ইদানিং আমি অন্ধকার নিয়ে
ভাবছি
অন্ধকার কি সত্যি অন্ধকার
কিংবা কতটা অন্ধকার আছে
অন্ধকারের ভেতর
একদিন মাঝরাতে বখে যাওয়া
আলোতে চোখ যখন প্রায়
অন্ধ হতে বসেছিল
তখন খুব অন্ধকার কামনা
করেছিলাম আমি
সেই থেকে অন্ধকার প্রায়ই
আমার সাথে
গলাগলি করে শোয়। আমি
অন্ধকারের স্তনের মধ্যে
নাক ডুবিয়ে গন্ধ নিতে নিতে
বুঝতে চেষ্টা করি
কতটা অন্ধকার হলে মুখোমুখি
বসেন
বনলতা সেন।
যতবার আমি খুব কাছ থকে আলো
দেখতে চেয়েছি
হউক সে শীতের খড়কূটোর আলো
কিংবা শাহবাগের ঝলমলে রাত
পুড়ে গেছে আমার হাত, পুড়ে
গেছে মাঝরাত।
যতবার আমি তোমাকে ছুঁতে
চেয়েছি আলোয়
আমাকে স্তব্ধ করে অন্ধকারে
ডুবিয়েছে অন্য কোনো নখের দাগ।
যতবার আমি আলোকিত ঘরে
আলোকিত মানুষের খোঁজে
কড়া নাড়তে গেছি, আমাকে
ফিরিয়ে দিয়েছে মেঘ কালো অন্ধকার।
আজকাল আলো আরও বেশী ভয়ানক,
ছুটে যায় উড়ে যায়
পুড়ে যায় বাস, উদ্যান
পুড়ে যায় ভোর সোনালী বিকেল
পুড়ে যায় মুখ পুড়ে যায়
মানুষ
পুড়ে যেতে যেতে ঝলসে যেতে
যেতে
নিভে যেতে থাকে প্রিয়তম
বাংলাদেশ।
অক্লান্ত আলোতে ডুবে যেতে
যেতে লীন হতে হতে
আমি ভাসি অসীম শূন্যতায়
ভাসি নিঃসঙ্গতায়।
আমাকে হাত বাড়িয়ে টেনে নেয়
অন্ধকার
আমি অন্ধকারের ভেতর ‘অনন্ত
মৃত্যুর’ মত মিশে যেতে থাকি।
০৪.১২.২০১৩
No comments:
Post a Comment