রাত সাড়ে দশটায় লাইটস অফ
হয়ে গেলে, তারও অনেক পরে
রিডিং রুম এর ঝলমলে আলোয়,
আলী ভাই
আমাদেরকে বৃত্তের
কেন্দ্রে দাঁড় করিয়ে দিয়ে ঈশ্বরকে ছুঁতে বলতেন।
মহামান্য ঈশ্বর আঙুলে
ভালমত সুতো পেঁচিয়ে অকস্মাৎ
তাঁর লাটিমটি ছুঁড়ে দেন
কেন্দ্রে। ভন ভন ঘুরতে থাকা ছাড়া
নেতিয়ে পড়ার আগ পর্যন্ত
মূলত আমাদের প্রাপ্তি শূন্য
আলী ভাই আমাদেরকে
অ্যাডাম ফর অ্যাডাম বোঝাতেন
অ্যাডাম ফর ইভ বোঝাতেন। ব্রেকফাস্ট
বা টি-ব্রেকে আমাদের জন্য
গন্ধম বরাদ্ধ থাকলেও ইভ
ছিল সুদূর পরাহত। সুতরাং অ্যাডাম ফর
অ্যাডাম বোঝাটা আমাদের
জন্য সহজসাধ্য ছিল।
আলী ভাই আরো কতো কিছু যে
বোঝাতেন...আমাদের মাথায়
কিছু ঢুকতো কিছু ঢুকতো
না।
পরে আলী ভাই ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্স এ ভর্তি হয়েছিলেন।
এসব তথ্য আমার জানার
কোনো কারণই ছিল না
আমি যে মেয়েটিকে
ভালবাসতাম সে গড়গড় করে এসব বলে যেত
যদিও টেবিল লিডার হয়েও ব্রেকফাস্টে
বা টি ব্রেকে
আলী ভাইয়ের অতিরিক্ত
গন্ধম খাওয়ার
কোনো অকাট্য প্রমাণ আমার
কাছে ছিল না
এখন আলী ভাই কোথায় আমি
জানি না, অনেকেই জানে না
আলী ভাই, আমরা যারা ঈশ্বরে
বিশ্বাস করি কিংবা অবিশ্বাস করি
প্রত্যকেই কেন্দ্রে
ঘুরছি ভন ভন করে। মহামান্য ঈশ্বর পরিধি বরাবর হাঁটছেন
আর অকস্মাৎ ছুঁড়ে
দিচ্ছেন লাটিম।
আলী ভাই আপনাকে অনেক
দরকার ছিল যে...আপনি কোথায়
১৬.১২.২০১৭
No comments:
Post a Comment