Friday, May 29, 2015

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে তবে কে আমাকে জড়িয়ে ধরে সকাল দুপুর
মধ্যরাতে

একবার নিজের থেকে কিছু নীল ভাগ দেবো বলে ফ্যাকাশে হওয়া
বিকেলে আকাশের দিকে যাচ্ছিলাম জগন্নাথপুরের খাল পেরিয়ে। আকাশ
এমন নির্বোধ মাঝপথে আমাকে আটকে দিলো ঘন অন্ধকার হয়ে

অতঃপর যা হবার তাই। নীলেরা অন্ধকারের বুক চেপে বসে থাকলো।

সেই থেকে অন্ধকারের সঙ্গে নটঘট। অন্ধকারের সঙ্গে প্রেম প্রণয়
অন্ধকারের সঙ্গে বাক বিতন্ডা, অন্ধকারের সঙ্গে বৈরিতা। আমি
উদোম আলোয় অন্ধকারের শান্ত হাত ধরে বসে থাকি

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে
কে তবে বুকে চেপে থাকে এই আলোর প্লাবনে

২৯.০৫.২০১৫

Wednesday, May 27, 2015

পঞ্চপান্ডব

“কুন্তী বলিলেন যুধিষ্ঠির যাহা বলিবে তাহাই সত্য
সুতরাং দ্রৌপদী পঞ্চপান্ডবের ভার্যা হউক”।

অতঃপর বাংলাদেশের মহা পুলিশীয় দুষ্টামি সূত্রমতে
একদল পান্ডব গান্ধর্ব মতে ক্ষুদ্রকায় বাস এর ভিতরে
একটি গারো যুবতির সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলেন।

সভ্যতার ক্রমউন্নতির এই যুগে
পৌরুষ উত্থানে ইহা একটি মাইলফলক বটে!

২৬.০৫.২০১৫



Tuesday, May 19, 2015

অপেক্ষা

কারো জন্যে অপেক্ষায় থাকি না,
কিছুর জন্যেই না
শেষ দানে হারিয়ে স্বর্বস্ব
পরাজয় তবু নিজেই মানি না


Monday, May 11, 2015

সত্য তবে অশ্বডিম্ব

(কবিতাটা নিয়ে একটা খচখচানি ছিলই। তাই কিছু লাইন বদলে কবিটাতে অন্য অবয়ব দেয়ার চেষ্টা করেছি। মন্দ কি একই অঙ্গে ভিন্ন রূপ!!)


মহাশূন্যতাই যদি অনন্ত আশ্রয়
তবে সত্য হউক অশ্বডিম্ব
ইশ্বর, তোমার মনুষ্যজন্ম কতটা রোমাঞ্চকর ছিল
সে চিন্তা থাক। ভালবাসার নাম করে তুমি যতই
হাউমাউ করে কাঁদো মহান সংসদে, সেটা অবশেষে
গ্রাম্যতা বলেই গন্য হবে। তোমার নিযুতবর্ষি
অপেক্ষারা ঝুলে থাকুক বিরাণ জানালায়, ব্যস্ততম
চৌরাস্তায়, বেদখল হয়ে যাওয়া ব্যালট বাক্সে
মুঠোফোনের কম্পনে কিংবা ভিনদেশি পাহাড়ি বৃষ্টিতে

আর যথারীতি পৃথিবী ঘুরুক তার নিজেরই অক্ষে
‘ভগ’এ ই চলুক মানুষের ভোগ
ক্ষমতার মহান মসনদে একনায়ক আর একইশ্বরে
আমরা বরং সমবেত হই এক কাতারে
এবং অন্ধকারের সিঁড়ি বেয়ে আমাদের যাপিত জীবন
অচ্ছুতই থেকে যাক দুঃস্বপ্নের সীমানায়

আমি অপেক্ষায় থাকি তোমার দুর্দশাগ্রস্থ লাজুক
চেহারা দেখবার জন্যে যখন তুমি কান্না লুকাতে গিয়ে
পুব আকাশে রংধনু হয়ে জেগে ওঠ। ইশ্বর
তোমার দুঃখ ভুলানিয়া রংচঙে রূপ দেখে আমি
অপলক চেয়ে থাকি, যেমন করে কিশোরীর স্তন
দেখে আলাভোলা নাকাল কিশোর


Tuesday, May 5, 2015

দুঃখের জন্যে করুণা

আমার কি যে হচ্ছে আজ
পুকুরে হেলে পড়া আমগাছের ডালটা
খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ডালের উপর
শালিকের বাসায় ছোট্ট ছানাটার কথা

বাতিটা নিভানোই থাক। মন খারাপ জানালার
কপাটগুলো কাঁপছে কেন? এই শীতরাতেও
ভূরভূরিয়ার বর্ষণধবল দুপুরে খেয়া পারাপারের
ঘাটের কথা কেন মনে পড়ছে

কোথাও নেই কেউ। দূরে সিনেমার শো শেষ হলে
অন্তরঙ্গ হাঁটে নিস্তরঙ্গ দম্পতি।
লটারির টিকেটের সুখস্বপ্নের সময়েও
অন্য কোথাও পার ভাঙে সর্বনাশা নদী

এই রকমই হয়। শিয়রে মখমলে বালিশ রেখেও
যাদের ঘুম হয় না করুণা ছাড়া তাদের জন্যে
আর কি হতে পারে


০৫.০৫.২০১৫