Friday, September 30, 2011

কৃষ্ণকায়া

বুকের ভেতর এসিড বৃষ্টি একটানা এফোড় ওফোড়
করে চলেছে হৃদয়, এতোটা অরক্ষিত আমি
প্রতিরোধের ছাতাটাও বিকিয়ে দিয়েছি সস্তায়।

করজোড়ে দাঁড়িয়ে আছি দুয়ারে তোমার, সাধ্য কি
মুখ তুলে বলি ‘ক্ষমা চাই’।
কায়া, যদিও ছায়াই কেবল- তবু কি আর
সাহসে কুলোয় সীমানা ডিঙ্গাই।
প্রহত হৃদয় তোমার কিছুতেই জুড়ায় না জানি
কিংখাব রাতের শেষে কি করে রুচিহীন শব্দ মনে আনি-
চলেই যাও যদি কিছু বলে যাও তবু
অকারণ খেলায় আজ হৃদয় কেমন কাবু।
কিছু বলে যাও, অন্তত কিছু একটা যা ইচ্ছে হয়
নির্বাক অবহেলায় দেখো বাঁচে না হৃদয়।
দুবাই, ২৮-০৯-২০১১

Monday, July 25, 2011

কবিতা কখনও বিকোয় না

আজন্ম মগজে লালন করেছি যে স্বপ্ন
সে সাপ নয়, ঘাসফড়িং
জ্যোতস্না রাতে জোনাক জ্বেলে পরীক্ষায় বসেছি বলে
উত্তরপত্রের খাতা হয়ে যায় সবুজ মাঠ।
মগজের খেলায় পেরে উঠি না বলে
আমার আজন্ম অমরাবতী মই বেয়ে উঠে যায় অন্য হৃদয়ে।
অর্বাচীন মগজের এই আমাকে আজকাল সাড়া দেয় না
এমনকি মুঠোফোন অথবা ক্ষুদেচিঠি
হৃদয়ের উত্তাপে অতর্কিতে ছোবল দেয় মস্তিষ্কের সাপ।
কিছুই পারিনা বলে আমি হতে চাই চলমান মেঘদল, বোদলেয়ার
কিছুই হয় না বলে নতজানু আমি হয়ে যাই শামসুর রাহমান।
কবিতা কখনও বিকোয় না,
যে বিকোয় সে মরে যায়-

তবে বন্ধু, এসো কবিতায় নামি
কবিতায় হাসি কবিতায় কাঁদি কবিতায় করি যুদ্ধ
কবিতার খেলায় মগজের আজ
হয়ে যাক বাকরুদ্ধ।

দ্রষ্টব্যঃ বোদলেয়ার ও শামসুর রাহমান হতে চাওয়া ও হয়ে যাওয়া একান্তই ‘কবিতা’ অর্থে, কোনভাবেই হতে চাওয়া ও হয়ে যাওয়ার ধৃষ্টতা নয়।
১০-০৭-২০১১

ক্ষমা

ক্ষমা করে দিলে কিছুই থাকে না বাকি
ক্ষমাহীন তবু থাকে কিছুটা প্রেম, কিছুটা ফাঁকি।

কবি ও মাছরাঙ্গার গল্প

(বন্ধু সোহেইল মুশফিক এর কবিতার উত্তরে)


এই ভয়ংকর পুঁজিবাদী যুগে
কবিতাও হয়ে গেছে পন্য, কবিরা
হৃদয়ের কপাট বন্ধ রেখে খেলে মস্তিষ্কের সাপলুডু।
নপুংশক রাতে সুবর্ন রেখা একা বিছানায়
ভিজে যায় লেপের ওমে, কবি
ছিঁড়ে খুড়ে অন্তর্জাল করতলে জমা করে নষ্ট বুনোজল।


পুঁজির প্রতিপক্ষ অনিবার্য ভাবে পুঁজি বলেই
কবিতার প্রতিপক্ষ মাছরাঙ্গা হয় না কখনো।
ফরাসিয় মদ আর বঙ্গীয় দুধ এক হয়ে যায় বলেই
উলম্ব অভিলম্ব দলন আর কবির শিল্পিত ঢেঁকুরে
যোগেনের বউ হয়ে যায় বেহূলার ভেলা নিষ্পাপ ভোরে।
মশ্তিষ্কের সাপলুডু খেলা কবির তীক্ষ্ণ সর্পদন্তে
জ্ঞানতাপস শব্দেরা কাশবন ছেড়ে নির্ঘুম রাত কাটায় বাঁশবনে
জীবনানন্দের ‘কচি তালশাঁস’ হয়ে যায় লজ্জাবতী লতা।
পুঁজির প্রতিপক্ষ পুঁজি বলেই
পুঁজিতেই পুঁজির বিনাশ
কবিতার প্রতিপক্ষ মাছরাঙ্গা নয় বলেই
বেহূলার ভেলায় বসে
মাছরাঙ্গা খুঁজে ফেরে পরের গ্রাস।

০৯-০৭-২০১১

Thursday, April 14, 2011

নারীর কান্না

চারিদিকে মিইয়ে আসা দিন। অথবা
আরেকটা রাত্রির শুরু। আবছা
সংসদ ভবনের চাতালে বসে আছি।তুমি আমি
আমরা এক সাথে কাজ করি, সহকর্মী
কিছুএকটা গড়ার চেষ্টা করছি, ইতিমধ্যে
ছোটখাটো একটা বোঝাপড়া হয়েই গেছে নিজেদের গড়ার।
আমরা বসে আছি পাশাপাশি
দিনরাত্রির সঙ্গমের উষ্ণতা চারপাশ ঘিরে
তুমি তোমার হাতটি আলতো তুলে ধরলে আমার সামনে
চোখে তোমার ঘোরলাগা সন্ধ্যা।

ঘোরের মধ্যে তোমার হাতটি চলে এলো আমার হাতে
পাজর ছিঁড়ে ঢুকে গেলো হৃদপিন্ডে। এই ভর সন্ধ্যে বেলায়
ভোরের কুয়াশা ঢুকে যেতে লাগলো আমার চোখে, বুকে
আমি সহস্র বছর ধরে দুহাতের তালুতে একটা হাত ধরে বসে রইলাম।

সহস্র বছর পর আমার যখন তোমার দিকে তাকানোর সুযোগ হল, দেখি
তোমার চোখে জল। গাল বেয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তোমার চিবুক
আমি তোমার হাত ওষ্ঠে ছুঁয়ে অনন্ত কাল ধরে তোমার চোখের জল দেখতে থাকলাম

০ ০ ০ ০ ০


এরপর আমাদের প্রেমের অনেক ডালপালা গজিয়েছে
আমরা যখন একটা পরিণতির দিকে যেতে চাইলাম
তুমি তোমার পুরোনো প্রেমিকের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে।
অনেক নির্ঘুম রাত, বিশ্বাস অবিশ্বাস সততা অসততার যুক্তিতর্ক শেষে
তুমি যখন আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে, আমি তোমাকে সেই সন্ধ্যের কথা
স্মরণ করিয়ে দিলাম।
তুমি কিছুটা সময় নিয়ে আনমনে বললে
‘এমন চোখের জল আমি অনেকের জন্যে ফেলেছি’
এবারও ভোরের কুয়াশার মতো করে
এন্টার্টিকা মহাদেশের সমস্ত তুষার ঢুকে যেতে লাগলো আমার বুকে-
আমি স্থির বসে আছি, স্থানু।

Tuesday, March 29, 2011

মর্তের স্বর্গ

(আমেরিকা প্রবাসী বন্ধু শামীম কে)

শামীম, আজ হঠাৎ মনে হল, আরে
তুই তো স্বর্গে আছিস!! যেহেতু আমি
তুই আর আমি,
অথবা আমরা
পরকাল অথবা স্বর্গে বিশ্বাস করি না
সুতরাং তুই তো এই মর্তের স্বর্গেই বাস করছিস এখন।
মর্তের স্বর্গ
সুতরাং এটাই তো একমাত্র স্বর্গ।
কাদের পছন্দ করিস তুই ওখানে
হুর না গিলমান
নাকি এখনও হা করে চেয়ে আছিস মৃত্যুপুরীর কুৎসিত
নারীটির দিকে, কবে তাকেও দিতে পারবি স্বর্গের টিকিট।
হা নচ্ছার, তোকে দিয়ে আর হয় না-
কি করে যে টিকিট পেলি তুই?

নাকি এমনই হয়
এমনই হবে
তোরাই গড়ে তুলবি প্রকৃত স্বর্গ।

২০ আগস্ট, ২০০৭
দুবাই

Monday, March 28, 2011

আমার মায়ের কবর

সামনে ইউক্যালিপ্টাস
তারপর মাঠ
তারপর শহীদ মিনার।
তোমাদের ওই শহীদ মিনারের দিকে তাকালেই
আমার মায়ের কবরের কথা মনে হয়।
জানিনা আমার মা ফাগূনেই মরেছিলেন কিনা,
আমার মায়ের মৃত্যুতে তোমরা শোকার্ত হয়েছিলে কিনা-
শুধু জানি, আমার মায়ের কবর আজ নিশ্চিহ্ন।
তবু কেন জানি মনে হয় তোমাদের ওই শহীদ মিনারই আমার মায়ের কবর
ওই লাল ইটের মাঝে আমার মায়ের শব লুকিয়ে আছে।
কখনও ইচ্ছে হয়, হৃদয়ের সমস্ত ফুল দিয়ে ওটাকে ভরে ফেলি
আবার কখনও প্রচন্ড রাগ হয়-
কেননা আমার মা কখনও আমাকে মাথায় হাত বুলিয়ে দেননি
কখনও বলেননি, খোকা তুই কত বড়ো হয়ে যাচ্ছিস-

এখন এখানে নিত্য আমি একা জীবনের সঙ্গে কঠিন যুদ্ধে লিপ্ত
আকাশ আর পাখির সাথে আমার অনেকদিন কথা হয় না,
নিত্য আমার সঙ্গী অস্থির কল্পনা
আর ওই দূরে দাঁড়িয়ে থাকা শহীদ মিনার।

১২।০২।১৯৮৮
কোটবাড়ী, কুমিল্লা