Thursday, February 6, 2020

শব্দ খুব প্রয়োজনীয় নয় আজ


অনেক প্রশ্নের উত্তর লাগে না আর আজ
তুমি উত্তর দিলে বুঝি, এডিয়ে গেলেও বুঝি
তুমি তাকালেই বুঝে যাই, না তাকালেও বুঝি

অনেক কিছু বলতে হয় না আর আজ, কাল
পরশু বা তারও আগে তোমার শরীরের ভাঁজ থেকে
সেই ইঙ্গিত আমি খেয়ে নিয়েছিলাম গোপনে

শব্দ খুব প্রয়োজনীয় নয় আজ, নৈঃশব্দেও বাজে তোমার নিনাদ

০৬.০২.২০২০

ব্র্যাকেট বন্দি


তুমি বলে প্রধানত তোমাকেই ডাকি
ঈশ্বরের নীল খামে পাঠানো যে যন্ত্রণা, তার উত্তরে
তুমি লিখেছিলে-‘প্রিয়তম’। আমি সাদা মেঘ হয়ে
উড়ে গিয়েছিলাম। বৃষ্টিসম্ভাবনার কথা আমার
তখনো মনে হয়নি

তুমি বলে আমি যে কাঁঠালচাঁপায় নাক ডুবাই
তার নিরব প্রয়ানেও তুমি। তোমার খোলা চুলে
হাঁটে অব্যাখ্যাত সন্ধ্যা, রঙহীন কবিজন্ম

তোমার নামে আমি রাষ্ট্রেরও হাড়গোড় দেখি
আর খুঁজি ঈশ্বরের পোর্টফোলিও; আমাদের
বারান্দাহীন ঘরের উঠানে দাঁড়িয়ে দেখি
অবসন্ন চাঁদ

কবিতার স্তবকে যে শূন্যতা, সেখানেও তুমি
অপূর্ণতা ঢাকতে গোঁজামিল হিসেবে
কবিতার খানিক দূরে শেষ ব্রাকেটের মত
দাঁড় করিয়ে রাখি একটা নিঃসঙ্গ আর্ত লাইন

৩১.০১.২০২০

সাধ


কোথাও যাওয়ার সাধ ছিল না, এই পথে
বেঁকে যাওয়া কোণে পিছন ফিরে তাকাই
এই পথেই দাঁড়িয়ে ছিলে, কোথায় তুমি?

নিখিল, এই ভরদুপুরে কই তুই
আমাদের কাল রাতের জ্যোৎস্না মরা ডাল হয়ে
ঝুলে আছে গাছে
রোদে আমাদের শরীর পুড়ে যাচ্ছে। চল্ মরা ডালগুলি
তোর মনোহারী দোকানে সাজিয়ে রাখি

বয়স হতে হতে বয়সেরও কিনারায় পৌঁছে যাচ্ছি
তোর মনোহারী দোকান হল, আমারও হল অনেক
তবু আমাদের স্বপ্নের কোনো কিনারা হল না, নিখিল

কোথাও যাওয়ার সাধ ছিলনা। সাধ্যও হল না
এখানেই থাকি, এই পথেই হাঁটি
তুমি নাই। তবু তোমার কাছেই যাই, প্রতিদিন

১২.০১.২০২০