Wednesday, October 30, 2019

জীবন একটা কবিতার চেয়ে বড় কিছু নয়


কেউ কি জানে সে কী চায়? আমিও কি জানি?
তোমাকে মুহূর্তের জন্য ভুলে গেলে কেমন শিহরন দিয়ে
জেগে উঠি। একটা প্রতিমা সাজিয়েছি জীবনভর
নিজেরই হৃৎপিণ্ড তাতে সেঁধিয়ে দিয়ে
শূন্যতায় কান পেতে শুনি তারই ধুকপুক

নিজেকে অতৃপ্ত ভেবে খুঁজি তোমাতেই তৃপ্তি
কোথায় তুমি? তোমার নামে জ্যোৎস্নাকে করি অনাবৃত
হাঁটতে হাঁটতে সেই পুরোনো জাম গাছের নিচে
কুড়িয়ে খাই অর্ধেক খাওয়া জাম। কোথায় তুমি?
তোমার নামে ভিজি বৃষ্টিতে, ভিজি সৃষ্টিতে
নিজেকে দাঁড় করিয়ে রেখে শরীরের বাইরে
সেঁধিয়ে যাই আরেক শরীরে। কোথায় তুমি?
রাস্তায়, স্কুলের গেটে, সিঁড়ির ল্যান্ডিং এ
তোমার স্মিত হাসি, তবু মেলে না

এত যে তোমাকে খুঁজি, সে তুমি কোথাও নাই
কী বিস্ময়! স্ত্রী পাশ ফিরে শুয়ে থাকে
মেয়েরা বড় হতে হতে দূরে সরে যায়
আমি কবিতার টেবিলে, পৃথিবীর ডানা হতে থাকে ক্ষয়

জীবন একটা কবিতার চেয়ে বড় কিছু নয়

২০.১০.১৯

‘অনুদ্ধারণীয়’


অমিত, আমি জানি কেন আপনি কবিতার ধ্বংস চান
কেন আপনি প্রতিষ্ঠানের ধ্বংস চান, এমনকি রাষ্ট্রের

আপনি হয়তো জানেন না আমিও কবিতা লিখি
কী লিখি জানিনা, জানাতেও চাই না আমি পৃথিবীকে

কিন্তু কবিতার যন্ত্রণা থেকে আমি কিছুতেই মুক্তি পাই না
অফিস থেকে ছুটি নিয়ে ঘরে বসে থাকি, তবু অসহ্য ঠেকে
পত্রিকার হেডলাইন, টেলিভিশনের লাইভ স্ট্রিমিং, মানুষের
পিটিয়ে মানুষ হত্যা, বসার চেয়ার, ল্যাপটপ, বোবা দেয়াল অসহ্য ঠেকে

মসজিদ মন্দির প্যাগোডা গির্জায় আমি মানুষের মুখ দেখি
চোখ দেখি আর দেখি কবিতার দহন, আরাধ্য জীবন আর যাপনের পীড়ন

আইফেল টাওয়ারের উপর দাঁড়িয়ে পেচ্ছাব করে দিয়ে
জাতিসংঘের পতাকা ভিজিয়ে দিলেও টিপ টিপ সেই পেচ্ছাব
মানুষেরই উপর পড়বে।
অমিত, আপনার পিস্তল ঘুরিয়ে নিজেরই দিকে তাক করুন
কেননা আপনিও কবি।
এইসব বেজন্মা ভাব ভাবান্তরই কবিতা (কিংবা ঈশ্বর)

হে ঈশ্বর, আপনাকে, হ্যাঁ আপনাকেই বলছি
পরবর্তী প্রলয় না হওয়া পর্যন্ত আপনি বরং ঘুমান
উদ্ভাসিত ইতিহাসের যে চোরা রক্তস্রোত
তার থেকে পরিত্রাণ নেই ভবিতব্যেরও। তবু
বিষণ্নতার গহ্বরে কবিতার মদিরা (কিংবা ঈশ্বরের)
আমাদের আচ্ছন্ন করে রাখুক

একটা ‘অনুদ্ধারণীয়’ সন্ধ্যা’র পরে
সারারাত আমি কবির মৃতদেহের দিকে তাকিয়ে থাকি
কিছু মাছি ভনভন করে কেবল, লোবান নিষিদ্ধ এখানে


(কবিতার নামকরণ বুদ্ধদেব বসু’র ছোটগল্প ‘অনুদ্ধারণীয়’ থেকে নেয়া। কবিতার আলোও মঞ্চায়িত ‘অনুদ্ধারণীয়’ থেকে জ্বলে উঠা স্ফুলিঙ্গ থেকেই)