাসফুল
                                                       মানবিক মন্দায়

ভালবাসা তোমার জন্যে কত কি না করতে চেয়েছি গোপনে
মোল্লাবাড়ীর ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেছি শীতের দুপুরে

ভালবাসা তোমার জন্যে পেরিয়েছি হাতল বিহীন বাঁশের পুল
তোমার জন্যে অপার্থিব লকারে জমিয়েছি শুকনো বকুল

ভালবাসা তোমার জন্যে করতলে অক্ষমতা মুঠো করে দেই ছুট
ভালবাসা না পেলে পারাপার নিঃসাড় সকলি ঝুট।

২৩.০৭.২০১৪

Monday, July 21, 2014

অত ভাবনার কিছু নাই

দেখো এইসব নিয়ে অত ভাবাভাবির দরকার নাই
ব্যাপারটা মূলত ভালবাসাবাসি সংক্রান্ত
আর ভালবাসাবাসি মানেই তো প্রেম
প্রেম যে আদতে যৌনতা থেকেই উদ্ভূত সেটা কে না জানে
এবং ঠিকঠাক যৌনতা থেকেই মানুষের উত্তরণ, কিংবা মেধার।

সুতরাং এইসব নিয়ে অত ভাবাভাবির দরকার নাই
বরং চলো আমরা ঢেউয়ে দুলতে থাকা নৌকোয় দাঁড়কাকের বসে থাকা দেখি।
কিংবা ওই দূরে স্নানরতা নারীর সৌন্দর্য

২১.০৭.২০১৪

Friday, July 4, 2014

চাই

আমি রোদ চাই, চাই বৃষ্টি। জমি চাই চাই ঘর
ঘর চাই সাথে আলোকিত নর
নর চাই সাথে নারী। নারী চাই সাথে কর্ষিত সুখ
কর্ষিত সুখ চাই সাথে অকর্ষিত পুলক

আমি পুলক চাই সাথে মায়াবী পালক

আমি ঝুম চাই সাথে নিঝুম
আমি আলো চাই সাথে ছায়া
আমি শরীর চাই সাথে কায়া।

আমার জন্যে কিছুই পর্যাপ্ত নয় এই পৃথিবীতে

আমি জীবন চাই সাথে মৃত্যুর  ভীতি
আমি মৃত্যু চাই সাথে জীবনভর প্রীতি

আমি প্রেম চাই সাথে অপ্রেমের যন্ত্রনা
আমি প্রেমহীন স্বস্তি চাই সাথে প্রেমের মন্ত্রনা

আমি নীতি চাই সাথে রাজনীতি
আমি কৃতি চাই সাথে অনাবিল প্রীতি

আমি জ্ঞান ছাই সাথে মূর্খতার সারল্য
আমি কঠোরতা চাই সাথে তারল্য

আমি মুক্তি চাই সাথে পরাধীনতার বন্ধন
আমি বন্ধন চাই সাথে মুক্তিহীনতার ক্রন্দন

আমি সুখ চাই সাথে দুঃখ বিলাশ
আমি দুঃখ চাই সাথে অনন্ত সুখ তালাশ  

আমার চাওয়ার সাথে পাওয়াগুলো যখন গোলটেবিল বৈঠকে বসে
মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আকাশ ও ভূমন্ডলে
ইশ্বরের পাগলা ঘন্টি বেজে উঠলে দায়িত্বে নিয়োজিত দেবতা
স্বপ্নবান ছুড়তে থাকে তালবেতাল। আমি আষাঢ়ে গল্পের মত
আষাঢ়ের বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষা করতে থাকি
জীবন ভেজাবো বলে।


০৪.০৭.২০১৪

Thursday, July 3, 2014

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
ঠিকঠাক ঘুমুতে যাওয়া ঠিকঠাক ঘুম থেকে উঠা
ঠিকঠাক নাওয়া ঠিকঠাক খাওয়া
প্রতিদিন কভারসিল-৪মিঃগ্রাঃ নিশ্চিতভাবেই খেয়ে দিন শুরু করার কথা
অথচ মাথার পেছনে ঘাড়ের ব্যথা অসহ্য না হওয়া পর্যন্ত
সেকথা বেমালুম ভুলেই থাকি।

কিছুই ঠিকঠাক করা হল না এক জীবনে
রবিবারের বাজারে দুঃসম্পর্কের এক আত্বীয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পেয়ে যাওয়া
আট টাকা সেকি তুমুল খুশির আলোড়ন তুলেছিল বুকে
আহা সেই টাকাও যে কি বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলি!!
কত কিছুই যে হারিয়ে ফেলেছি যা আগলে রেখেছিলাম নির্জনে
ব্যাডমিন্টনের কাঠের ব্যাট, বাজিমাত করে দেয়া দাবার ঘুটি, ৩নম্বর ফুটবল
তর্ক ও বিতর্কের রাত, ভেজা জ্যোছনায় খোলা মাঠে শুয়ে থাকা বন্ধু
আমি আর তুই  
ভারী বৃষ্টিতে কাঁদা মাখামাখি খেলে জিতে পাওয়া আয়না ও কাফুই

কিছুই নেই ঠিকঠাক আগে ছিল ঠিক যেমন
না ছোঁয়া ভালবাসা, আদর্শ লিপিতে শেখা সত্যাসত্য, বোধ এবং মূল্যবোধ
বদলে গেছে বিশ্বাস ফাগুন মাস এমনকি বিশ্বস্ত ক্রোধ।
বদলে গেছে প্রিয় বই, ছুঁতে চাওয়া প্রিয় নারী
বদলে গেছে প্রিয় শিক্ষক স্বপ্নে বানানো হিজলতলায় বাড়ি

কিছুই ঠিকঠাক হয় না আমাকে দিয়ে
মানুষের ভিড়ে কিছুতেই যোগ্য করে তুলতে পারিনা নিজেকে
বন্ধুরা সজ্ঞানে এড়িয়ে চলে যেনো আনমনা মেঘ   
নারীর সামনে এখনও আমি কৈশোরের সেই বুক ধরফর একপেশে প্রেমিক

কিছুই ঠিকঠাক করা হলনা একজীবনে
যে সময়ে তোমার ঠোট ছুঁয়ে দেয়ার কথা ছিল আমার ঠোটে
সেই সময়ে আমি তোমার হাত ধরেই আপ্লুত ছিলাম
                                হাঁদারাম এর মত
তোমাকে আদর করতে গিয়ে
কীসব ছাইপাশ বলতে বলতে আর করতে করতে
রাত পার করে দেই, তোমাকে
ঠিকঠাক আদর ও করা হলো না এক জীবনে।

কবিতা লিখব বলে
কিছুই করা হলো না নিজের মত করে
ঠিকঠাক করা হলো না চাকরি
ঠিকঠাক করা হলো না প্রেম
ঠিকঠাক করা হলো না ঘর
ঠিকঠাক হওয়া হলো না বর।
কবিতা লিখব বলে ইঁদুর দৌড়ে আমি বসে থেকেছি হুলো বিড়াল
পৈতা পড়া বামুনের পাশে নগ্ন চাঁড়াল

তবু কবিতাও লেখা হল না ঠিকঠাক
কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
০৩.০৭.২০১৪