Tuesday, May 5, 2015

দুঃখের জন্যে করুণা

আমার কি যে হচ্ছে আজ
পুকুরে হেলে পড়া আমগাছের ডালটা
খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ডালের উপর
শালিকের বাসায় ছোট্ট ছানাটার কথা

বাতিটা নিভানোই থাক। মন খারাপ জানালার
কপাটগুলো কাঁপছে কেন? এই শীতরাতেও
ভূরভূরিয়ার বর্ষণধবল দুপুরে খেয়া পারাপারের
ঘাটের কথা কেন মনে পড়ছে

কোথাও নেই কেউ। দূরে সিনেমার শো শেষ হলে
অন্তরঙ্গ হাঁটে নিস্তরঙ্গ দম্পতি।
লটারির টিকেটের সুখস্বপ্নের সময়েও
অন্য কোথাও পার ভাঙে সর্বনাশা নদী

এই রকমই হয়। শিয়রে মখমলে বালিশ রেখেও
যাদের ঘুম হয় না করুণা ছাড়া তাদের জন্যে
আর কি হতে পারে


০৫.০৫.২০১৫

Thursday, April 30, 2015

একটি নিখাদ প্রেমের কবিতা

মহাশূন্যতাই যদি অনন্ত আশ্রয়
তবে সত্য হউক অশ্বডিম্ব।
ইশ্বর, তোমার মনুষ্যজন্ম কতটা রোমাঞ্চকর ছিল
সে চিন্তা থাক। ভালবাসার নাম করে তুমি যতই
হাউমাউ করে কাঁদো মহান সংসদে, সেটা অবশেষে
গ্রাম্যতা বলেই পরিগনিত হবে। তোমার নিযুতবর্ষি
অপেক্ষারা ঝুলে থাকুক বিরাণ জানালায়, ব্যস্ততম
চৌরাস্তায়, বেদখল হয়ে যাওয়া ব্যালট বাক্সে
মুঠোফোনের কম্পনে কিংবা ভিনদেশি পাহাড়ি বৃষ্টিতে
তুমিও জান, মহড়া শেষ হয়ে গেলে মুখ্য নারীবাদীও
মুখ লুকাবে চওড়া লোমশ একান্ত নিজস্ব বুকে
আর ঘর-পুরুষ পুড়বে পর-নারীর তাপে।
সুতরাং তুমি তোমার একতারায় তুলতে পার যেকোনো সুর
কিংবা ছেঁড়ে ছুঁড়ে বাজাতে পার জাইলোফোন।


৩০.০৪.২০১৫

Sunday, April 26, 2015

কম্পন

কে দাঁড়িয়ে আছো হতোদ্যম জানালায়

ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলে জানালার কাঁচ
আমি মুঠোফোনের কম্পন বলে ভুল করি।
কাঠমুন্ডুর রাস্তার ফাটল দেখে
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখি দিল্লির হাসপাতাল
প্রিয়তমা তুমি কেমন আছ?

Wednesday, April 8, 2015

শুভ্রতায় জমেছে ঘাস

শুভ্রতায় জমেছে ঘাস
আমি আঁধারে ফের পরিচিত মুখ দেখে
কেঁপে উঠি। বৃষ্টিস্নাত মধ্যরাতকে ডেকে বলি
‘আমায় ঘুম পাড়িয়ে দাও’।

অভ্যস্ত সবকিছুই সাদাকালো
রঙ লাগেনা ঠোঁটে এমনকি ধূসর কালো বুটে
তোমার পাল তোলা ভুরুতেও আছড়ে পড়ে না কাল বোশেখি
কোন পন্যে কিনি বল তোমার প্রেম, সখি

পবিত্রতায় জমেছে পরিশ্রান্ত ঘাম
আমি বারবার জোর করে চোখ বুজে থাকি
তবু আবছায়া গুলো জ্বলতে থাকে ভূলোকে দ্যুলোকে
রক্তে কাঁপন জাগে তোমাকে ছুঁয়ে থাকার পুলকে

রাই কিশোরী, শ্যামের বাঁশীতে তবে কাঁপুক বুক
বাজুক নুপর, স্নাত হউক খরাতপ্ত বিপন্ন দুপুর


০৮.০৪.২০১৫

Monday, March 30, 2015

শুদ্ধতা

এই সকাল বেলায়
এই সদ্য রাত্রিজাত দিনে আমাকে শুদ্ধতায় পেয়ে বসে
বুকের মধ্যে দলা পাকানো কুয়াশা, মনের ভেতর গুন গুন গান
আমার নিরুদ্দেশ হাঁটতে ভাল লাগে একা একা
মানুষের সঙ্গ আমার ভাল লাগে না

আমার মানবজন্ম অস্বীকার করতে ইচ্ছা হয়
আমার জেগে উঠা হঠাত প্রণয় অস্বীকার করতে ইচ্ছা হয়
ছেলেবেলায় আমি কেন ছুঁয়ে দিয়েছিলাম
হিজলতলায় আধফোটা হিজল?

আমার একা একা হাঁটতে ভাল লাগে নিরুদ্দেশ
মানুষের সঙ্গ আমার ভাল লাগে না, নিজের সঙ্গও আমার ভাল লাগে না।
আমার নিজের উপর বমি করে দিতে ইচ্ছা হয়
আমার মনুষ্যত্বের উপর বমি করে দিতে ইচ্ছা হয়।


৩০.০৩.২০১৫

Friday, March 6, 2015

মানবজন্ম

এইসব ভালবাসাবাসি এইসব প্রেম অপ্রেম
এইসব ঘৃণা এইসব যাতনা
এইসব বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও চেতনা
এইসব মৌল ও মৌলিকত্ব
এইসব আন্দোলন ও বন্ধ্যাত্ব
এইসব বুদ্ধিজীবীতা এইসব মৌলবাদিতা
এইসব পুঁজিবাদ ও সাম্যবাদ
এইসব রোধ অবরোধ বিরোধ
এইসব ন্যায় অন্যায় আর মাৎস্যন্যায়
এইসব কবিতা অকবিতা এইসব প্রগলভতা

এই সবের কিছুরই পক্ষে নই আমি, এবং বিপক্ষেও
আমি কেবল ঈশ্বরের দীর্ঘশ্বাস চুরি করে নিয়ে বলতে চাই
মানবজন্ম না হলে প্রকৃতির এমন খেয়ালের কিছুই
দেখা হত না আমার।


২৪.০৩.২০১৫

Sunday, January 11, 2015

মগজ

১৫০ টাকায় ছাগলের মগজ কেনার পর থেকে
নিজের মগজ বিক্রির কথাটা ভাবছি

কত মূল্য হতে পারে আমার মগজের
আদৌ কোনো মূল্য পাওয়া যাবে কি?
ইতিমধ্যেই অজস্রবার বিক্রিত, অক্ষম অকর্মন্য
মগজের কোনো বিনিময় মূল্য সত্যি কি হয়?

উঁচু তাকে সাজানো কালো অক্ষর দিয়ে শুরু
তারপর প্রতিনিয়ত বিক্রিত হচ্ছে আমার মগজ
সমাজ ও সামাজিকতায়, অভ্যাস ও অভ্যস্ততায়, বিধি ও বিধাতায়
বিক্রিত হচ্ছে যন্ত্র ও যান্ত্রিকতায়, নেতা ও নেতৃত্বে
বিক্রিত হচ্ছে স্মার্টফোনে, মিডিয়ায়
প্রতিদিন খবরের কাগজে আমার মগজ বিক্রিত হচ্ছে

বিক্রিত হতে হতে অবশ আমার মগজ শীতবৃষ্টি সকালে
অবরুদ্ধ কবিতার রাজপথে হাঁটতে হাঁটতে ভিজতে থাকে
একা, মূল্যহীন অবিক্রিত।

১১.০১.২০১৫