সম্ভাবনার দ্বার যখন খুলে যাচ্ছিল ঢাকার আমি আটকা
পরেছিলাম বাস এর মধ্যে
এ জট কেবল যানের নয়, যান ও দেবদূতের। এ জট আশু
উন্নয়নের এ জট পানির
ন্যায্য হিস্যার। সুতরাং আমরা গন্তব্য ভুলে গিয়ে
স্বপ্নতাড়িত হয়ে পড়ছিলাম আশু
উন্নয়ন সম্ভাবনায়, তিস্তায় টলমলে পানির স্বপ্নে যখন
বিভোর ছিলাম দেখি, নিজের
অজান্তেই পানির চাপ বাড়তে থাকে আমার তলপেটে
এবং বাড়তেই থাকে
আমি অন্যমনস্কতার ভান করি। মনযোগ দিয়ে পড়তে থাকি
চুক্তি, প্রটোকল, আশ্বাস,
পত্রিকার পাতা উপচে পড়া প্রশংসা। আমার চাপ অসহ্য
ঠেকে। সফেদ শ্মশ্রুমণ্ডিত দেবদূতের
ছবিতে চাপ ভুলে থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার চোখে
ভেসে উঠে ২০০২ সাল, গুজরাট
ট্রেনে আগুন দিয়ে ৫৮ জনকে হত্যা। প্রতিক্রিয়ার
সরকারি মদদে হত্যা প্রায় দুইহাজার।
সন্তানের সামনে বাবা-মাকে হত্যা, মেয়েদের অপহরণ,
গনধর্ষণ। সাইদা’র গর্ভস্থ সন্তানকে
বের করে সেখানে জ্বলন্ত কাপড়ের টুকরা ভরে দেয়া,
মুসলমানেরা নাকি পুড়তে ভয় পায়! পুলিশের সামনে এহসান জাফরি খন্ডিত বিখন্ডিত,
সমালোচনার ফল দেখো প্রাক্তন সাংসদ!!
আমার চাপ বাড়তেই থাকে। মনে হয় এক্ষুনি ভিজিয়ে দেই নিজেকে
লুকিয়ে রাখা আমার
পরিধেয় কাপড় সহ গাড়ির পাটাতন, আশু উন্নতি ও উন্নয়ন
সম্ভাবনা সংক্রান্ত সমুদয় দলিল
ও খবরের কাগজ। তলপেটে অসহ্য চাপ নিয়ে
কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি চোখ বুজে বলতে থাকি
‘মানুষ বিনাশের এই প্রলয় নাচনে গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী
হউক’।
১০.০৬.২০১৫
No comments:
Post a Comment