Friday, December 21, 2018

অঙ্ক নয় কলায়


যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ
আপাতত এই পর্যন্ত থাক। শোচনীয় তোমার অঙ্ক জ্ঞান
যদিও তোমাতেই শিখি ধারাপাত, করি পাললিক ধ্যান
কৃষ্ণপক্ষ রাতে ঠোঁটে ঝুলিয়ে রেখে পঞ্চমীর চাঁদ
বিভাজনের ঢঙে তুমি কর গুনিতক; সমুদয় প্রপাত
তোমার মুক্তবর্ণ স্তনে উঠে কবিতার ঝড়, অঙ্কে নয়
কলায় তুমি নিলাজ স্বয়ম্বর

তোমার চোখের মদে মাতাল হলে ভোর
পুরো কমলালেবু ভিজে উঠে, স্নাত হয় নিদান দুপুর

বিয়োগ গুণ ভাগ, আপাতত থাক
এসো ফোটাই যোগফুল, প্রেম আমাদের অবিভাজ্য হোক

২১.১২.২০১৮

Friday, December 14, 2018

এমন সব দিন, কোনো কোনো দিন


এমন সব দিন, কোনো কোনো দিন, নিজেরে মনে হয় বস্তুনিচয়
চেয়ার ছেড়ে বিচ্ছিন্ন পড়ে থাকা একটা ভাঙা হাতল, কেউ দেখে
কেউ না দেখেই পার হয়, এমন সব দিন, কোনো কোনো দিন

নিভাঁজ জামদানী তুমি নিজেই পুরুষ, নিছক ছুঁয়ে থাকার ছল
সময় ঘুরিয়ে দিলে আমি কই? আমি কি হয়ে যাই অন্য কেউ?
কোনো কোনো দিন, এমন সব দিন, এমন করে সবকিছু মিথ্যে মনে হয়
তোমাকে ছুঁয়ে দেখার নামে ছুঁয়ে দেই জলের কল, পুরোনো বই
তোমারও কী এমন হয়? নিজেরে মনে হয় বস্তুনিচয়?

মানুষের চেয়ে পাকা ধানের রঙ ভাবতে ভাল লাগে নিজেকে
কিংবা আলতো দুলতে থাকা ফুল। কিংবা স্থির হয়ে যাওয়া
সেইসব স্মৃতি, হাত উঁচিয়ে স্কুলের জানালার কবাট ছুঁতে ছুঁতে
হেঁটে চলা। ঘুম ভেঙে গেলে স্বপ্নে খাওয়া বড়ই’র বিচি খুঁজতে
পকেট হাতড়ানো কিংবা আড্ডার পিছনে একাকী তিন নম্বর লাল বল
এমন সব দিন, কোনো কোনো দিন, ডুবতে ডুবতে ভেসে উঠি কাদাজল

যথেষ্ট জীবন নাই, মনে হয় তারচেয়ে বেশি জীবন ছিল নদীর
রাতের কান্না ঢাকতে জ্যোৎস্না ছড়িয়ে পড়লে মাঠে, আমাদের
ঘরে ফিরে যেতে হত, পাতার ফাঁক গলে ঝুলে থাকা দেখে
কীযে জ্যোৎস্না হয়ে যেতে ইচ্ছে করতো আমাদের। সেই সব দিন
কোনো কোনো দিন, জীবনেরে ছেড়ে ছুঁতে চায় অন্য জীবন
কিংবা জীবনই নয় কোনো, হয়তোবা মেঘ

মেঘেরা সুরের মত, সুরেরা মেঘ, জীবনের অন্য নাম সুখদ ক্লেদ


১০.১২.২০১৮

Tuesday, December 4, 2018

কোথাও জন্মগন্ধ নাই


কোথাও জন্মগন্ধ নাই, নাই ছুঁয়ে দেখার মত শরীর
তবু বাতাস খুঁজি, ছুটে যাই
ঝড়ো হাওয়ায় ডালপালা শুদ্ধ কাঁপতে থাকলে
ফুল ঠিকই আঁকড়ে থাকে মৌমাছি

কবরের পাশ দিয়ে রাস্তাটা এখনো তেমনি আছে
একপাশে মাটি ধ্বসে গিয়ে বিশাল খাদ
পার হতে গিয়ে বুক কাঁপে, প্রতীক্ষার কাছ থেকে
ফিরে আসি, আবার জীবন

মানুষের হাড়, মানুষের মাংস, মানুষের জমাট রক্তে
পৃথিবী কী ভীষণ উর্বরা, ধানের শীষে কী ভীষণ মৃদুতাল
আম, জাম, হিজলের বকুলের শিরশিরে শীতলতায়
আমি পেরুতে থাকি মায়ের ঘর,বোনের ঘর, ইদানিংকার বাবার

স্থায়ী নিবাস পেরিয়ে শৈশবে হাঁটি, কিছুই নেই আর
কেবল কল্পনাই সার, দখিনের জানালা বরাবর খাল
নলখাগড়ার ভূতুড়ে বিলাপ। সেখানে হাঁটুগেড়ে বসে
যে মাটি আমি ছুঁই, সেই মাটি প্রিয়জনের মৃত্যুতে উর্বর
প্রতীক্ষা, আমাদের প্রতীক্ষা কেবল অনাগত সময়ের

বিস্ময়কর স্বপ্নে ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়া গ্রেনেডের মত রকেটগুলো
আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল ছেলেবেলায়। আজকাল সব অবান্তর

যে সরলরেখায় আপনি হাঁটছেন, নিচু হয়ে তার শেষে
আগে একটা পুটলি দিয়ে নিন

০৪.১২.২০১৮

ফেরা


তোমার যোগ্য নয় এ পৃথিবী, অথবা মানুষগুলো
এবং আমিও। তোমার যোগ্য হওয়ার জন্য আমি
শব্দহীন হতে চেয়েছিবিষাদে হয়েছি হত
তোমার আনত চোখে নতজানু থেকেছি, দুই হাত প্রসারিত

তুমি বৃক্ষতো নও! নাকি দুখিনী নদী
তোমার দুঃখে আমি বইছি নিরবধি

কাচের জানালায় তোমার মুখ। বাইরে অন্ধকার
আমি ফেরাতে পারিনা চোখ, আবার তাকাতেও পারি না
কী ভীষণ ঝড়ে বেঁকে যায় তোমার অনাড়ম্বর ঠোঁট!
কে বুঝিতে পারে, আমি ছাড়া! এই দ্বিচারি ছন্নছাড়া

ভবিষ্যতহীন পৃথিবীর পঙ্কিলতার দায় আমারও

জানি, তুমি ক্ষয়ে যাবে আরো, তোমার শীর্ণ হাত আর
কতটা নেবে পৃথিবীর ভার, আমাদের ইঁদুর দৌড় থেকে
পিছিয়ে থাকতেথাকতে থাকতেথাকতে থাকতেথাকতে
তুমি বেঁচে থাক হে ছায়াচ্ছন্ন ভোর...
শেষমেশ তোমার কাছে ছাড়া আর কোথায় ফেরার আছে আমার

ধ্বংস হতে হতে, ডুবতে ডুবতে অতঃপর
তোমার কাছেই গিয়ে ভাসব, তোমাতেই নির্বান

২৮.১০.১৮