এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে আবর্জনারা বড় হচ্ছে, বাড়ছে কাক ও কাকতাড়ুয়া
এ শহরে মানুষেরা সব নির্বীর্য ও নিশ্চল
গো এবং গর্ধভেরাই কেবল প্রাঞ্জল
এ শহরে তরুণেরা ক্ষীণদৃষ্টি নির্বীষ
তন্দ্রালু ঘোর আর পলায়ন স্বপ্নে বিভোর
স্ত্রীরা সব ক্লান্ত নারীরা স্তন ও নিতম্ব
স্বর্বস্ব, তরুণীরা প্রেমহীন
এ শহরে নদীতে মাছ নাই
মানুষের লাশ হয়ে যায় ‘খুঁজে পাওয়া আরাধ্য’ মীন
এ শহরে রাত বাড়লেই বুদ্ধিজিবীতার নামে হিপোক্রাসি
আর হিপোক্রাটদের
মিছিল শুরু হয়, যেন এইমাত্র নেমে আসা দেবদূত
কখনো শোনেনি ফিটনেস ছাড়া লঞ্চ আর গাড়ি কিকরে বের হয়
এ শহরে মিছিলে আর দেখা যায় না বজ্রমুষ্ঠি
এ শহরে আর ফোটে না কৃষ্ণচূড়া
এ শহরে কেউ নাইতে নামে না অমল ধবল বৃষ্টিতে
এ শহরে কেউ পুরস্কৃত হয় না মৌলিক কোনো সৃষ্টিতে
এ শহরে চুম্বনে আর কাঁপে না কারো ঠোঁট
এ শহরে ভোটের নামে হয় সবজি আর মাংসের জোট
এ শহরে আমিও ভন্ড, আবেগের জালিয়াত
আমার নামেও ব্যাংক ব্যালান্স বাড়ী গাড়ি ও নারীর
সহবত
যদিও আমি দারিদ্র বিমোচনের মূল কর্তা
নুউঅর্ক আর জোবরা
গ্রাম মিলিয়ে বানাই ভর্তা
যদিও আমি পরিবেশবাদী, ১০০ বছর পরের পৃথিবীর জন্য
কাঁদি
আমার ভীষণ দূরদৃষ্টি, কাছাকাছি কিছুই দেখিনা ভাই
কোন গ্রামে জন্মেছি আমি? আমাদের আপাতঃ সংকট বলে
কিছু নাই
এ শহরে প্রতিদিন আমিও খুনী
অভুক্ত শ্রমিকের ঘামে ভেজা শার্ট চড়া দামে আমিও
কিনি
আমিও বাঁচি একেকটি দিন পরের দিনের আশায়
আমার মেয়ের কোমল গালের স্পর্শ আমায় বাঁচায়
এ শহরে তুমিও আছ, হৃদয় নিয়ে ভীত
এ শহরে গান হয় না আর, তোমার জন্যে গীত
এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে তবুও থাকি, তোমার জন্য অপ্সরা
১৪.০৮.২০১৪
ঢাকা