Thursday, May 31, 2018

অনুকবিতা


১।
নিশীথে একলা চাঁদ কুয়াশা চাদরে হাঁটে
আর বাঁশী বাজে, বাঁশী বাজে...

‘আজ রাতে ননদিনী থাকবে পাহারায়
আমি বলতে ভুলে গেছি সে যেন বাঁশী না বাজায়’

২।
এ কিযে ভয়ংকর ঘোর
আমি তোর, কেবলি তোর

০১.০৬.২০১৮

Friday, May 25, 2018

‘চমৎকার!— ধরা যাক দু-একটা ইঁদুর এবার -’


(চলমান মাদকবিরোধি অভিযানের প্রতিক্রিয়ার)

বিশুদ্ধিকরণের  জন্যে আঁজলা করে আপনি যে জল তুলছেন
তাতে আমরা আপ্লুত, ততোধিক আপ্লুত যে
আঙ্গুলের ফাঁক গলে নর্দমাটা শেষমেশ অবিকৃতই থেকে যাচ্ছে

অপ্রবেশ্য অন্ধকারে আপনি ঢুকতে পারবেন না জেনেই
আপনার রাইফেল তাক করেছেন। আমরা অন্ধকারের পূজারী
গুলির ফুটায় প্রবেশের জন্য আমাদের শিশ্ন যারপরনাই উত্তুঙ্গ

আপনার এই অভাবনীয় দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে

অতঃপর অন্ধকারকে জড়িয়ে ধরে
আসুন আমরা একটা সঙ্গমক্লান্ত ঘুম দেই


২৫.০৫.২০১৮


শূন্যতা

খুব একটা কিছু নয়
এই রকম হয়
শূন্য থেকে শূন্যে গেলে
শূন্যই জেগে রয়

২৪.০৫.২০১৮

আমার মধ্যে দ্রবীভূত তুমি


আমি আসলে আমার মধ্যে দ্রবীভূত তোমাকেই দেখি

কিছুতেই আলাদা করা যাচ্ছে না বলে
তোমার নামে আমি আসলে নিজেকেই খুঁজি
ভালবাসি নিজেকেই, নিজেকেই ডাকি
তোমার নামে আমি আসলে স্বমেহনেই মত্ত থাকি

এই যে ভালবাসি জ্যোৎস্না, কিংবা চাঁদ
বৃষ্টি কিংবা জলহীন নদীতে ঢলভাঙা রাত
এইসবের আড়ালে আমি আসলে
তোমার নীলচে তিলের দিকেই নতজানু

তুমি মানে আমি
আমার নিঃসঙ্গ করতল তোমার অনাবাদি জমি

একটা দুর্ধর্ষ সঙ্গমের স্মৃতি


ধরুন, আপনি যদি কবি হন, আসলে সব মানুষই কবি। আপনি এভাবে লিখতেই পারেন একটা রাত সাঁতার অথবা একটা নিষিদ্ধ সঙ্গমের স্মৃতি। অথবা আপনার গতানুগতিক আপসের জীবনের বাইরে আপনি লিখতেই পারেন একটা মর্ষকামিতার অথবা ধর্ষকামিতার গল্প


ধরুন আপনার কিছুই করার নেই, কোনো এক মহামান্য যাবেন বলে আপনি রাস্তায় বসে থাকলেন ঘন্টার পর ঘন্টা। ভদ্রতার মুখোশের কারণে অথবা ঠ্যাঙ্গানির ভয়ে আপনি কারো গোষ্ঠীও উদ্ধার করতে পারলেন না, আপনি দাঁত কিরমির করতে করতে আপনার দুই চাপার দুটো দুটো চারটে দাঁত নড়বড়ে করে ফেললেন


ধরুন কোষ্ঠকাঠিন্য চিকিৎসার জন্য রাত দুইটায় ডাক্তারের সিরিয়াল পেলেন, অতঃপর বার দশেক গলা খাকারি দিয়ে দিয়ে জাগিয়ে রেখে ডাক্তারের কাছ থেকে আপনি যে প্রেস্ক্রিপশনটি পেলেন তাতে আপনার মাসিক খরচের অর্ধেকেরই দফারফা হয়ে যাবে

ধরুন আপনি এমন একটা দেশে বাস করেন যেখানে শুধুমাত্র ধর্মের জিগিরে নিজ দেশের বন্যার্তদের ভুলে গিয়ে আপনার মানবিকতা উপচে সীমানা পার হয়ে নো ম্যানস ল্যান্ড এ গিয়ে পড়ে। অথচ পয়সার অভাবে অথবা বলা চলে মানবিকতার অভাবে আপনারই দেশের অসহায় রমণী হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে অবশেষে রাস্তায় সন্তান প্রসব করেন

ধরুন কি আর করা’ ‘তবুও জীবন সুন্দরভেবে ভেবে আপনি প্রায় মাঝরাতে ঘুমুতে গেলেন। আপনার খুব মসৃণ, ভেজা ভেজা পিচ্ছিল যোনিতে ঢুকে যাওয়ার মত ঘুমের দেশে ঢুকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আধো ঘুমেই আপনি একটা ভয়ানক স্বপ্ন দেখলেন, দেখলেন খোলা রাস্তায় তরবারি হাতে কিছু মানুষ এদিক ওদিক দৌড়াচ্ছেঅন্যরা সব ভয়ে ছুটাছুটি করছে। এর মধ্যে আপনার সন্তানকে কোলে নিয়ে আপনার স্ত্রীও দৌড়াচ্ছেন, পিছে পিছে আপনিও ছুটছেন। কে কাকে খুন করতে চাচ্ছে আপনি জানেন না, আপনার স্ত্রীও খুন হয়ে যেতে পারেন, আপনিও কিংবা আপনার সন্তানও

এইরকম ছুটাছুটির মধ্যেই স্ত্রীর ডাকে বুক ধরফর নিয়ে আপনি জেগে উঠলেন। জেগে উঠেও ভয় কিছুতেই আপনাকে ছাড়ছিল না। আপনি বাঁচার আশায় স্ত্রীর বুকে সেধিঁয়ে যেতে চাইলেন।

সেঁধিয়ে যেতে যেতে তরবারির ঘায়ে কিনা আপনি জানেন না, আপনার শরীরের রক্ত ফিনকি দিয়ে এদিক ওদিক ছুটাছুটি শুরু করল। অতঃপর আপনি সেঁধিয়ে যেতে থাকলেন স্ত্রীর গভীরে, শরীরের আস্বাভাবিক ফুলে ফেঁপে উঠা মাংশপিন্ডকে আপনি আঁচড়ে কামড়ে ক্ষত বিক্ষত করে দিতে চাইলেন। আপনার ঠোঁট আপনার জিহ্বা আপনার দাঁত আপনার হাতের দশ আঙুল আপনার মাংসপেশিরা সকল ঔদ্ধত্য ছাড়িয়ে যেতে থাকল। আপনার সকল অক্ষমতা অপারগতাগুলো ফুঁসে উঠতে থাকলো আপনার শরীরে। আপনার ক্রোধ বেয়নেট হয়ে খোঁচাতে থাকল সমগ্র মানচিত্র। অতঃপর একটা আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি নিয়ে আপনার স্ত্রী ঘুমিয়ে গেলেন। আপনার ঘুম আসছিল না


বাইরে বেড়ালের হাঁটার মত প্রায় নিঃশব্দ আদুরে বৃষ্টি হচ্ছিল। বরং আপনার বৃষ্টি দেখার ইচ্ছা হল। আপনি বারান্দায় আয়েশ করে বসলেন। প্লাস্টিকের চালে বাচ্চাদের নামতা পড়ার মত একটা একটা বৃষ্টির ফোঁটা পড়ছিল। আপনি একহাত দিয়ে বৃষ্টি ছুঁতে চাইলেন যদিও বৃষ্টি আপনার নাগালের বাইরে। আপনি হাত রাখলেন টেবিলের শীতল কাচে । পাঁচ আঙুল চেপে ধরে আপনি শীতলতা নিতে চাইলেন আপনার দেহে। আধো আলোতে আপনার আঙুলগুলো রক্তশূন্য ফ্যাকাশে মৃত মানুষের বলে মনে হচ্ছিল