Friday, July 5, 2013

উড়ন্ত চুম্বন


এই চুম্বন কি ছুঁয়েছে তোমার ঠোঁট
এই চুম্বন কি ছুঁয়েছে তোমার বুক
এই চুম্বন কি ছুঁয়েছে তোমার শরীর

এই চুম্বন তুমি লুকিয়ে রেখো নারী
এই চুম্বন কেবল আবেগের বাড়াবাড়ি।
এই চুম্বন তুমি লুকিয়ে রেখো আষ্টেপৃষ্টে গায়
ঝড় বাদলের দিনে দেখো ধুয়ে যেনো না যায়।

এই চুম্বন কেনো সেই চুম্বন নয়
সে এক জটিল ধাধা
এই চুম্বন মানে তোমার জন্য
জনম জনম কাঁদা।

দাহকালঃ ১৯৯৬

রচনাকালঃ ২০১৩

আমার কবিতারা পিষ্ট হোক তোমার পদতলে হে মানবিক ইশ্বর

(সাভারের ভবন ধসে নিহত প্রায় দেড় হাজার মানুষের পাশাপাশি কায়কোবাদ সহ সকল মানবিক ইশ্বরের উদ্দেশ্যে)

আমার পা সরেনা, হাত নড়েনা
প্রায় পক্ষকাল আমি মেতে আছি নির্দয় মানবিক ভোগে
নির্বাক আমি লাশের পর লাশ দেখি, মৃত্যুকূপ থেকে বের হয়ে আসা লাশ।
দূরনিয়ন্ত্রিত বোতামে ঘুরি রানা প্লাজার উপর থেকে নিচ
ভাষ্যকারের করুণ বাক্যবান আমাকে আপ্লুত করে প্লাবিত করে
আমি কাঁদি আমি কাঁদি, আমার পা সরেনা হাত নড়েনা
আমার বোধেরা সব নির্বোধ নিষ্প্রাণ,
সবল আমি মানবিক বৈকল্যে হয়ে যাই নিশ্চল জড়।

মনে মনে করুণ পংক্তি বানাই, তবু আমার পা সরেনা হাত নড়েনা।
সক্ষম আমি অক্ষমতার প্রায়শ্চিত্ত করি ফেসবুকে, আর ওদিকে
শত শত মানবিক ইশ্বর জেগে উঠে।
যে মুহূর্তে আমি লাইক দেই আর নিছক ব্যাক্তিগত
আবেগি সুখে লিখে চলি আর্ত কবিতা অথবা দুর্বিত্তায়নের বয়ান, সেই মুহূর্তে
শত শত ছেনি ছেনে চলে কংক্রিটের স্লাব।
যে মুহূর্তে নিজের আবেগি লেখায় তুষ্ট হয়ে অপক্ষা করি একেকটি লাইক এর
সেই মুহুর্তে শত শত মানবিক ইশ্বর
জীবনের মায়া তুচ্ছ করে কাঁধে তুলে নেয় রক্তাক্ত জীবন।
নুপুর পরা কিশোরির পা যখন পদাঘাত করে এই আলোকোজ্জ্বল সভ্যতার মুখে
সেই মুহূর্তে আমি
এই ভন্ড জীবনবাদী কি দারুণ বেঁচে থাকি নির্ভার।

যদিও জানি
আমার কবিতারা কেবলি ব্যক্তিগত মানবিক ভোগ আর
অতিমানবিক পংক্তিমালা কেবলি নির্দয় উপহাস
তবু ধাতব যন্ত্রে নিজের আঙ্গুল থেতলে দেয়ার পরিবর্তে
এখনো লিখছি এই জন্য যে
আমার সকল অক্ষম পংক্তিমালা তোমার পদতলে পিষ্ট হতে হতে
একদিন হয়ে যাবে সবল বজ্রমুষ্ঠি।

কায়কোবাদ, হে ইশ্বরের ও অধিক মানবিক অধিশ্বর।
তুমি বেঁচে থাক মানবতায়
আর আলোকবর্তিকা হয়ে জেগে থাক এই অন্ধকার নর্দমায়।

১৫.০৫.২০১৩


বৃষ্টির কবিতা


১।
বুকের ভেতর বৃষ্টিআর সঙ্গে মিঠু ।
আমরা যখন নীলখেত পেরুচ্ছিলাম হঠাৎই
আকাশ ভেঙ্গে  ঝুম বৃষ্টি। রিকশাওয়ালাকে
কসরত করতে হচ্ছিলো বৃষ্টির হাত থেকে
জমানো টাকা পয়সা বাঁচাতে। নতুন করে
ভেজার ভয় ছিলো না আমার আর মিঠুর কারোরই।

বরং বৃষ্টিই কখনো কখনো শুকিয়ে দেয় অনেক কিছু।

২।
ঢাকা শহরের ড্রেনেজ সিস্টেম খুবই নাজুক
সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবে যায় রাস্তাঘাট, ফুটপাত।
অঝোর বৃষ্টিতেও দেখো
আমার ভেতর কেমন শুকিয়ে কাঠ।

৩।
শহর জুড়ে ঝড়, আমার ভেতরে ঝঞ্ঝা
আজকাল শহরও শব্দ করে কাঁদে
কোনো কোনো বোকা মানুষ তাও পারে না।

৪।
 আমার কাছে স্মৃতি মানে বৃষ্টি
নষ্টালজিয়া মানে বৃষ্টিপাত।

৫।
 বৃষ্টি মানেই আর্দ্রতা, নারী মানেও তাই

৬।
তুমি আমি আর বৃষ্টিতে
রাতভর এই সৃষ্টিতে,
শরীর জুড়ে ইমন রাগ
রাগ মোচনে রাত্রি যাক।
রাত্রি এতো ছোটো কেনে
এসব কি আর শরীর জানে?
বাদল দিনে অফিস কি আর
মেঘলা শরীর বৃষ্টি নামাক।

১৪।০৬।২০১২

জোছনা ও জনকের জন্যে শোকগাথা

(হুমায়ূন আহমেদের মহাপ্রয়ানে)

কাল রাতে হঠাৎ করেই স্তব্ধ হয়ে গেছে সময়
কাল রাত এগারোটা বিশ মিনিটের পর কিছুই এগুচ্ছে না আর। ঘড়ির
কাটা থেমে গেছে ঊনিশে জুলাই এগারোটা বিশ মিনিটে। বিশে জুলাই
এর জন্যে অপেক্ষারত আমার স্ত্রী আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতায় কী বিপুল
বিষন্নতায় আটকে আছে;
ধারালো নখের কাঠঠোকরাও বিহ্বল আজ টেলিভিশনের পর্দায়


শোকাতুর চান্নিপসর রাইত আগেই বিদায় নিয়েছে বেলভ্যু হাসপাতালে
ভারাক্রান্ত বৃষ্টিও লুকিয়ে কাঁদছে কোথাও দূরে । ভাগা হলুদ পাঞ্জাবি দেখো
কেমন নিষ্প্রাণ ভবঘুরে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘরে মিসির আলী একা নিজেরই শব কাধে হামাগুড়ি দেয়
ঘরে ঘরে বৃষ্টি শুধু, অমানিষা শহরময়।

স্তব্ধ সময়, বাতাসে জাম গাছের পাতার শর শর শব্দ’ হয়
একঘেয়ে কান্নার সুরের মত শোকগাথা লিখে চলে
বাংলাদেশের হৃদয়!!





২০।০৭।২০১২

দৌড়


মাতাল রাতে মদিরা কাঁপে হাতে
ভোরের কুয়াশায় আচ্ছন্ন নীল আলো
বায়বীয় সীসা ছুঁয়ে যায় তোমার শরীর
ভরতনাট্টমেও পারঙ্গম তুমি, মাতাল ঠোঁটে বেজে ওঠে কামনার শীশ।
কৃত্রিম হাওয়ায় তুমি হয়ে যাও মেরিলিন মনরো-
তবু আমাকে বাঁধে না কেউ
           স্বপ্নময়ী রাত, তুমি হয়ে যাও মায়াবী বিকেল।
আতাফল গাছ পার হয়ে তোমার নৃত্যরত উদোম পা
দোড়ে পার হয় বোর্ডিং স্কুল, তুমি ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাও কাঠের মানুষ!!

পঁচিশ বছর
ভালবাসা তবু বেচে থাকে, প্রেমে অপ্রেমে


১০।১০।২০১১