Saturday, September 27, 2014

ভালবাসা ও ঘৃণার মঙ্গলময় রাতে

জানি আমার জন্য তোমার সময় হবে না একটুও
আজকে তুমি ভীষণ ব্যস্ত, আকাশের গায়ে ঘর বানাচ্ছ মস্ত
আজকে তোমার পা ছুঁয়েছে নীলগিরি
দখিনা বাতাস তোমার চুল উড়িয়ে নিচ্ছে
ঢেকে দিচ্ছে মাছাপুছরা আর ধবলগিরি

আজকে তুমি ভীষণ ব্যস্ত, উদাস মেঘও ভীত সন্ত্রস্ত
অনিচ্ছায় তুমি নাচাও তোমার বাঁক
কি আসে যায়, আকাশ ও ভূমন্ডলে
‘আলোড়ন বয়ে যাক’

আজকে তোমার কথারা ফোটাচ্ছে খই
মোবাইল কোম্পানি গুলো বেহিসাবি এমন
        ব্যালেন্সের হিসাব কই?
তোমার কথায় জ্যোতি ছড়াচ্ছে হীরা
মুগ্ধ পাখিরা ঘুরছে তোমার পাশে
                ঠোঁটে নিয়ে পাউন্ড স্তারলিং লিরা

কথারা বানাচ্ছে ঘর, ঘৃনার ও ভালবাসার
কথারা বানাচ্ছে পাহাড়, দ্বিধা ও শংকার
কথারা বানাচ্ছে নদী, নিরন্তর নিরবধি

তোমার কথারা ফোটাচ্ছে খই
ঝড়ে-বৃষ্টিতে তুমুল হুলুস্থুল, তেপান্তরের মাঠ পেরুবে বলে
হাঁটা ধরেছে বোকা মাছ কই
আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা নিয়ে
আমি অপেক্ষায় জেগে রই।

২৩.০৯.২০১৪

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন
ডাঙায় নদী পেরুবে বলে সাঁকোর উপর
হঠাত করে থামছ কেন, নদীর বুকে জল নাই আর?
জলে এবং মলে যখন মাখামাখি, আলগোছে তুমি স্নান সেরে নাও
এবং মাখ আরবি আতর...‘মাহে ভাদর’

ও মানুষ তুমি ভাংছ কেন
ভালবাসার রুপালি চাবি তোমার হাতে
মন নিয়ে তুমি ভাবছ কেন
যাদুমন্তরে খুলে যায় যখন সোনালী বাঁক... ‘চিচিং ফাঁক’

নদীর জলে লাশ দেখে তোমার বুক ভেঙ্গে যায়?
মহত্তম মন্ত্র আর সার্বজনীন তন্ত্রগুলো মুখ ভেংচায়?
মানুষ দেখে অমন করে হাসছ কেন
উদোম শরীর ফুটপাতেও খুঁজে বেড়ায় সুখের নাগর
জীবন মানেই ধর্ম-অধর্ম সুখ দুঃখ আগর বাগর

নারীর মনের রঙ বদলালে তোমার অমন দুঃখ কেন
শিউলি মাখা সকালগুলো খুন হয়ে যায় ভর দুপুরে
কালবেলার ওই কালোখেলায় তবু তুমি পথ ভুলোনা
বরং তুমি ঘরে ফিরো সন্ধ্যে হলেই
এবং তুমি বাঁচতে শেখ যেমন তেমন যাচ্ছেতাই

পাওনি বলে হাহাকারে ডুববে কেন
মানুষ তোমার স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেল
স্বপ্ন এখন ‘অবরুদ্ধ জীবন’ বাঁচায়, অঙ্গ
এবং সঙ্গমেরই সুখ কামনায়

তবু তুমি বাঁচতে শেখ
রক্তভেজা সিক্ত পায়ে নতুন করে হাঁটতে শেখ
মানুষ তুমি হাল ছেড়োনা
অসুন্দরের যজ্ঞ দেখে হার মেনোনা

এ শহর আজ বেজান শহর
এ দেশ আজ বেজান দেশ
এ পৃথিবী আজ বেজান পৃথিবী
এ পৃথিবীর মানুষ পাথর মন পাথর নদী এবং নারী পাথর

তবু তুমি ভাঙবে কেন
বরং তুমি কোরাস ধর
নাহয় বাঁচ পাথর জীবন।

(একটা শহর, তার মানুষ পাথর, গাছ-পাতা পাথর, গরু-ঘোড়া প্রভৃতি জীবজন্তু পাথর, 
পাখি পাথর, পিঁজরায় দেওয়া জল ও চাল সকলই পাথর, সেই শহরের নাম বেজান শহর।
                ---ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য : দীনেশ্চন্দ্র সেন)


২৮.০৯.২০১৪

Monday, September 22, 2014

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ

মহামানবে বিশ্বাস নাই, এমনকি মহীয়ান মনুষ্যত্বে
অবিশ্বাসী আমি নদীর জল ছুঁতে গিয়ে
আলগোছে সরাই ভাসমান পাপ
  এবং ডুবে যাই

সুইমিংপুলের নীল জল বরাবরই নিঃসংশয়
ক্ষুদ্রকায় বিকিনিও জানে
কতটা ভিজলে ডুবে যায় আলোকিত ন্যায়

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ
তোমার নিভাঁজ ত্বকের চেয়ে গিরি ও গিরিখাদ
                          আর কর্ষিত নিন্মাঞ্চল

২২.০৯.২০১৪

সিলেট

Sunday, September 7, 2014

ইচ্ছে

ইচ্ছে আমার বোকা ভীষণ
গোয়ার এবং গন্ডমূর্খ
ভালো কিছু হয়না জেনেও
অর্থহীন লেখে পদ্য

ইচ্ছে আমার হাওয়াই জাহাজ
উড়ে এবং ডিগবাজি খায়
ইচ্ছে হলে যখন তখন
ঘরের জলে পদ্ম ফোটায়

ইচ্ছে গুলো সুবিধাবাদী
যখন তখন আপোষ করে
বাঁচবে বলে আঁকড়ে থাকে
ভীষণ রকম অনিচ্ছাটাকে

ইচ্ছে আমার ‘এবং নারী’
যখন খুশী ঘোমটা পড়াই
ইচ্ছে হলে নগ্ন করে
নিপল দিয়ে কান চুলকাই

ইচ্ছে গুলো মিথ্যে করে
মাঝে মাঝেই স্বর্গে ভাসে
ইচ্ছে আমার ইচ্ছে তোমার
কার সাধ্যি বেঁধে রাখে




যা কিছুর জন্যে আকুলতা

যা কিছুর জন্যে আকুলতা যা কিছুর জন্যে উন্মাদনা সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে অভিমান যা কিছুর জন্যে এমন ভেঙ্গে যাওয়া না যাওয়া
                                                             সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে খালপাড়ে ফেলে আসা  ব্যর্থতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে কেবলি ছুঁয়ে দেখার ব্যাকুলতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে উন্মাদ জোছনা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ফোটা জুঁই ফুল
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ছুঁতে পারা ছেড়া হাফ প্যান্ট
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে অনন্তের দড়িতে ঝুলে থাকা রংধনু শাড়ী

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না লেখা কবিতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে পুরোনো ডায়েরী ঘেঁটে
খুঁজে পাওয়া একরাশ শূন্যতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে ঘাসফড়িঙ এর অর্থহীন ওড়াওড়ি
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে তুমি ও আমি, স্বপ্নের ওপারে বাড়ী

না পাওয়াই যদি বেঁচে থাকা হয় তবে, রূপসী
তোমার দিকে তাকিয়ে থেকেই কাটুক না হয় অরূপ এ জীবন।