(সাভারের ভবন ধসে নিহত প্রায় দেড় হাজার মানুষের
পাশাপাশি কায়কোবাদ সহ সকল মানবিক ইশ্বরের উদ্দেশ্যে)
আমার পা সরেনা, হাত নড়েনা
প্রায় পক্ষকাল আমি মেতে আছি নির্দয় মানবিক ভোগে
নির্বাক আমি লাশের পর লাশ দেখি, মৃত্যুকূপ থেকে বের
হয়ে আসা লাশ।
দূরনিয়ন্ত্রিত বোতামে ঘুরি রানা প্লাজার উপর থেকে নিচ
ভাষ্যকারের করুণ বাক্যবান আমাকে আপ্লুত করে প্লাবিত
করে
আমি কাঁদি আমি কাঁদি, আমার পা সরেনা হাত নড়েনা
আমার বোধেরা সব নির্বোধ নিষ্প্রাণ,
সবল আমি মানবিক বৈকল্যে হয়ে যাই নিশ্চল জড়।
মনে মনে করুণ পংক্তি বানাই, তবু আমার পা সরেনা হাত
নড়েনা।
সক্ষম আমি অক্ষমতার প্রায়শ্চিত্ত করি ফেসবুকে, আর
ওদিকে
শত শত মানবিক ইশ্বর জেগে উঠে।
যে মুহূর্তে আমি লাইক দেই আর নিছক ব্যাক্তিগত
আবেগি সুখে লিখে চলি আর্ত কবিতা অথবা দুর্বিত্তায়নের
বয়ান, সেই মুহূর্তে
শত শত ছেনি ছেনে চলে কংক্রিটের স্লাব।
যে মুহূর্তে নিজের আবেগি লেখায় তুষ্ট হয়ে অপক্ষা করি
একেকটি লাইক এর
সেই মুহুর্তে শত শত মানবিক ইশ্বর
জীবনের মায়া তুচ্ছ করে কাঁধে তুলে নেয় রক্তাক্ত জীবন।
নুপুর পরা কিশোরির পা যখন পদাঘাত করে এই আলোকোজ্জ্বল
সভ্যতার মুখে
সেই মুহূর্তে আমি
এই ভন্ড জীবনবাদী কি দারুণ বেঁচে থাকি নির্ভার।
যদিও জানি
আমার কবিতারা কেবলি ব্যক্তিগত মানবিক ভোগ আর
অতিমানবিক পংক্তিমালা কেবলি নির্দয় উপহাস
তবু ধাতব যন্ত্রে নিজের আঙ্গুল থেতলে দেয়ার পরিবর্তে
এখনো লিখছি এই জন্য যে
আমার সকল অক্ষম পংক্তিমালা তোমার পদতলে পিষ্ট হতে হতে
একদিন হয়ে যাবে সবল বজ্রমুষ্ঠি।
কায়কোবাদ, হে ইশ্বরের ও অধিক মানবিক অধিশ্বর।
তুমি বেঁচে থাক মানবতায়
আর আলোকবর্তিকা হয়ে জেগে থাক এই অন্ধকার নর্দমায়।
১৫.০৫.২০১৩