Thursday, December 26, 2013

অপেক্ষা

তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি লন্ড্রিতে কাপড় দিতে গেছি, কাপড় এনেছি
গোছল করেছি, খেয়েছি, হাঁটতে গেছি, এটিএম থেকে টাকা তুলেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি লাফিয়ে বাসে উঠেছি, বাস থেকে নেমেছি
অফিসে গেছি, অফিস করেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি বাজারে গেছি, দরাদরি করে মাছ কিনেছি
ফোনে কথা বলেছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি কবিতা লিখেছি, টিভি দেখেছি
ঘুমিয়েছি, ঘুম থেকে জেগেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে
আমি
যাপন করেছি
একটা দীর্ঘ জীবন।


২৬.১২.২০১৩ 

Monday, December 23, 2013

শামুক

দাউ দাউ করে জ্বলে আগুন বাসে
তবু আমার ভেতরে জ্বলে না আগুন কোনো
আমি ঘোর অন্ধকারে ঘাপটি মেরে বসে থাকি
আমাকে জাগায় না কোনো লেলিহান শিখা
আমাকে জাগায় না কোনো ঝলসানো মুখ
আমাকে জাগায় না এমনকি
        বাংলাদেশের পুড়ে যাওয়া বুক।

যেন আমি নিজেই পুড়ে অঙ্গার
যেন আমার বোধের কড়ায় তালা মেরে
কোনো পাষণ্ড হয়েছে পগারপার

এমন কোনো মিছিল নেই যেখানে আমি গিয়ে স্লোগান ধরতে পারি
এমন কোন সমাবেশ নেই যেখানে আমি গিয়ে বক্তৃতা দিতে পারি
এমন কোন রাজনীতি নেই যেখানে গিয়ে আমি নীতিবোধ জাগাতে পারি

আমি জানি এখানে নীতির নামেই হয় সবচেয়ে বেশী নীতিহীনতা
আমি জানি এখানে ধর্মের নামেই হয় সবচেয়ে বেশী বর্বরতা
আমি জানি এখানে শিক্ষার নামে আশিক্ষাই দাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র

আমার স্বপ্নরা এখন আর জেগে উঠে না মাঝরাতে
বিপ্লব নামে যে শব্দ আমি শিখেছিলাম ছোটবেলায়
সেটি প্লাবিত হয়ে গেছে, প্লাবন শেষ হলে সেখানে জমেছে আবর্জনা।

আবর্জনা গায়ে না মেখে অথবা মেখেও কিছু মানুষ
এখনো তোলপাড় তোলে
মিছিলে যায়, ফেস বুকে স্ট্যাটাস দেয়
আবর্জনা গায়ে না মেখে অথবা মেখেও কিছু মানুষ এখনো
গান গায়, কবিতা লেখে জেগে উঠবার  
এখনো কলাম লেখে পত্রিকায়
গভীর রাতে টক শোতে তোলে ঝড়, পেছনে ফেলে কামনা তাড়িত ঘর।


যদিও জানি সবই আত্ব-তন্ত্রের ফেউ
তবু
আমার মত শামুক তো হয়ে যায়নি কেউ!!



১২.১০.২০১৩

রক্তচাপ যখন কমছে না কিছুতেই

আমার জীবন
বড় বেশী আত্বহত্যা প্রবণ।
সত্যি যখন
সামনে এসে দাঁড়ায় মরণ,
আমি কাঁপি ভীষণ
কেউ কি নেই
আমায় বাঁচায় এখন


২৩.১২.২০১৩ 

Tuesday, December 17, 2013

চন্দ্রনিবাস

০০:০০০০০০১ থেকে ০০:০২ এ পৌঁছাতে কতটা সময় লাগে
নিযুতাংশের হিসাব এখনও রাখেনা ঘড়ি
ভালবাসা রাখে
আমি মিছেই হাপিত্যেশ করি।

অযুত নিযুত কাল ধরে জ্যোছনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি
              হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও পূর্নিমার চাঁদ
              নিযুতাংশের হিসাব করে করে
                                           কাটায় রাত।
       
আদি থেকে অন্ত, কালপুরুষই তোমার যোগতারা
আমার জন্যে বরাদ্দ কেবল অকারণ আশকারা।

১৭.১২.২০১৩

Friday, December 6, 2013

লুকোচুরি

কেউ না জানুক
এ টি এম বুথের সিসি ক্যামেরা জানে
টাকার কথা ভুলে গিয়ে আমি
হঠাৎ করেই জাপটে ধরেছিলাম কবিতাকে

Wednesday, December 4, 2013

অন্ধকার

ইদানিং আমি অন্ধকার নিয়ে ভাবছি
অন্ধকার কি সত্যি অন্ধকার
কিংবা কতটা অন্ধকার আছে অন্ধকারের ভেতর
একদিন মাঝরাতে বখে যাওয়া আলোতে চোখ যখন প্রায়
অন্ধ হতে বসেছিল
তখন খুব অন্ধকার কামনা করেছিলাম আমি
সেই থেকে অন্ধকার প্রায়ই আমার সাথে
গলাগলি করে শোয়। আমি অন্ধকারের স্তনের মধ্যে
নাক ডুবিয়ে গন্ধ নিতে নিতে বুঝতে চেষ্টা করি
কতটা অন্ধকার হলে মুখোমুখি বসেন
                                বনলতা সেন।

যতবার আমি খুব কাছ থকে আলো দেখতে চেয়েছি
হউক সে শীতের খড়কূটোর আলো কিংবা শাহবাগের ঝলমলে রাত
পুড়ে গেছে আমার হাত, পুড়ে গেছে মাঝরাত।
যতবার আমি তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি আলোয়
আমাকে স্তব্ধ করে অন্ধকারে ডুবিয়েছে অন্য কোনো নখের দাগ।
যতবার আমি আলোকিত ঘরে আলোকিত মানুষের খোঁজে
কড়া নাড়তে গেছি, আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মেঘ কালো অন্ধকার।

আজকাল আলো আরও বেশী ভয়ানক, ছুটে যায় উড়ে যায়
পুড়ে যায় বাস, উদ্যান
পুড়ে যায় ভোর সোনালী বিকেল
পুড়ে যায় মুখ পুড়ে যায় মানুষ
পুড়ে যেতে যেতে ঝলসে যেতে যেতে
নিভে যেতে থাকে প্রিয়তম বাংলাদেশ।

অক্লান্ত আলোতে ডুবে যেতে যেতে লীন হতে হতে
আমি ভাসি অসীম শূন্যতায়
ভাসি নিঃসঙ্গতায়।
আমাকে হাত বাড়িয়ে টেনে নেয় অন্ধকার
আমি অন্ধকারের ভেতর ‘অনন্ত মৃত্যুর’ মত মিশে যেতে থাকি।

০৪.১২.২০১৩