স্নানঘরে কাঁচের দরজায়
উপচে পড়ে জল
কোথায় বৃষ্টি এপারে না
ওপারে
তেল আবিবে সাইরেণ বাজে আর
তুমি আরবি খেজুর নিয়ে
প্রস্তুত হতে থাকো রোজা
খুলবে বলে
তুমি নিশ্চয় জানো না সাইরেন হল সতর্ক সংকেত
প্রতিবার সংকেতে কাউন্টার মিসাইল গুলো প্রতিহত করে
দেয়
ফিলিস্তিনি রকেট, আর বৃষ্টির মত বোমা পড়তে থাকে
গাজায়।
ও মানুষ, দেখো মৃত্যর আগে তোমার যেন বেশী রক্ত না
ঝরে
বিধাতা সাওম পালনে তোমার আনুগত্যের নিশ্চয়ই
প্রতিদান দেবেন
ও মানুষ, তুমি পালাচ্ছ না কেন
তিন’শ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য কি এতটাই কম যে
তোমার
ঘর বাড়ী অক্ষত থেকে যাবে? পালাও মানুষ
বিধাতার এ ভূখন্ডে ভয় কি তোমার
মূহুর্তেই ইউক্রেনে লাশ হয়ে যায় তিন’শ মানুষ, লাশ
বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনে
লাশ বাড়তে থাকে পাকিস্তানে লাশ বাড়তে থাকে ইরাকে
মানবিক লোভে এক যুদ্ধ সমান মানুষ চাপা পড়ে যায় রানা
প্লাজায়
ও ইশ্বরের বরপুত্র মানুষ দুহাতে কংক্রিটের স্লাব
ঠেলে ধরেও ঠিকঠাক
জপ করো ইশ্বরের নাম।
আমাদের মতই মহান নেতারা আরো ভাল জানেন যে
মানুষ উৎপাদন যতটা সহজ রাজনীতি প্রভাব প্রতিপত্তি
এবং ভূখন্ড রক্ষা ততটাই কঠিন
যদিও মানবিকতার হেন দুর্দশায় দুঃস্বপ্নের
রাত্রিগুলোতে
স্ত্রী সঙ্গমেও আজকাল শরীর ততটা এগোয় না।
বিধাতার মত এতটা কঠিন পরীক্ষা অবশ্য নিতে পারেন না বিশ্ব নেতারা
মানবিকতার স্ল্যাশ ট্যাগ গুলো তাদেরও আর্দ্র করে।
যদিও আমরা বুঝি মানবিকতারও ধর্ম থাকে, থাকে ভূখন্ড
এবং রাজনীতি
দিনের বেলা সামরিক সাহায্যের ফাইলে সই করলেও
রাত্রিতে
ঘুমের ঘোরে
নিজের অজান্তেই আঁকড়ে ধরেন তার কিশোরী সন্তানকে।
ঘন ঘন বৈঠক হয়, বৈঠক দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
লাশ বাড়তে থাকে মানুষের
এবং যথারীতি তেল আবিবের বিমান বন্দরে রকেট পড়ে
বোমা বৃষ্টির সাথে সাথে কামান গর্জে উঠে গাজায়।
ঘরবাড়ী
ধুলোয় মিশে গেলেও নারী পুরুষ আর শিশুর লাশের
প্রতিদিনের শুমারিতে কোনো সমস্যাই হয় না।
বিধাতা নিরবই থাকেন। দুঃখ কেবল সেই মায়ের জন্য
যার আর্তনাদের হাহাকারে বিধাতার সাম্রাজ্যের
খুটিগুলো
প্রায়শই নড়েচড়ে উঠে।
২৭.০৭.২০১৪
No comments:
Post a Comment