Thursday, April 14, 2011

নারীর কান্না

চারিদিকে মিইয়ে আসা দিন। অথবা
আরেকটা রাত্রির শুরু। আবছা
সংসদ ভবনের চাতালে বসে আছি।তুমি আমি
আমরা এক সাথে কাজ করি, সহকর্মী
কিছুএকটা গড়ার চেষ্টা করছি, ইতিমধ্যে
ছোটখাটো একটা বোঝাপড়া হয়েই গেছে নিজেদের গড়ার।
আমরা বসে আছি পাশাপাশি
দিনরাত্রির সঙ্গমের উষ্ণতা চারপাশ ঘিরে
তুমি তোমার হাতটি আলতো তুলে ধরলে আমার সামনে
চোখে তোমার ঘোরলাগা সন্ধ্যা।

ঘোরের মধ্যে তোমার হাতটি চলে এলো আমার হাতে
পাজর ছিঁড়ে ঢুকে গেলো হৃদপিন্ডে। এই ভর সন্ধ্যে বেলায়
ভোরের কুয়াশা ঢুকে যেতে লাগলো আমার চোখে, বুকে
আমি সহস্র বছর ধরে দুহাতের তালুতে একটা হাত ধরে বসে রইলাম।

সহস্র বছর পর আমার যখন তোমার দিকে তাকানোর সুযোগ হল, দেখি
তোমার চোখে জল। গাল বেয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তোমার চিবুক
আমি তোমার হাত ওষ্ঠে ছুঁয়ে অনন্ত কাল ধরে তোমার চোখের জল দেখতে থাকলাম

০ ০ ০ ০ ০


এরপর আমাদের প্রেমের অনেক ডালপালা গজিয়েছে
আমরা যখন একটা পরিণতির দিকে যেতে চাইলাম
তুমি তোমার পুরোনো প্রেমিকের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে।
অনেক নির্ঘুম রাত, বিশ্বাস অবিশ্বাস সততা অসততার যুক্তিতর্ক শেষে
তুমি যখন আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে, আমি তোমাকে সেই সন্ধ্যের কথা
স্মরণ করিয়ে দিলাম।
তুমি কিছুটা সময় নিয়ে আনমনে বললে
‘এমন চোখের জল আমি অনেকের জন্যে ফেলেছি’
এবারও ভোরের কুয়াশার মতো করে
এন্টার্টিকা মহাদেশের সমস্ত তুষার ঢুকে যেতে লাগলো আমার বুকে-
আমি স্থির বসে আছি, স্থানু।

No comments:

Post a Comment