Friday, April 19, 2019

ঊনসত্তর জোনাকি ঠোকরায়


             যে যার মত, সেলাই দিচ্ছে ক্ষত
অনবরত। আলোর ফুলকির মত জীবন কণা
ছুটছে তোমার দিকে। তুমি আকাশে ঠেস দিয়ে ঝিমুচ্ছিলে
আমার হাতে ধরা নদীটাকে উল্টে পাল্টে দেখেও তোমার
কিছুই মনে পড়ে না। রাতভর ভুল চুম্বনে তুমি ভুলে গেছ
ডুবসাঁতার, জলের অতলে ডাক, প্রতিডাক

তুমিসহ সব ফেলে রেখে, তুমিসহ সব নিয়ে
আমি হেঁটে যাই একা, তোমারই দিকে। ঊনসত্তর জোনাকি
আমাকে ঠোকরায়, খাবলায়। আমি কিছুতেই জ্বলি না
আমার পিঠ ছুঁয়ে থাকে ভেজা ঘাস, চাঁদের আলোয় ঝলসানো
মেঘেরা আমাকে পার হয়ে যায়, আমি দেখি। জ্বলি না
কেবল ভিজি, কলার চৌষট্টি শেষে আমি ঘুমিয়ে পড়ি ঊরুর উঠানে

আমি ক্রোধার্ত নই, ছিলাম না কখনো
জন্মের পর লতানো গাছের মত আমি বেড়ে উঠেছিলাম
ও পুই-পালং, ভাটফুল, জুঁই তারা
এই বিষণ্ণ রাতে আকাশের গায়ে কে ছড়ায় রঙ এমন
পাগলপারা!

২৫.০৩.২০১৯

হাড্ডিসমগ্র-১

১।
ঈশ্বরের ঘরের চারপাশে পাহারাদার না রাখা নিছক বোকামি
তবে তাঁদের ধর্মহীন হতে হবে, নইলে তাঁদেরও কাজ বাদ দিয়ে সেজদায় পড়ে
থাকার সম্ভাবনা আছে
২।
ভবিষ্যৎ উদ্যানের দিকে মুখ করে গাড়ি চাপায় মরে যায় এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র
ড্রাইভারের মুখও ভবিষ্যৎ উদ্যানের দিকেই হা করা

বাংলাদেশের মানুষকে আমজনতা না বলে কাঁঠালজনতা বলা ভাল
কাঁঠাল আমাদের জাতীয় ফল
৩।
মহাশয়, আপনি বড়ই অদ্ভুত! বেশি করে তরমুজ খান
মানুষ বানানো কয়েক মিনিটের ব্যাপার মাত্র




কোথাও আনন্দ নাই, কেবল মাতাল হওয়া আছে


যে ছবিটা আমি আঁকছি তুমি দেখতে পাচ্ছ না
না দেখা মৃত্যুতে কান্নার কিছু নাই।   তোমার
পায়ের কাছে একটা ঘাসফড়িং দেখে    কিযে
হিংসা হল কাল। তুমি নয় আমি ঘাসফড়িঙের
চুম্বনের কাঙাল

মেঘের হত্যা দেখে তুমি ঠ্যাং নাচাও কেন্
বৃষ্টিতে উদাম নাচে আত্মহত্যাপ্রবন ব্যাঙ
থামো, এইসব রঙচঙ রঙঢঙ ভড়ং থামাও
কে যায় ওপারে, ওভাই-আমারেও নাও

নিজের ছবি আঁকতে গিয়ে একটা অনতিক্রম্য
রেখা দাঁড়িয়ে যায় পথ আগলে, আমি  পাহাড়
ঠেলে একটা নদীর আনন্দ ধ্বনিতে ডুব  দেই
আনন্দগুলো কান্নার মত, কান্নারা জোছনা কণা

মৃত্যুর দিকে যেতে হলে এইসব ঘাট আপনাকে
পেরুতেই হবে। কবি কিংবা খুনি, দুজনেই শিল্পী

১৭.০৯.২০১৮