Monday, December 11, 2017

নিজেকে নিয়ে আর ভাবি না

নিজেকে নিয়ে আর ভাবি না
যে যা বলে মেনে নেই, হিপোক্রাসি তো পুরোনো বদনাম
খুব ছোটবেলায় বড়ভাই একশ টাকা দিয়ে লালু’র দোকানে পাঠিয়েছিল
যত ইচ্ছা মিষ্টি খেতে, অতবড় টাকা ভাঙ্গানোর সাহস করতে পারিনি বলে
আস্ত টাকাই ফিরিয়ে এনেছিলাম, ভাইতো হেসেই খুন

সেদিনই আমার ক্ষুদ্রতার প্রমাণ হয়ে গেছে, তার পর থেকে
কেবলই ক্ষুদ্রতর হতে থেকেছি, আর ভুলতে থেকেছি নিজেই নিজেকে
যা কিছু আমি চাই তাও ভুলতে থাকি, যা কিছু পাই তাও ভুলে যাই
যা কিছু আমি পড়ি ভুলে যাই, যা কিছু লিখি ভুলে যাই
ভুলতে ভুলতে, শহিদের দোকানের টুলে বসে থাকতে থাকতে
অন্ধকারে ভেজা ঘাসে শুয়ে থাকতে থাকতে কখন যে নিজেই হয়ে গেছি ঘাস
কিংবা শহিদের দোকানের খালি টুল!!

রোদের জন্ম নিবন্ধন আনতে গেলে
ঘুষের মহাযজ্ঞে আমার অগোচরে বেড়ে উঠা বিদ্রোহগুলোও
হতবিহ্বল হয়ে পড়ে, লজ্জায় পারলে আরো কিছু বেশি ঘুষ দিয়ে
নিজেকে অনু থেকে পরমানু করে সার্টিফিকেট হাতে আমি
বন্ধ দরজার ফাঁক গলে বেরিয়ে যাই
অতঃপর আইনানুগ ঠিকঠাক জন্ম হয় রোদের

প্রেম সংক্রান্ত আমার গল্পগুলোও অবান্তর, নিপুণ কার্বন পেপারের মত
বুকে জমে থাকা কিছু হিজিবিজি প্রমাণ করে আমি
পাশাপাশি দুই পৃষ্ঠার অবিকল বাহন হতে পারি মাত্র। সত্যপুরান এই যে
একলব্য কেবল দ্রৌপদীর প্রেমবিষয়ক সত্যাসত্য জাগিয়ে তুলেছিলেন

মূলত রোদের পিতৃত্ব ছাড়া আমার আর কোনো গর্ব নেই
শীতের সকালে আমি বসে থাকি এই আশায় যে
রোদ এসে আমার উদোম পিঠে বিলি কেটে দেবে।

২৮.১১.২০১৭

No comments:

Post a Comment