Tuesday, September 8, 2015

সাহস

আমি যে কত অক্ষম
কত কিছু জানি না, কত কিছুই বুঝি না
তবু তুমি সাহস করে কিছুই বল না
তোমার সাহসের আশায় হৃদয় পেতে বসে থাকি



গন্ধ

আজকাল সামাজিক গন্ধরা আমাকে জ্বালিয়ে মারছে
চোখ কান ও নাক সমেত আমার সমস্ত মুখমন্ডল
আঙ্গুল কব্জি ও হাত সমেত আমার সম্পূর্ণ বাহু
বুক পেট ও নিন্মাঙ্গ সমেত
আমার সমস্ত দেহ এখন ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠেছে

যতই নির্বিকার ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াই
অনাচার থেকে পাশ ফিরে হাই তোলা হামুখে
যতই দুই আঙ্গুলে তুড়ি বাজাই
আমার ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠা শরীর হরহামেশাই কুঁচকে যায়
ভোজসভায় নাচসভায় এমনকি রাজসভায়

চুনকাম করা নারী আলিশান বাড়ি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি
সরকারি আমলা গো পানীয় ভর্তি গামলা কিংবা পৌরসভার
কামলা, রাজনীতিবিদ বিশ্বখ্যাতিবিদ টকশোবিদ বা পণ্ডিত
একটা আঁশটে গন্ধ আমাকে আটকে রাখে ঘরে
যদিও গতানুগতিক চর্ম হাড় ও রক্ত মাংসের এ দেহের
অকৃত্রিম আবাস আসলে নিজেরই খোঁড়া আস্তাকুড়ে

নর্দমা আবর্জনার স্তূপ আর ভাগাড়ের গন্ধই কেবল মৌলিক ও শ্লীল
উন্নয়নের উল্লম্ফনে সাংবিধানিক সকল কিছুই অশালীন ও অশ্লীল


Saturday, September 5, 2015

দুঃখের ফেরিওয়ালা

কখনো কখনো কবিতাও বিরক্ত লাগে
মনে হয় আমি অর্থহীন অক্ষমতা বপন করি কবিতায়
বিষন্ন শব্দেরা হাশপাশ করে, হুতোম প্যাঁচার মত বেজার মুখে
ঢং বদলে আমি মূলত ফেরি করি দুঃখের

ইদানিং দুঃখ বিলাসি বলে আমার দুর্নাম আরো বাড়ছে
এই তুমি সেই তুমি এই পাওয়া সেই পাওয়া
এই প্রেম সেই প্রেম এই দ্রোহ সেই দ্রোহ
হিসেবের খাতা কেবল উড়ছে।

একসময় এক নারী কিছুই না বলে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশে বসে থাকতো
একবার এক নারী হাতে হাত রেখে
চোখের জল ফেলেছিল। আরো একবার একজন
অস্পষ্ট সন্ধ্যায় বকুল গাছের নীচে ছড়ানো বকুল দেখে
ভোরের সতেজ বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে দেয়ার কথা
বলেছিল।  আহা বকুল
শেষমেশ শুকিয়ে যাওয়াই যার নিয়তি
মূলতঃ প্রাকৃতিক বলেই এ নিয়ে আর তর্ক চলে না

এমন নয় যে এখনি জীবন যুদ্ধে ইস্তফা দিয়ে লিখছি কবিতা
তবু আমার দীর্ঘশ্বাসের নাম কবিতা, অক্ষমতার নাম কবিতা

এই জীবন বদলে যদি অন্য জীবন চাই
তবে আমি একটি কবিতাহীন জীবন চাইব
চাইব পেশীবহুল কৃষকের জীবন
চাইব একরোখা প্রেমিকের জীবন
কিংবা তুলতুলে রঙিন প্রজাপতির জীবন
না চাইলেও যেন ছুঁয়ে দিতে পারি তোমার
উদোম পিঠ


Sunday, August 30, 2015

খোঁজ

বেশ কিছুদিন হল আমার কবিতারা সপ্রাণ হয়ে উঠেছে
কবিতার শব্দ অক্ষর আর বাক্যগুলো হারিয়ে যাওয়া
প্রেমিকার মত হঠাতই জেগে উঠে আমার কবিতাকে
নিয়ন্ত্রণ শুরু করে দিয়েছে

আমার কবিতার শব্দগুলো মাঝে মধ্যেই জীবন্ত হয়ে উঠছে
দুপুর সন্ধ্যায় এমনকি মাঝরাতে
নিজেই ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে কবিতা পড়ছে
কফি বানাতে গিয়ে অগোচরে চিনি বেশি হয়ে যাচ্ছে, নিজের
অসতর্কতার ভার আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে অযথাই  
রাগ করছে, দিনের পর দিন কথা বন্ধ রাখছে।

আমার কবিতার কমা দাড়ি কোলন অক্ষর
আমার সঙ্গে কথা শুরু করলে আমি যারপনায় খুশি ই হয়েছিলাম
কিন্তু আজকাল কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না
ওদের যথেচ্ছ্ব ব্যবহারে আমি বিচলিত, কবিতার শব্দেরা
স্বয়ং মানবীয় অবয়ব নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, দিনের পর দিন
মাসের পর মাস, কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিনা ।

খুঁজব যে তেমন ঠিকঠাক ঠিকানাও জানা নেই
কেমন ঘরে থাকে, কোন পথে হাঁটে, কি কি বারে মেডিটেশনে
যায় কিংবা মাসে একবার ফিজিওথেরাপি
এইসব আবছা জানলেও বাসা নম্বর, রাস্তা এসবের কিছুই জানি না

আমার আশরীরী শরীর কামমোহিত হয়ে পড়লে ছুঁয়ে দেয়ার জন্য
আমি কিছুতেই তাকে পাই না। কবিতার খাতা সুশোভিত
কল্পিত ড্রইং রুম এঘর ওঘর অন্তর্জাল ও বহির্জাল, আহা
কবিতা ছাড়া আমার সুখ স্খলন কিছুতেই হয় না।




Sunday, August 23, 2015

কিশোরী

ছুঁতে চেয়েছিলাম মন
বাঁশঝাড় পেরিয়ে লুকোচুরি দীঘল বন
ছুঁতে চেয়েছিলাম উড়ে যাওয়া হারিকিরি ফ্রক
হাইস্কুলের মাঠ পেরিয়ে ইঁদারার জলে কাঁপতে থাকা
                                               বিষণ্ণ তোর মুখ
কিশোরী, তোর অতলস্পর্শী বিরাণ চোখে
                                     আমার গহীন ঘন সুখ।


Friday, August 21, 2015

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে
যদি তোমার চাওয়াগুলোকে রেখে দাও ওজোনস্ফিয়ারে
সবকিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি চেয়ারে হেলান দিয়ে
চোখ বুজে দেখতে থাক সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণন এবং
প্রত্যাশা না কর কাঁধে কোনো হাত
যদি তুমি প্রেমপুরাণে বিশ্বাস কর নির্দ্বিধায়
মনসাগরে না ডুবে
যদি তুমি অনায়াসে ডুবে যেতে পার সম্ভোগ গহ্বরে

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি ভুল করেও
দৈনিক পত্রিকাগুলো হাতে তুলে না নাও
যদি তুমি টেলিভিশনের ভলিউম পুরোপুরি অফ করে দিয়ে
গভীর রাতে দেখতে থাক সুশীলওয়ালা দের শার্টের রঙ আর চুলের ভাঁজ

সবকিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি  প্রেমানুভুতি
ধর্মানুভুতি কিংবা দলানুভুতির জোয়ারে
ভাসিয়ে দিতে পার পথঘাট এমনকি পয়ঃনিষ্কাশন নর্দমা

যদি তুমি পড়তে পার কেবল চোখ দিয়ে
যদি তুমি দেখতে পার কেবল দৃষ্টি দিয়ে
যদি তুমি বিশ্বস্ত থাক বিস্তৃত নৈঃশব্দতায়
আর ভোরের সবজি ফেরিওয়ালার কাছে মগজ বেঁচে দিয়ে
অপেক্ষা করতে থাক অনাগত আলোকোজ্জ্বল দিনের।


বউ

তোমার দিকে হাত বাড়ালেই
তুমি পেতে দাও করতল, উষ্ণ বা শীতল
তোমার দিকে হাত বাড়ালেই
তুমি গলে যাও, অথবা না গলেই আলিঙ্গনে জড়াও
তোমার দিকে হাত বাড়ালে তুমি চাও বা না চাও
আমার দিকেই ধাও

তবু আমি চাই তুমি একবার অন্ততঃ আমাকে চাও
আমি গলে গলে নক্ষত্রপুঞ্জ হয়ে জ্বলতে থাকি।