Sunday, November 12, 2017

কোথায় কীর্তিনাশা

সন্ধ্যা হলেই সবদিন চাঁদ উঠে না
তার নিয়মেই রাত করে উঠে মাঝে মাঝে
হিসেব না রাখা চন্দ্রভূক মানুষেরা অস্থির হয়
পায়চারি করে উদোম মাঠে, বে-দম হাটে

এইসব অগোছালো অন্ধকার, হাস্নাহেনার গন্ধ
সাপের হিশহিশ, তুমি ভয় পেয়ো না
এই অ্যাম্ফিথিয়েটারে তুমিই নও একমাত্র দর্শক
নও একমাত্র অভিনেতাও। মানুষের স্বস্তির গল্প
আসলে মানুষের দীর্ঘতর আপসেরই ইতিহাস

আমি অপেক্ষায় আছি। কোথায় কীর্তিনাশা

১১.১১.১৭

Thursday, November 2, 2017

দুঃস্বপ্ন

ভাত খেতে খেতে এমন ঘুম পাচ্ছিল
আমি ভাতের থালার উপর ঘুমিয়ে পড়ি
কাল সারারাত আমি তোমার হাত ধরে দৌড়াচ্ছিলাম
একদল জলপাই রঙের দেবদূত আমাদের ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে,
বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে, একমুঠো পোড়ামাটি রুমালে পেঁচিয়ে
সদর রাস্তা এড়িয়ে, জঙ্গলে বনে-বাদারে
আমরা দিশাহীন দৌড়াচ্ছিলাম
বার বার হোঁচট খাচ্ছিলাম, হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলাম
তোমার পা বেয়ে রক্ত ঝরছিল, ঘাড়ের ওপর জামা ছিঁড়ে গেছিল
আমরা দৌড়াচ্ছিলাম, চারদিকে গুলির শব্দ, চিৎকার
আমরা দৌড়াচ্ছিলাম, দৌড়াতে দৌড়াতে
দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে দৌড়াতে
আমরা আমাদের চেনা পৃথিবী থেকে ছিটকে পড়েছিলাম

একটা নদীর পারে

নদী অপেক্ষা করে ছিল আমাদের পৃথিবী পার করে দেবে বলে

০১.১১.২০১৭

প্ল্যাটুনিক

তোমার নাভি ছিল না, স্তনও না
তোমার যে যোনি থাকা সম্ভব সেটা কল্পনাও অশ্লীল ছিল
তোমার কেবল একটা মায়াবী অবয়ব ছিল, অবাক ব্যাপার হচ্ছে সেখানে
ঠোঁট ও ছিল না, তবে মাথায় বিবিধ স্টাইলের চুল ছিল
সেই চুল ববকাট নাকি লম্বা তাও জানা ছিল না। একদিন
হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ প্রায় নিতম্ব ছোঁয়া চুলের অস্তিত্ব পাওয়া গেল
একদিন রিক্সা থেকে নামার সময় উরুতে ভর দেয়ার কারণে
জানা গেল, তোমার হাত ও ছিল, ছিল খামচে দেয়ার মত কতিপয়
অবিশ্বাসী আঙুল।

তারপর ধীরে ধীরে একটা আস্ত শরীর নিয়ে তুমি দাঁড়িয়ে
গেলে পৃথিবীর কেন্দ্রে
ওজন কম হওয়ার কারণে আমার সেখানে পৌঁছতে দেরি হয়ে যায়
আমি তখন নিক্তিতে মন মাপামাপি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।

১২.১০.২০১৭