Wednesday, January 17, 2018

দুঃখের চেয়ে তোমার ক্ষীণকটি বেশি গভীর

কত সমস্যা, এটা কোনো জীবন হল
পেঁয়াজের দাম শুনে পেনশনের টাকায় বাজার করা বৃদ্ধ
কেমন নুয়ে পড়লেন। আমি পাশে দাঁড়িয়েও তাকে
ছুঁতে পারছিলাম না। জনৈকা শিক্ষিকা সন্তান না হওয়ার দুঃখে
দেশ ছাড়বেন বলে শুনছি, তাঁর সন্তান না হওয়ার চেয়ে
আনুষঙ্গিক দুঃখগুলো বেশি গভীর।

আমাদের চকমকে জীবনের সিঁড়ির হাতলগুলো দু:খের তৈরী
আমাদের অফিসের চেয়ার গুলো দু:খের, ঘরের
দরজার পাল্লাগুলো দুঃখের, জানালার ছিটকিনি দুঃখের
আমাদের সন্তানদের আমরা পরিয়ে রাখি দুঃখের কাইতন
রাতে যেঘরে ঘুমাই, তার অল্পদূরে
কাঠগোলাপের পাপড়ি গুলো সারারাত ভিজতে থাকে দুঃখের শিশিরে

গেল ডিসেম্বরে সমুদ্র ভ্রমনে গিয়েও আচমকা দেখা হয়ে গেল দুঃখের
রাতে ডিনার করতে গেলে বাইরের বেঞ্চিতে বসে থেকে সফেদ দুঃখ
তার উড়াল চোখ দিয়ে দেখছিল আমাদের

এতসব দুঃখের মধ্যেও তুই পাশ ঘেঁষে দাঁড়ালে, ও সুখ
অবহেলায় জড়াই তোর কটিদেশ, তারপর হারাই

একজীবন দুঃখের চেয়ে
তোর ক্ষীণকটি অনেক বেশি গভীর



Thursday, January 4, 2018

একটি রাস্তার অনুবেদন

নিজের নয়, রাস্তার ক্লান্তি নিয়ে ভাবি
খেতের আল ধরে চলতে চলতে গোপাট, বুড়ো গাবগাছ
আমার শৈশবে সন্ধ্যা হলে ওখানে ভূতের আসর জমতো
যদিও অনেক প্রশস্ত ছিল, ছিমছাম ছমছম
তারপর গলি ঘুপচি পেরিয়ে সদর রাস্তা

সদর রাস্তা বরাবরই ঝলমলে, রোদোজ্জল
আবার হুটহাট লোকচক্ষুর সামনেই
বৃষ্টির পানিতে পোয়াতি হয় খানাখন্দ, ফুলে ওঠা নাভি
চিকচিক করে রোদে, আবার ভাঙ্গে, গড়েও আবার

তারপর বামে লম্বা শুয়ে থাকে নদী, ডানে ফসলি মাঠ
শতবর্ষী বটগাছ। ভরদুপুরে বাদুড় গুলো ঠেকা দিয়ে রাখে আকাশ।
রাস্তা চলতেই থাকে, বামে সেই নদী, ডানে দলছুট ঘরবাড়ি
জমি জিরোত, তারপর কবর। আমাদের সকলেরই কবর
গ্রাম ছেড়ে একটু দূরে আমাদের সকলেরই পড়শি। বাবার
হাড়গোড় না জিরোতেই সন্তানের দৌড়, অপেক্ষায় জাবর কাটে
অনন্তের ঘর।

রাস্তা তবু থামেই না, সেই একই রকম ভাঙাচোরা, কখনো চকচকে,
কিছুদূর পরে জলের ঘাট, ঘরবাড়ি, আদিগন্ত ছড়ানো মাঠ

‘কে জানে তুই শেষ কবে হবি’

নিজের নয়, রাস্তার ক্লান্তি নিয়ে ভাবি

০৩.০১.২০১৮



ভুঁড়ি গোল, প্রেম জুতার ফিতার মত সরু, লম্বা

ইহার সাথে নারী পুরুষ সাম্যতার কোনো বিভেদ নাই !?! ইহা নিতান্তই প্রেম। ইহাতে নারী যেমন দিয়ে পুলক পান পুরুষ তেমনি পেয়ে, অন্যান্য প্রেমবিষয়ক ঘটনারই মত। নারীবাদী স্ত্রীরাও ইহার বাইরে নন। তবে যাহারা লোকসম্মুখে স্বীকার করতে লজ্জা পান তাহারা ইহাকে অভ্যাস বলে চালিয়ে দিতে পারেন। আপনার মাকে দেখেছেন আপনার বাবার জুতার ফিতা লাগিয়ে দিতে (যদিও আপনার বাবার ভুঁড়ি ছিল না বলেই প্রতীয়মান হয় এবং এই ঘটনার সত্যতাও প্রশ্নাতীত নয়), বাথরুম থেকে বের হওয়ার আগেই তোয়ালে জামা কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে, আপনিও বাবার চশমা জামা এগিয়ে দিয়েছেন কখনো সখনো, সুতরাং আপনার জান’এর জন্য ইহা অভ্যাস বশতই বলা যায়। নয় কি? আপনার এই প্রেমবিষয়ক লজ্জাকেও আমরা সম্মান করি। আমরা আরও সম্মান করি আপনার দৃষ্টিকে, চোখের দুইপাশে জেলখানার গ্রিল চেপে থাকলেও আবারিত প্রান্তর আপনি সরু লম্বা কোনো কিছু ছাড়াই দেখতে পান।

হাহা, ভাল থেক প্রিয় প্রেম।


০২.০১.১৮

প্রার্থনা

সমুদ্র মন্থনেও তুই
আকাশ যেখানে নেমে গিয়েছে
সেখানে প্রার্থনায় এক গাঙচিল
তাকে আমি ছুঁই

আকাশ আর তুই
নির্দ্বিধায় আমি ছুঁই


২৬.১২.২০১৭
কক্সবাজার

বৃত্ত

রাত সাড়ে দশটায় লাইটস অফ হয়ে গেলে, তারও অনেক পরে
রিডিং রুম এর ঝলমলে আলোয়, আলী ভাই
আমাদেরকে বৃত্তের কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ঈশ্বরকে ছুঁতে বলতেন।
মহামান্য ঈশ্বর আঙুলে ভালমত সুতো পেঁচিয়ে অকস্মাৎ
তাঁর লাটিমটি ছুঁড়ে দেন কেন্দ্রে। ভন ভন ঘুরতে থাকা ছাড়া
নেতিয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত মূলত আমাদের প্রাপ্তি শূন্য

আলী ভাই আমাদেরকে অ্যাডাম ফর অ্যাডাম বোঝাতেন
অ্যাডাম ফর ইভ বোঝাতেন। ব্রেকফাস্ট বা টি-ব্রেকে আমাদের জন্য
গন্ধম বরাদ্ধ থাকলেও ইভ ছিল সুদূর পরাহত। সুতরাং অ্যাডাম ফর
অ্যাডাম বোঝাটা আমাদের জন্য সহজসাধ্য ছিল।

আলী ভাই আরো কতো কিছু যে বোঝাতেন...আমাদের মাথায়
কিছু ঢুকতো কিছু ঢুকতো না।

পরে আলী ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স এ ভর্তি হয়েছিলেন

এসব তথ্য আমার জানার কোনো কারণই ছিল না
আমি যে মেয়েটিকে ভালবাসতাম সে গড়গড় করে এসব বলে যেত
যদিও টেবিল লিডার হয়েও ব্রেকফাস্টে বা টি ব্রেকে
আলী ভাইয়ের অতিরিক্ত গন্ধম খাওয়ার
কোনো অকাট্য প্রমাণ আমার কাছে ছিল না

এখন আলী ভাই কোথায় আমি জানি না, অনেকেই জানে না

আলী ভাই, আমরা যারা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি কিংবা অবিশ্বাস করি
প্রত্যকেই কেন্দ্রে ঘুরছি ভন ভন করে। মহামান্য ঈশ্বর পরিধি বরাবর হাঁটছেন
আর অকস্মাৎ ছুঁড়ে দিচ্ছেন লাটিম।

আলী ভাই আপনাকে অনেক দরকার ছিল যে...আপনি কোথায়

১৬.১২.২০১৭