ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন
ডাঙায় নদী পেরুবে বলে সাঁকোর উপর
হঠাত করে থামছ কেন, নদীর বুকে জল নাই আর?
জলে এবং মলে যখন মাখামাখি, আলগোছে তুমি স্নান সেরে
নাও
এবং মাখ আরবি আতর...‘মাহে ভাদর’
ও মানুষ তুমি ভাংছ কেন
ভালবাসার রুপালি চাবি তোমার হাতে
মন নিয়ে তুমি ভাবছ কেন
যাদুমন্তরে খুলে যায় যখন সোনালী বাঁক... ‘চিচিং
ফাঁক’
নদীর জলে লাশ দেখে তোমার বুক ভেঙ্গে যায়?
মহত্তম মন্ত্র আর সার্বজনীন তন্ত্রগুলো মুখ ভেংচায়?
মানুষ দেখে অমন করে হাসছ কেন
উদোম শরীর ফুটপাতেও খুঁজে বেড়ায় সুখের নাগর
জীবন মানেই ধর্ম-অধর্ম সুখ দুঃখ আগর বাগর
নারীর মনের রঙ বদলালে তোমার অমন দুঃখ কেন
শিউলি মাখা সকালগুলো খুন হয়ে যায় ভর দুপুরে
কালবেলার ওই কালোখেলায় তবু তুমি পথ ভুলোনা
বরং তুমি ঘরে ফিরো সন্ধ্যে হলেই
এবং তুমি বাঁচতে শেখ যেমন তেমন যাচ্ছেতাই
পাওনি বলে হাহাকারে ডুববে কেন
মানুষ তোমার স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেল
স্বপ্ন এখন ‘অবরুদ্ধ জীবন’ বাঁচায়, অঙ্গ
এবং সঙ্গমেরই সুখ কামনায়
তবু তুমি বাঁচতে শেখ
রক্তভেজা সিক্ত পায়ে নতুন করে হাঁটতে শেখ
মানুষ তুমি হাল ছেড়োনা
অসুন্দরের যজ্ঞ দেখে হার মেনোনা
এ শহর আজ বেজান শহর
এ দেশ আজ বেজান দেশ
এ পৃথিবী আজ বেজান পৃথিবী
এ পৃথিবীর মানুষ পাথর মন পাথর নদী এবং নারী পাথর।
তবু তুমি ভাঙবে কেন
বরং তুমি কোরাস ধর
নাহয় বাঁচ পাথর জীবন।
(একটা শহর, তার মানুষ পাথর, গাছ-পাতা পাথর,
গরু-ঘোড়া প্রভৃতি জীবজন্তু পাথর,
পাখি পাথর, পিঁজরায় দেওয়া জল ও চাল সকলই পাথর,
সেই শহরের নাম বেজান শহর।
---ঘরের
কথা ও যুগসাহিত্য : দীনেশ্চন্দ্র সেন)
২৮.০৯.২০১৪
No comments:
Post a Comment