Saturday, September 19, 2015

সুন্দর

তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই দেখিনা
না ভারী চশমায় চোখ, না অপার্থিব মুখ
অবাধ্য চুল তবু ছুঁতে চায় বুকের কারুকাজ
দন্ডিত আমি হৃদয়ের জমিনে দেখি সীমানার সাজ
এ সুন্দর ভীষণ আপন
এ সুন্দর গভীর গোপন

১৭.০৯.২০১৫


Monday, September 14, 2015

বিলাপ

যদি কোনোদিন হন্তারক হই নিজেই নিজের
ভেবো না এ কেবল আমারই অক্ষমতা

আর যদি নিতে না পারি এই দ্বি-ভাব
গোলাপের গন্ধ নিতে নিতে টিংটিঙে রজনীগন্ধার
কথা মনে করে আমি যদি সম্ভোগেই মত্ত থাকি
তবে জেনো, আত্বদহনের কালে
নিজের কব্জিতে ব্লেড চালানোর নাম করে আমি
রক্তাক্ত করি মানব ও মানবতা সংক্রান্ত সমুদয় ভন্ডামি।

আত্বগ্লানির অনিবার্য পীড়নে পুড়তে পুড়তে
নিজের অজান্তেই যদি তোমার নিটোল ঠোঁটে
গেঁথে দেই কামার্ত দাঁত, তবে জেনো
পুরুষ জন্মের পাশাপাশি আমি লালন করি
জন্মজন্মান্তরের পৈশাচিকতা

যদি কোনোদিন তোমাকে অবজ্ঞা করে বসি
যদি বিস্মৃত হয়ে যাই লাউডগা, ছেলেবেলার তুলতুলে পাখি
যদি বিকারগ্রস্ত আমি ইশ্বরের শিরস্ত্রাণ চুরি করে
পরিয়ে দেই তোমার মাথায়, যদি
অমানবিক এই পৃথিবীতে আমি হারিয়ে যাই অকস্মাৎ
তবে ভোরের ঝিরঝিরে  বাতাসে শরীর ডুবিয়ে ভেবো
‘আমাকে জড়িয়ে না থাকলে তোমার জীবন কী ভীষণ দুর্বিসহ!!’

১৫.০৯.২০১৫

Tuesday, September 8, 2015

সাহস

আমি যে কত অক্ষম
কত কিছু জানি না, কত কিছুই বুঝি না
তবু তুমি সাহস করে কিছুই বল না
তোমার সাহসের আশায় হৃদয় পেতে বসে থাকি



গন্ধ

আজকাল সামাজিক গন্ধরা আমাকে জ্বালিয়ে মারছে
চোখ কান ও নাক সমেত আমার সমস্ত মুখমন্ডল
আঙ্গুল কব্জি ও হাত সমেত আমার সম্পূর্ণ বাহু
বুক পেট ও নিন্মাঙ্গ সমেত
আমার সমস্ত দেহ এখন ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠেছে

যতই নির্বিকার ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াই
অনাচার থেকে পাশ ফিরে হাই তোলা হামুখে
যতই দুই আঙ্গুলে তুড়ি বাজাই
আমার ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠা শরীর হরহামেশাই কুঁচকে যায়
ভোজসভায় নাচসভায় এমনকি রাজসভায়

চুনকাম করা নারী আলিশান বাড়ি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি
সরকারি আমলা গো পানীয় ভর্তি গামলা কিংবা পৌরসভার
কামলা, রাজনীতিবিদ বিশ্বখ্যাতিবিদ টকশোবিদ বা পণ্ডিত
একটা আঁশটে গন্ধ আমাকে আটকে রাখে ঘরে
যদিও গতানুগতিক চর্ম হাড় ও রক্ত মাংসের এ দেহের
অকৃত্রিম আবাস আসলে নিজেরই খোঁড়া আস্তাকুড়ে

নর্দমা আবর্জনার স্তূপ আর ভাগাড়ের গন্ধই কেবল মৌলিক ও শ্লীল
উন্নয়নের উল্লম্ফনে সাংবিধানিক সকল কিছুই অশালীন ও অশ্লীল


Saturday, September 5, 2015

দুঃখের ফেরিওয়ালা

কখনো কখনো কবিতাও বিরক্ত লাগে
মনে হয় আমি অর্থহীন অক্ষমতা বপন করি কবিতায়
বিষন্ন শব্দেরা হাশপাশ করে, হুতোম প্যাঁচার মত বেজার মুখে
ঢং বদলে আমি মূলত ফেরি করি দুঃখের

ইদানিং দুঃখ বিলাসি বলে আমার দুর্নাম আরো বাড়ছে
এই তুমি সেই তুমি এই পাওয়া সেই পাওয়া
এই প্রেম সেই প্রেম এই দ্রোহ সেই দ্রোহ
হিসেবের খাতা কেবল উড়ছে।

একসময় এক নারী কিছুই না বলে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশে বসে থাকতো
একবার এক নারী হাতে হাত রেখে
চোখের জল ফেলেছিল। আরো একবার একজন
অস্পষ্ট সন্ধ্যায় বকুল গাছের নীচে ছড়ানো বকুল দেখে
ভোরের সতেজ বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে দেয়ার কথা
বলেছিল।  আহা বকুল
শেষমেশ শুকিয়ে যাওয়াই যার নিয়তি
মূলতঃ প্রাকৃতিক বলেই এ নিয়ে আর তর্ক চলে না

এমন নয় যে এখনি জীবন যুদ্ধে ইস্তফা দিয়ে লিখছি কবিতা
তবু আমার দীর্ঘশ্বাসের নাম কবিতা, অক্ষমতার নাম কবিতা

এই জীবন বদলে যদি অন্য জীবন চাই
তবে আমি একটি কবিতাহীন জীবন চাইব
চাইব পেশীবহুল কৃষকের জীবন
চাইব একরোখা প্রেমিকের জীবন
কিংবা তুলতুলে রঙিন প্রজাপতির জীবন
না চাইলেও যেন ছুঁয়ে দিতে পারি তোমার
উদোম পিঠ