Friday, November 22, 2013

সুখ

কবে তুমি সুখি ছিলে সবচেয়ে বেশী
আমি বলি আজ
আজ তোমার পাঠানো বাতাসেরা ঘিরে ছিলো আমাকে
তোমার পাঠানো সুখগুলো আজ স্পর্শ করে ছিল 
আমাকে সারাক্ষণ
আমার কবিতাগুলো আজ ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তোমার দিকে
আমাদের গানগুলো আজ ভাসছিল
আমার কানে          তোমার কানে


কবে তুমি দুখি ছিলে সবচেয়ে বেশী
আমি বলি আজ

কাল তুমি চলে যাবে আমাকে ছেড়ে

২২.১০.২০১৩

এইভাবে বাঁচা

এইভাবে যে বাঁচে তারও বাঁচার অধিকার থাকে
বেঁচে থাকা যে সব সময় বেঁচে থাকার মতই হবে
তারও মানে নেই কোনো।
বেঁচে থাকা মানে যেমন তেমন-
চলন্ত বাসের হাতল ধরে ঝুলে থাকাও হতে পারে
হতে পারে মার্সিডিস বেঞ্জ এ চড়ে লং ড্রাইভ
হতে পারে ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’ জাতীয় এলাকা
নাক চেপে পাড় হওয়া।

তবু বাঁচে, যে যার মত বাঁচে
বেঁচে থাকাটাই সার
বেঁচে থাকার জন্যে তোলপাড়

বার বছর বয়সে ট্যাকপাড়া থেকে র‍্যাশনের চাল আনতে গিয়ে
আধা মনের যে মুট তুলে নিতে হয়েছিল মাথায়
হউক সে কুলি না পাওয়া বা আমার বুদ্ধিহীনতা
আসল ব্যাপার এই যে আধা মনের সেই মুট আমি
কিছুতেই বইতে পারছিলাম না
আমার মাথা নুয়ে পড়ছিল ঘাড় বেঁকে যাচ্ছিল
তবু মাথা থেকে নামিয়ে বিকল্প কিছু ভাবতেই পারিনি

চল্লিশ বছর এমন কিছু নয়
এমন নয় যে পিঠ বেঁকে যাবে, আড়ষ্ট হয়ে যাবে ঠোঁট
এমন নয় যে চলতে চলতে এখনই ক্লান্ত হয়ে যাবে পা
এমন তো নয়ই যে জিরোতে বসে
আর কিছুতেই উঠতে ইচ্ছে করবে না জীবনের
এমনও নয় যে নাক চেপে পাড় হতে হয়
মার্সিডিস এ না হলেও
এমন নয় যে বাসের হাতল ধরে ঝুলে আছি

তবু মাঝে মাঝে কি ভীষণ ভারী কিছু চেপে বসে
যেন বার বছর বয়সের সেই মুট এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি আমি
আমার মাথা নুয়ে পড়েছে, ঘাড়ের রগ ফুলে উঠেছে
পিঠ বেঁকে যাচ্ছে।



Wednesday, November 20, 2013

তুমিহীন

তোমার জন্যে কিছুই রাখিনি সাজিয়ে
না ঘর না অপেক্ষমান সময়।
তোমার জন্যে কিছুই করিনি জমা
কেবলি হতাশা ভরাট শূন্যতায়
তোমাকে একলা রেখে দেখো
কি নিদারুণ ভাসি পূর্ণতায়।
তবু তুমি যখন হাস
অন্য কারো হাত ধরে
পূর্নিমায় ভাস
আমার আকাশ ফুটো হয়ে অবিরল
                          ঝড়ে জল।

বিরহ

কতবার ভেবেছি
আর কখনো প্রেমে পড়ব না নারীর
তবু, অহেতুক রাত জেগে বসে থাকি
মাঝরাতে অশীতিপর চাঁদের বুড়ি চড়কা
কাটে আমার ঘরে, আমার ঘুম আসে না।
কলঘরে জমানো জল ছাড়া আর

কিছুই জেগে থাকে না আমাকে ছুঁয়ে দেয়ার জন্য।

১৮.১১.২০১৩

বিচ্ছেদ

তোমার গাড়ী ছেড়ে দিচ্ছে
আমার দৃষ্টি ওই দূরে-
        দীঘল বাঁক গ্রামে নিবদ্ধ
মন নিশ্চুপ। যেনো বোধহীন
ভালবাসা তুমি চলে যাচ্ছ

তোমার জন্যে দীঘল বাঁক ঝাঁপসা হয়ে যাচ্ছে।

১৮.১১.২০১৩

Saturday, November 9, 2013

আহ্ জীবন

(খুব ভোরে অফিসের জন্যে ঘুম থেকে উঠার আগেই সহকর্মী, ছোটভাই তুল্য সোলায়মানের ফোনে জানলাম আজ অফিস যেতে হবে না, শাট-ডাউন ঠিকঠাক মত হওয়ায় আজ রেষ্ট, যদিও ঈদ শেষে আজই আমার জয়েন করার কথা)

আজ ভোর না হতেই সোলায়মানের পিঁপড়েরা কানে কানে বলল
                আজ ছুটির দিন
আজ ছুটির দিন                  আজ ছুটির দিন
আজকে আমি কি দিব্যি পাখির কথা বুঝতে পারছি
কি দিব্যি পিঁপড়ের  কথা বুঝতে পেরে সময় পিছিয়ে দিলাম

আজকে আমি ঘুমাব অনেক বেলা
আজকে আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনব
যেন হেলাফেলা
আজকে আমি বালিশে হেলান দিয়ে থাকব শুয়ে
যদিও জানি ঘাড়ে ব্যাথা হয়ে যাবে
                                        হউক
আজকে আমি উঠব জেগে দুপুর হয়ে।

বিবিয়ানা তোমার সঙ্গে আজ আর নেই লেনাদেনা
তুমি যতই আজ কুশিয়ারায় পা ডুবিয়ে আড় চোখে তাকাও
টুপ করে ডুব দিয়ে
ভেজা কাপড়ে যতই দোলাও নিতম্ব
আমি কিছুতেই আজ তুমি মুখী হবোনা।

আজ আমি ঘুমুব কিংবা ঘুমুব ও না
তোমাকে পাওয়ার জন্যে তন্দ্রায় মল্ল যুদ্ধে নামব
জন আব্রাহামের সঙ্গে
অথবা পাওলো রসি’র সঙ্গে খেলবো ফুটবল ।

আজ আমি কেবলি বিভোর হব স্বপ্নে
অথবা স্বপ্নও দেখবো না, তন্দ্রায় ছুঁয়ে থাকব তোমাকে-
আদি ও অনাদিকালের
স্বস্তি ও অস্বস্তিময় হে জীবন
সুখ ও অসুখের
                প্রেম ও প্রেমহীন হে জীবন
কাম ও কামনার
                প্রাপ্তি ও প্রাপ্তিহীন হে জীবন
আজ সারাটা সকাল আমি তোমার ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছুঁয়ে  থেকে বলব
‘আহ্ জীবন’।


১৮.১০.২০১৩