হেলেনের জন্য যে ট্রয় নগরী ধ্বংস হয়ে গেল তাতে আমাদের এই অনুপ্রেরণা
ছিল যে আমরা গোটা গোটা অক্ষরে ভুল বানানে লিখতে শিখলাম ‘তুমি ছাড়া আমার জীবনের কোনো
মূল্য নাই’। ‘তোমার জন্য আমি করতে পারি না হেন কোনো কাজ নাই’ । সেইসব নাবালক যুগের
প্রেম। বালক যুগেও, এই অধম, যার ভাজা মাছ খাওয়ার শখ থাকলেও উল্টানোর সাধ্য ছিল না…তাকেও
গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া জনৈক প্রেমিক তার পৌরুষত্বের মহিমায় প্রেমিকাকে বগলদাবা
করে ‘আজ সুখে শান্তিতে বসবাস করিতেছেন’।
প্রেমের জন্য নয়ন বন্ড যে রাস্তায় দৌড়ে দৌড়ে কুপিয়ে মারল রিফাতকে,
সে রাস্তাটি আমার চেনা। প্রায় দশক দুই আগে এই রাস্তায় যখন কাজ হচ্ছিল, তখন, কোনো এক
বৃষ্টি দিনে, চারদিকে মেঘের গুরুগম্ভীর ডাকের মাঝে আমি ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে ছিলাম কোনো
এক গাছের আড়াল নিয়ে। আহা, চারদিকে মেঘ আক্রান্ত সূর্যের মায়ামায়া আলো। ফোঁটা ফোঁটা
বৃষ্টিতে খোদাই হচ্ছিল খালের জল, আবার মিইয়ে যাচ্ছিল। কানকোয় ভর করে করে পাশের খাল
ছেড়ে রাস্তায় উঠে আসছিল কই। মাতাল করা স্বরে ব্যাঙ ডাকছিল তার প্রণয়িনীকে।
সেই বরগুনার রাস্তায়, আরেক প্রণয় পিয়াসী, ক্ষমতাধর, ক্ষমতায়
উন্মাদ নয়ন বন্ড সবার সামনেই কুপিয়ে মারল রিফাতকে, রাষ্ট্রযন্ত্র নিজেই নিজেতে বিশ্বাস
হারিয়ে সরাসরি খুন করল তাকেও। এরপর জনগনের নগ্ন কিরীচের সামনে একা দাঁড়িয়ে প্রণয়িনী।
আমার সেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ মনে পড়ে। মানিকের ‘ভিখু’কে মনে
পড়ে। নিজের দিকে তাকালে বুঝি মানুষ আজও প্রাগৈতিহাসিক। আমাদের ‘মাংসল আবেষ্টনীর মধ্যে
যে গোপন অন্ধকার’ ‘পৃথিবীর আলো আজও তার নাগাল পায় নাই’, মানিক বলেন ‘কোনোদিন পাইবেও
না’। আমারও সংশয় জাগে, এইসব রঙ চং, রঙ ঢঙ, সভ্যতা ভব্যতা, এইসবের কী মানে আছে তাহলে?
০৩.০৭.২০১৯
No comments:
Post a Comment