Wednesday, July 25, 2018

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি


অনেকদিন পর সেদিন বিকেলে বৃষ্টি এল
অনেকদিন পর সেদিন শুক্রবার বিকেলে
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি এল।
হৃৎপিণ্ড লাফাতে লাফাতে কণ্ঠনালি ঠেলে বের
হওয়ার আগে তাকে কোনোমতে ঠেকানো গেল
তারপর স্মৃতিরা ভিজলো। শূন্যতার কালিতে
লেখা একটা সাদা চিঠি নৌকা হয়ে ভাসলো

হারানো কতগুলো বছর, একটা শৈশব
আর কতগুলো শরৎকাল ভিজলো
স্কুলপথে দাঁড়িয়ে থাকা জামগাছটা ভিজলো
কার্নিশে লুকানো একটা বোকা কাক ভিজলো

ভিজতে ভিজতে ভাসতে ভাসতে
প্রায় দাঁড়িয়ে যাওয়া একটা জীবন ধ্বসে গেল জলে
রুপালি মাছেরা তখনো স্বপ্ন দেখে, কানাকানি করে
জলের অতলে

২৬.০৭.২০১৮

Saturday, July 14, 2018

একটি কবিতার ধ্বংসাবশেষ


আমি যেখানে রোজ হাঁটি, তার পাশেই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে হাঁটে একটা পৃথিবীও
আমি তার পোড়া গন্ধ নিতে নিতে হাঁটি, অবশেষগুলো উল্টে পাল্টে দেখি।
দেখি একজন যৌন(জন শব্দটি আমার কেবল যৌন যৌন মনে হয়)প্রিয় কবির সতেজ হাড়কে আখ ভেবে চর্বন শেষে চুষছেন একজন রাজনীতিকপাশে দাঁড়িয়ে নমিতমস্তক কবি উদ্গীরণ করছেন ততোধিক রসদেখি একজন জন(জন শব্দটি আমার কেবল যৌন যৌন মনে হয়)প্রিয় নায়িকার অবশেষ হিশেবে বেঁচে আছে কেবল তাঁর সিলিকন স্তনবাকি প্রত্যঙ্গগুলো থেকেও সংরক্ষণ রস নিঃসৃত হয় বিধায় আমার সেদিকে যেতে প্রবৃত্তি হয় না।
প্রিয়(প্রিয় বললে আমার কেবল জনপ্রিয় মনে হয়) লেখক বন্ধুর চারপাশে মৌ মৌ করে বডি স্প্রে’র গন্ধ যদিও শব্দ আর অক্ষর পচে বের হচ্ছে পুঁজ। আমার প্রিয়((প্রিয় বললে আমার কেবল জনপ্রিয় মনে হয়) বন্ধুর স্ত্রীর জীবন যাপন সংক্রান্ত হা-হুতাশে তরতাজা লাফানো মাছগুলো কেমন বোবা চোখে তাকিয়ে থাকে। জনৈক বুদ্ধি বিক্রেতার উৎফুল্ল মগজে মুকুটের মত লেপ্টে আছে কোলাহলপ্রিয় কাকের বিষ্ঠা। বলাই বাহুল্য মগজের হাটে ফেসবুক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে তাবৎ মেধাবীদের মগজ।
সভ্যতা নামক যে অ্যাম্ফিথিয়েটারে দিনরাত প্রদর্শিত হচ্ছে নাটক, সে নাটকের আমিও একজন কুশীলব। সুতরাং ডিরেক্টরের নির্দেশনা ব্যতীত আমিও চিন্তারহিত। শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত হাঁটার সময়গুলোতে আমার অলস মগজে পায়চারি করে কিছু কবিতার ধ্বংসাবশেষ, যখন দেখি সভ্যতার আলোকোজ্জ্বল চাতালে অবলীলায় পেচ্ছাব করে যায় আন্দামানের এক জারাওয়া নারী

আর ‘অসভ্য’ ‘অসভ্য’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

১৪.০৭.২০১৪


Saturday, July 7, 2018

আম পোকার সৃষ্টি রহস্য


একটা ঠিকঠাক শক্তসামর্থ কাঁচা আমরে সোফার নিচে বিছাইয়া রাখছিলাম পাকার জন্য। আগেই বইলা রাখি কোথাও কোনো খুঁত ছিল না আমটার। তো কয়দিন পরে আম খাইতে গিয়া এর ভিতর থাইক্কা পোকা বের হইল। আমি অবাক, যদিও অবাক হওয়ার ক্ষমতা আমার নাই বইলা মনে করছিলাম। একদিন বেবিট্যাক্সিতে তাজমহল রোড পার হইতে হইতে আমার অবাক হওয়ার ক্ষমতা, বিশ্বাস করার ক্ষমতা শেষ হইয়া গেছিল। এমনই ভাবতেছিলাম এতদিন। আজকে অবাক হইয়া সেই বিশ্বাসও ভাইঙ্গা গেছিল প্রায়।
যাই হউক, এইরকম একটা অক্ষতযোনি আম থাইকা পোকা পাইয়া আমি মনে মনে ইউরেকা ইউরেকা বইলা চিল্লাইয়া উঠলাম। ভাবলাম আমি বুঝি প্রানিকূলের সৃষ্টিরহস্য উদ্ধার কইরা ফেলছি। সেইকরম জম্পেশ একটা পোস্ট দিমু ভাবতেছিলাম ফেইসবুকে। সেইমত গুগল করতে গিয়া আমি পুরাই হতাশ।
বলে কিনা মুকুল হওয়ার কালেই আমে পোকার বীজ ঢুইকা পরে। কেন যে জানতে গেলাম!!

না জাইন্না আমি তো ঈশ্বর হইয়া যাইতেছিলাম প্রায়

০৩.০৭.২০১৮