Saturday, April 18, 2020

গল্প


আমার গল্প পড়ে আপনার ভালো না লাগলে আপনি আমাকে গল্প শেখাতে লাগলেন, তারপর সাদাত হোসাইনের বইয়ের পৃষ্ঠার ছবি পাঠালেন। আপনার পাঠানো পৃষ্ঠা আমার পছন্দ হলো না।
আপনি বললেন কী কঠিন সত্য তিনি অবলীলায় বলে দিচ্ছেন গল্পে। আমি বললাম আমি তো সত্যই জানি না। আমি তাঁর ভালো পাঠকও না। আপনি আমাকে তাঁর কবিতার কথাও বললেন, আমি বিনয়ে দূরে থাকলাম। আপনি আমাকে জীবনের পরতে পরতে কীভাবে গল্প লুকিয়ে থাকে জানালেন। আমি জীবন নিয়ে আমার অজ্ঞতার কথা আপনাকে জানালাম।
আমি মান্টো পড়ছিলাম। সাদাত হাসান মান্টো। প্রেম ভালোবাসা শরীর, এইসব নিয়ে আপনি কথা বলছিলেন। মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ পড়ে আমারও শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছিল
আমি বললাম আমি কিছু জানি না। আমাকে মাফ করবেন, প্লিজ

১৫.০৪.২০২০

Tuesday, April 14, 2020

একজন প্রকৃত কবির পাগল বিষয়ক সতর্কতা


হ্যাঁ, আমার মত করে দাঁড়ান, অথবা
আপনি চাইলে আমি আপনার মত
তবে
ঠিক দূরত্বে

শান্তিনগর মোড়ে, বাজারের দিকে
পাহারায় ছিল একটা আর্মির গাড়ি, আর কিছু পুলিশ
একটা পাগল আঙুল উঁচিয়ে চিৎকার করে
চুদে যাচ্ছিল আর্মির মা-কে, পুলিশের মা-কে
আর লুঙ্গি উঁচিয়ে দেখাচ্ছিল পাশের কিছু সব্জি বিক্রেতা মা-কে
কেউই কিছু দেখছিল না, কেউ এই পৃথিবীর নয়

এক মিটার দূরত্ব রেখে, প্রায় অর্ধ-বৃত্তাকারে, আমি পাগলকে পার হয়ে গেলাম
ভাগ্যিস আমার মা বেঁচে নেই

হ্যাঁ প্রিয় ঈশ্বর, আমার মত করে দাঁড়ান
অথবা আমি আপনার মত করে
তবে
দূরত্ব ঠিক রেখে

এবং
এই দুঃসময়ে পাগলের চোখ এড়িয়ে চলাই যৌক্তিক হবে

০৪.০৪.২০২০

Wednesday, April 1, 2020

শব্দ


শব্দ বিষয়ে আমার সাথে সতর্ক হবেন আশা করি। শব্দ প্রায়ই আমাকে সারারাত জাগিয়ে রাখে তার বেদনা শোনাবে বলে। আমি কান পেতে তার বেদনা শুনি, আমি চোখ মেলে তার রক্তাক্ত শরীর দেখি। নির্ঘুম আমি সারারাত ধরে তার ক্ষত শুশ্রূষার ব্যর্থ চেষ্টা করে করে অমল ভোরের মদ গিলে খাই শেষমেশ। শব্দ আমাকে মাতাল করে।
আমি কাউকে কিছুই শোনাতে আসিনি, আমার শব্দেরা একা এবং অবিচল। আমার শব্দেরা স্বাধীন এবং দ্বিধাহীন। আপনি আমাকে কবি মানেন কি না মানেন, কী এসে যায় আমার। আমি যে জীবন যাপন করে গেছি, সে জীবন কবিতার। আমার প্রেমে যে অপ্রাপ্তির তিলক, সে প্রেম কবিতার। আমার হৃদয়ে যে রক্তাক্ত ক্ষরণ, সে রক্ত কবিতার।

আমার শব্দেরা আপনার অক্ষমতার দায় কেন নেবে?


০৫.০৩.২০২০

দায়


কথা হচ্ছিল দায় নিয়ে, যখন বদ্ধতা
আমাদের ছিবড়ে খাচ্ছিল। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী
ছাত্র ছিল যে, তাঁকে আমরা ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলে ডাকতাম।
এই বদ্ধতা কতটা বদ্ধ আমাদের ঠিক জানা ছিল না
যদিও উন্মাদের মানে আমরা জানতাম।
            
আজকে বদ্ধতার অর্থও আমরা জানি, যেমন অনেকেই
মুক্তির অর্থ জানে। সব অর্থের আবার একরকম অর্থও
হয় না। যেমন মিশেল ফুকো, আপনি অর্থ হয়না জেনেও
কী অবলীলায় বললেন ‘উন্মাদনা হলো কার্যের অনুপস্থিতি’

লেখকের দায় নিয়ে আমাদের আলাপ চারিত হল
কিন্তু বাঁধা গেল না। শেষমেশ কার্যের উপস্থিতি কামনা করে
আমাদের উন্মাদনা রহিত হল কিনা, তাও ঠিক বোঝা গেল না

০১.০৪.২০২০