এমন সব দিন, কোনো
কোনো দিন, নিজেরে মনে হয় বস্তুনিচয়
চেয়ার ছেড়ে
বিচ্ছিন্ন পড়ে থাকা একটা ভাঙা হাতল, কেউ দেখে
কেউ না দেখেই পার
হয়, এমন সব দিন, কোনো কোনো দিন
নিভাঁজ জামদানী
তুমি নিজেই পুরুষ, নিছক ছুঁয়ে থাকার ছল
সময় ঘুরিয়ে দিলে
আমি কই? আমি কি হয়ে যাই অন্য কেউ?
কোনো কোনো দিন,
এমন সব দিন, এমন করে সবকিছু মিথ্যে মনে হয়
তোমাকে ছুঁয়ে
দেখার নামে ছুঁয়ে দেই জলের কল, পুরোনো বই
তোমারও কী এমন
হয়? নিজেরে মনে হয় বস্তুনিচয়?
মানুষের চেয়ে
পাকা ধানের রঙ ভাবতে ভাল লাগে নিজেকে
কিংবা আলতো দুলতে
থাকা ফুল। কিংবা স্থির হয়ে যাওয়া
সেইসব স্মৃতি,
হাত উঁচিয়ে স্কুলের জানালার কবাট ছুঁতে ছুঁতে
হেঁটে চলা। ঘুম
ভেঙে গেলে স্বপ্নে খাওয়া বড়ই’র বিচি খুঁজতে
পকেট হাতড়ানো
কিংবা আড্ডার পিছনে একাকী তিন নম্বর লাল বল
এমন সব দিন, কোনো
কোনো দিন, ডুবতে ডুবতে ভেসে উঠি কাদাজল
যথেষ্ট জীবন নাই,
মনে হয় তারচেয়ে বেশি জীবন ছিল নদীর
রাতের কান্না
ঢাকতে জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়লে মাঠে, আমাদের
ঘরে ফিরে যেতে
হত, পাতার ফাঁক গলে ঝুলে থাকা দেখে
কীযে জ্যোৎস্না
হয়ে যেতে ইচ্ছে করতো আমাদের। সেই সব দিন
কোনো কোনো দিন,
জীবনেরে ছেড়ে ছুঁতে চায় অন্য জীবন
কিংবা জীবনই নয়
কোনো, হয়তোবা মেঘ
মেঘেরা সুরের মত,
সুরেরা মেঘ, জীবনের অন্য নাম সুখদ ক্লেদ
১০.১২.২০১৮