Wednesday, June 3, 2020

প্রেম ও আচ্ছাদিত গল্পের ইশারা


এই আবদ্ধ (লক্ড ডাউন) জীবনও তেমন ভিন্ন নয়
আমি যদি ঘর ছেড়ে দাঁড়াই গিয়ে খোলা মাঠে দূরে
আকাশের নিচে, আমার তখনও হাঁসফাঁস লাগে
উপরে কালপুরুষের তলোয়ারে আমার ভয়, হে সপ্ত ঋষি
কারো দিকেই আমি জোড়হাত দাঁড়াইনি কখনো

কেবল তুমি, তোমার সাথে বিড়াল পায়ে হাঁটতে হাঁটতে,
তোমাকে দেখাচ্ছিলাম শূন্যতার বিছানায়
রাতভর জেগে থাকা আমার মা, পৌষের আকাশের তারা
আর পৃথিবীর আচ্ছাদিত গল্পের ইশারা

না, আমি তোমারও নই। শেষমেশ তোমার জন্য হাত কেটে
ফিনকি দিয়ে বের হওয়া রক্তে তুমি মোহিত হলে, আমি দূর থেকে
দেখি পৃথিবীর বিরান শস্যখেত

আমি কারোরই নই। দিনে দিনে ভাগ হয়ে যাওয়া
কত কত দলে লেখা হতে থাকে আমার নাম। পৃথিবী এখন
দল আর দলের। দলহীনদের জন্যও আছে দলের প্রসারিত হাত।
আমার জন্য জোগাড় হতে থাকে অ্যাম্বুলেন্স, ডাক্তার, অক্সিজেন সরবরাহ
তবু আমি কারোরই নই। এই আচ্ছাদিত গল্পের ওমে
আমার শীতলতা তবু কিছুতেই কমে না

আমি মজে আছি এক গভীর প্রেমে। বেঁচে থাকার প্রেম,
অলীক কবিতার প্রেম। এই প্রেম আমার কন্যার মুখ
আমাতে ছলছলানো প্রেয়সীর চোখ

আমি পিঁপড়ার দল বেঁধে মরে যাওয়ার বিহ্বল। তবু পৃথিবীর আচ্ছাদিত গল্পে
কী সুন্দর দেখি ঝিরঝিরে বাতাস! অসমাপ্ত অক্লান্ত ঝড়জল!

২৭.০৫.২০২০

Thursday, May 7, 2020

তোমার কাছে আমার কবিতার বই না থাকা বিষয়ক দর্শন


আমাকে ভুলে যাওয়াটা সহজ আর যৌক্তিক। বিজয়ের গানে আমার রোমকূপে কুচকাওয়াজ দেখে তোমার ওষ্ঠে কচি হরিণশাবকের হাসি, পরাজয় লুকাতেই আমরা বসি অপরাজেয় বাংলায়। ‘ভালোলাগা সব নিয়ে সাদা মেঘ যখন উড়ে যাচ্ছিল’, ধরতে না পেরে আমি উসকোখুসকো মন নিয়ে রিক্সা থেকে নামি। ভাবছিলাম- বরং খোকনের সরি ফায়েজুলের রুমে যাই। জসীম উদ্দীন হল ২১৬। হায় বিস্মৃতি, আমাদের প্রেম তখনো পাঠশালার নিচু বেঞ্চিতে খাবি খায়!! 

আমাকে ভুলে যাওয়াটা সহজ, আর তোমার কাছে আমার একটাও কবিতার বই না থাকাটাও যৌক্তিক। কারণ এখন নিজেকেই পড় তুমি, আমার মধ্যবিত্ত চোখে

Sunday, May 3, 2020

আত্মদহন

জন্মাবধি আমার যাবতীয় খেলনা তুমি জমা রাখ-
আমার পরিধেয় পোশাক থেকে শুরু করে বিবিধ সাইজের জুতো
জীবনধারণের জন্য আমার মা এবং প্রেমিকাদের, আমার নিয়ন্ত্রিত
ও অনিয়ন্ত্রিত সঙ্গম, আমার কবিতাগুচ্ছ, আমার বিশ্বাস অবিশ্বাসের
অবাক ভোর। জমা রাখ তোমার দিকে আমার অজানা ঘোর

এই দেখ, নগ্ন মানবাত্মা তোমার সামনে
তোমার ঘৃণা প্রকাশের আগে- এমনকি এখন; একই বিদ্যুচ্চমক
আত্মবিনিময়ের আর কোনো পথ জানা নেই; এমনকি ঈশ্বরেরও

এসো পুড়ি, পুড়ে অঙ্গার হই


০২.০৫.২০২০

Saturday, April 18, 2020

গল্প


আমার গল্প পড়ে আপনার ভালো না লাগলে আপনি আমাকে গল্প শেখাতে লাগলেন, তারপর সাদাত হোসাইনের বইয়ের পৃষ্ঠার ছবি পাঠালেন। আপনার পাঠানো পৃষ্ঠা আমার পছন্দ হলো না।
আপনি বললেন কী কঠিন সত্য তিনি অবলীলায় বলে দিচ্ছেন গল্পে। আমি বললাম আমি তো সত্যই জানি না। আমি তাঁর ভালো পাঠকও না। আপনি আমাকে তাঁর কবিতার কথাও বললেন, আমি বিনয়ে দূরে থাকলাম। আপনি আমাকে জীবনের পরতে পরতে কীভাবে গল্প লুকিয়ে থাকে জানালেন। আমি জীবন নিয়ে আমার অজ্ঞতার কথা আপনাকে জানালাম।
আমি মান্টো পড়ছিলাম। সাদাত হাসান মান্টো। প্রেম ভালোবাসা শরীর, এইসব নিয়ে আপনি কথা বলছিলেন। মান্টোর ‘ঠান্ডা গোশত’ পড়ে আমারও শরীর ঠান্ডা হয়ে আসছিল
আমি বললাম আমি কিছু জানি না। আমাকে মাফ করবেন, প্লিজ

১৫.০৪.২০২০

Tuesday, April 14, 2020

একজন প্রকৃত কবির পাগল বিষয়ক সতর্কতা


হ্যাঁ, আমার মত করে দাঁড়ান, অথবা
আপনি চাইলে আমি আপনার মত
তবে
ঠিক দূরত্বে

শান্তিনগর মোড়ে, বাজারের দিকে
পাহারায় ছিল একটা আর্মির গাড়ি, আর কিছু পুলিশ
একটা পাগল আঙুল উঁচিয়ে চিৎকার করে
চুদে যাচ্ছিল আর্মির মা-কে, পুলিশের মা-কে
আর লুঙ্গি উঁচিয়ে দেখাচ্ছিল পাশের কিছু সব্জি বিক্রেতা মা-কে
কেউই কিছু দেখছিল না, কেউ এই পৃথিবীর নয়

এক মিটার দূরত্ব রেখে, প্রায় অর্ধ-বৃত্তাকারে, আমি পাগলকে পার হয়ে গেলাম
ভাগ্যিস আমার মা বেঁচে নেই

হ্যাঁ প্রিয় ঈশ্বর, আমার মত করে দাঁড়ান
অথবা আমি আপনার মত করে
তবে
দূরত্ব ঠিক রেখে

এবং
এই দুঃসময়ে পাগলের চোখ এড়িয়ে চলাই যৌক্তিক হবে

০৪.০৪.২০২০

Wednesday, April 1, 2020

শব্দ


শব্দ বিষয়ে আমার সাথে সতর্ক হবেন আশা করি। শব্দ প্রায়ই আমাকে সারারাত জাগিয়ে রাখে তার বেদনা শোনাবে বলে। আমি কান পেতে তার বেদনা শুনি, আমি চোখ মেলে তার রক্তাক্ত শরীর দেখি। নির্ঘুম আমি সারারাত ধরে তার ক্ষত শুশ্রূষার ব্যর্থ চেষ্টা করে করে অমল ভোরের মদ গিলে খাই শেষমেশ। শব্দ আমাকে মাতাল করে।
আমি কাউকে কিছুই শোনাতে আসিনি, আমার শব্দেরা একা এবং অবিচল। আমার শব্দেরা স্বাধীন এবং দ্বিধাহীন। আপনি আমাকে কবি মানেন কি না মানেন, কী এসে যায় আমার। আমি যে জীবন যাপন করে গেছি, সে জীবন কবিতার। আমার প্রেমে যে অপ্রাপ্তির তিলক, সে প্রেম কবিতার। আমার হৃদয়ে যে রক্তাক্ত ক্ষরণ, সে রক্ত কবিতার।

আমার শব্দেরা আপনার অক্ষমতার দায় কেন নেবে?


০৫.০৩.২০২০

দায়


কথা হচ্ছিল দায় নিয়ে, যখন বদ্ধতা
আমাদের ছিবড়ে খাচ্ছিল। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে মেধাবী
ছাত্র ছিল যে, তাঁকে আমরা ‘বদ্ধ উন্মাদ’ বলে ডাকতাম।
এই বদ্ধতা কতটা বদ্ধ আমাদের ঠিক জানা ছিল না
যদিও উন্মাদের মানে আমরা জানতাম।
            
আজকে বদ্ধতার অর্থও আমরা জানি, যেমন অনেকেই
মুক্তির অর্থ জানে। সব অর্থের আবার একরকম অর্থও
হয় না। যেমন মিশেল ফুকো, আপনি অর্থ হয়না জেনেও
কী অবলীলায় বললেন ‘উন্মাদনা হলো কার্যের অনুপস্থিতি’

লেখকের দায় নিয়ে আমাদের আলাপ চারিত হল
কিন্তু বাঁধা গেল না। শেষমেশ কার্যের উপস্থিতি কামনা করে
আমাদের উন্মাদনা রহিত হল কিনা, তাও ঠিক বোঝা গেল না

০১.০৪.২০২০