Friday, October 9, 2020

প্রলোভন

ফিরে যাচ্ছি। উপরে উন্নয়নের মত প্রগলভ হয়ে
তৈরি হয়েছে ব্রিজ। ওয়াই এর মত ঠ্যাং
ছড়িয়ে বসত গেড়েছে নদীর মধ্যখানে। এই তিতাসের মৃত্যুও আসন্ন প্রায়!
 
আম্মার কবর চেনা যায় না, ঝোপঝাড়, গর্ত, পানি
আমার স্মৃতির মত দুর্গম। তবু দাঁড়িয়ে ছিলাম
স্মৃতিহীন, যেন আমি শূন্যতার উপাসক
 
আব্বার কবর নতুন। একটু উঁচুতে, হেঁটে উঠে
যাওয়া যায় সহজে। আছে বোনের কবর, দাদার…দাদীর
নতুন মৃত্যু পুরোনো মৃত্যুকে ভুলিয়ে দেয় সহজেই।
মৃত্যুর এই বিশেষত্ব, জন্ম থেকে আলাদা
 
এই গ্রামে এখন আর আমাদের বসত নাই, কেবল
মৃত-আমাদের বসত। এবং আব্বার পরে সেই বসতও অনিশ্চিত।
 
ক্লাস ফাইভে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়া খুশির দৌড়ে
যে রাস্তা থেকে পিছলে পড়ে গিয়েছিলাম অন্তত বিশ ফুট নিচে
সেইসব এখন সমতল, পাকা।
আমাদের বিশাল পুকুরও ভরাট হয়ে গেছে নদীর চিকচিকে বালিতে
 
নাইম কাক্কু আমাদের দেখাচ্ছিলেন সেই ভরাট হওয়া পুকুরের সমতল
পারে এখনো কিছু গাছ, কাচ মিঠা, ফজলি, জাম, তেঁতুল, বাঁশঝাড়,
আর কোনায় পারিবারিক কবরের জায়গাটায় একটা মাটির ঢিবি।
নাইম কাক্কু তাঁর অশরীরী হাত প্রায় বৃত্তাকারে ঘুরিয়ে বললেন
‘এখানে যেখানে ইচ্ছা তোমাদের বাড়ি বানাতে পার’, বলে তাকাচ্ছিলেন
আমাদের সন্তানদের দিকে, স্ত্রীদের দিকে, বোনদের স্বামীদের দিকে
 
শেষমেশ আমার দিকে। জানি এটা তাঁর, তাঁদের বদান্যতা
আব্বা আগেই সব বেচে-টেচে সম্পর্কের ইতি টেনেছেন ভূরভূরিয়ার সাথে।
তবু এই প্রলোভনের বুদ্বুদ আমাকে নাড়িয়ে দেয় হঠাৎ করেই
 
চলে যাচ্ছি। সন্ধ্যার শান্ত লালিমা সখ্য গড়েছে আকাশ আর নদীতে
সামনের বাঁক পেরুলেই দৃষ্টিসীমারও বাইরে চলে যাবে আম্মার কবর
 
তবু আম্মার পাশে ঘুমাবার একটা প্রলোভনের বুদ্বুদ
ফুটতেই থাকে আমার ভেতরে
 
০৯.১০.২০২০

No comments:

Post a Comment