Monday, May 20, 2019

পরমানুশোচনাঃ জন্মদিনের কবিতা


ধর, সময় তোমাকে পিছে টানছে
তুমি একটা পেয়ারা গাছ বেয়ে
উঠে গেলে একতলার ছাদে
নিচে এক দঙ্গল মানবশিশু, যাথারীতি
অবিকল খেলতে খেলতে আর বিকল হাসতে হাসতে
কেটে ফেললো শিশু পেয়ারা বৃক্ষ
ফলত, আকাশের দিকে তাকানো ছাড়া
তোমার আর কোনো খেলা অবশিষ্ট রইল না

আরো যদি পিছিয়ে যাও সময়,
খোলা দরজার দুই পাল্লায়
দুইটা নাম
সাদা চকে, মোটা মোটা অক্ষরে নামের বিভ্রম
রাত্তিরে উপগত হয়, দিনে নিরাশ্রয়

আরো পিছিয়ে গেলে,
একটা ওম পাখি, দুই হাতের তালুতে
আরো পিছিয়ে গেলে
একটা লাশ, সাদা কাপড়ে মোড়ানো

তারপর বোধের জন্মদিনে
কবরের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসে
একটা ছায়া তোমার পাশে দাঁড়ায় অনুশোচনাহীন

তুমি পরমানুশোচনা নিয়ে হাঁট, অন্ধকারে

২০.০৫.২০১৯ 


প্রেম


তুই যে কী ভিন্ন, কী ভিন্ন!! যদি জানতি...
সব কিছু অস্বীকার করা আমি
তোর কাছে এলেই বিশ্বাসী বালক, সেটা মানতি

১৪.০৫.২০১৯

মন খারাপের দিনে উড়ে বেইলি রোডে দোপাট্টা


সঙ্গত কারণেই আপনার দ্বিমত করার সুযোগ থাকলেও, আসুন এইসব আমরা এড়িয়ে যাই। মূলবাদীদের উস্কে না দিয়ে বরং আমরা সমূল এড়িয়ে যাই বাস্তব। মন খারাপের দিনে পরাবাস্তবেই হাতড়াই রসদ। রসদ মানে রস আর দ। হাঁটু ভাঙা দ। ছোটবেলায় হাঁটুভাঙ্গাও ঝালাই হয়েছে দ লিখতে গিয়েই। আর মনে পড়ে ইদ্রিসের দ। ইদ্রিসের কথা মনে পড়ে গেল! ইশ হাঁটু টাটু ছিলে টিলে কী যে অবস্থা। কিয়েক্টাবস্থা!! তবু কিচ্ছু টের পেল না হোস্টেল সুপার এর ভয়ে খাটের নীচে ‘উপুড় দ’ হয়ে লুকিয়ে থাকার আগ পর্যন্ত। আর ওই ভাড়াটে মেয়েটা? পয়সা কী পেয়েছিল?

বলছিলাম মন খারাপের দিনে রসদ। বেইলি রোডে উড়ে দোপাট্টা। পুরোটা বাস্তব নয়, বাস্তবে কিছুটা পরা ও মিশেল দিতে হয়। তবেই না রস। আর দ। বললেই কেমন রস ঝরে, আদিম। জনৈক হুজুর, জনৈক বাস চালক ও হেল্পার, জনৈক বৃদ্ধ, জনৈক মাঝবয়েসী শিক্ষক, জনৈক কচি রাজনীতিক। সকলের রস চাই, তার উপরে দ। একটা হুলুস্থুল কাণ্ড এই পৃথিবীতে। পুরুষরাই একমাত্র খাদক। মানবিক, রাজনৈতিক আর প্রাকৃতিক সব শক্তিমত্তাই পুরুষের দখলে, সুতরাং ভক্ষণ স্বেচ্ছায় না হলেই কী? আইন?? সেতো নস্যি...

এইসবে মনখারাপ হলে বেইলি রোডে যাই। হাঁটি। বেইলি রোডের তবু মনখারাপ হয় না। তার তবু উড়ে দোপাট্টা, আসলে দোপাট্টাও নাই। বাস্তবে পারাবাস্তবে পুরুষের কেবল রসদই চাই...

১৩.০৫.২০১৯