Sunday, May 4, 2014

আজ তোমার মন ভাল

আজ তোমার মন ভাল
আমার কেন মন ভাল নেই
আমি কেনো তোমার সুখেও
বৃষ্টি জলে কান্না লুকাই

তোমার যখন রাত্রিগুলো
কথায় কথায় পার হয়ে যায়
আমার কেন বিরাণ ঘরে
মেঘলা আকাশ একলা হারায়

আজ তোমার মন ভাল
আমার কেনো মন ভিজে যায়
আমার পথে আসতে গিয়েও
তোমার হাতে অন্য ছোঁয়ায়? 

তোমার সুখে হাসার কথা
জ্বলছি কেনো আমি তবে
আমি ছাড়া তোমার সুখ
অন্য কিছুতে কেন হবে?

০৩.০৫.২০১৪

Wednesday, April 16, 2014

শিভাস রিগাল

তোমার উষ্ণতা আমাকে জাগিয়ে রাখে দিনভর
তোমার স্পর্শের হ্যাং-ওভারে আমি অর্থহীন হাঁটি
মালিবাগ মোড় হয়ে কাকরাইল
রমনা পার্ক হয়ে শাহবাগ
ঘুরি আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকান
পাতা উল্টাই কবিতা পড়ি
স্মৃতি উল্টাই জাবর কাটি
বুকের মধ্যে হাত রেখে
ছুঁয়ে দেই তোমার উদ্ধত স্তন

তোমার উষ্ণতা আমাকে জাগিয়ে রাখে দিনভর
সন্ধ্যে বেলায় আমি হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই রাস্তার শেষে
তোমার পথ যেখানে এসে শেষ
তোমাকে ছুঁতে গিয়ে ছুঁয়ে ফেলি বিষণ্ণ সাইনবোর্ড
শিভাস রিগাল
তোমার স্বপ্ন গুলো পার হয়ে কবে আমি বলতে পারবো
শি ওয়াজ রিয়াল...

Monday, March 17, 2014

কি হলে কি হয় আমি জানি না

কি হলে  কি হয়, কি না হলে কি- আমি জানি না
আমি জানি না কতটা এগোলে যায় না পিছানো
কতটা ফুটালে হুল ফিরে না আর ভীমরুল
জানি না কতটা জোয়ার হলে ডুবে যায় তীর
কতটা সময় গেলে মন হয় চঞ্চল অধীর।

কি হলে কি হয় আমি জানি না, কি না হলে কি তাও
কতটা প্রেম থাকলে ঠিকঠাক হয় ঘর
কতটা অপ্রেমে মন হয় চৌচির চর
কতটা দুঃখে থাকে না স্বপ্ন
কতটা হারালে মানুষ হয় নিমগ্ন, জলে ও পাজলে

কি হলে  কি হয়, কি না হলে কি- আমি জানি না
জানি না কত দূর পেরুলে নদী হয়ে যায় নিরবধি
কত দূর পেরুলে মাঠ ভুলে যায় পথ ঘাট
কতটা কাঁদলে চোখ ভেসে যায় চোখের কাজল
কতটা বাসলে ভালো উড়ে যায় নারীর আঁচল।

১৬.০৩.২০১৪


Tuesday, February 25, 2014

বিশ্বাসের মড়ক

আজকাল কিছুই বিশ্বাস হতে চায় না। পত্রিকার হেডলাইন
উঁচু তাকে সাজানো বই এমনকি জ্বলজ্বলে কালো অক্ষর
বিশ্বাস হয় না নীতি প্রীতি বা একরোখা মোহে
রাজপথে উত্তোলিত হাত, লাল কাস্তে এমনকি নাগরিক দ্রোহে
বিশ্বাস হয় না তত্ত্ব কিংবা কথায়। রোজমেরী, গোলাপ
এমনকি বিছুটি পাতায়।

ইদানিং আর কিছুকেই বিশ্বাস হয় না আমার
সুশীল কুশীল অথবা প্রগতিশীল। বিশ্বাস হয় না
রাজা কিংবা তদ সংক্রান্ত নীতি,
গর্দভ বা কৃতী। 
মুদি দোকানদার অধ্যাপক কবি নিরপেক্ষ সাংবাদিক
মানব বা মহামানব, লুকানো ঘরকুনো বা ধ্বজা উড়ানো দিক বিদিক।

এখন আর কিছুকেই বিশ্বাস হয় না । পাঁচশ বা একহাজার টাকার নোট
অথবা প্রেসনোট । বিশ্বাস হয় না সং
সং সংক্রান্ত যাবতীয় বিধান অথবা প্রতিবিধান
সং সংক্রান্ত সরকারি অসরকারী বাদ অনুবাদ অথবা বাদানুবাদ
সং কে ঘিরে সভা, সদ অথবা চৌকশ সভাসদ 
সং এবং উঁচুতে দাঁড়িয়ে অশ্লীল ঢং

বিশ্বাস হয় না শ্রমে ও ঘামে, মহিমান্বিত শিল্পিত কামে
বিশ্বাস হয়না সলাজ কনে, না দেয়া পনে এমনকি ধুন্ধুমার বিজ্ঞাপনে
বিশ্বাস হয়না  উত্তাল নদী ও নারী, আটপৌরে শাড়ি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গাড়ি কিংবা মিন্টু রোডের বাড়ি।
বিশ্বাস হয় না রাস্তার পাশে সারবদ্ধ দাঁড়ানো ‘মিলিটারি গাছ’ কিংবা কাশফুল
শান বাঁধানো ঘাট উদোম মাঠ নিকোনো উঠোন টলটলে জল

শোকাতুর বিশ্ব যখন মাদিবা মাদিবা বলে কাঁদে
আমি তখন বড় বেশী ব্যস্ত হয়ে থাকি সুনিলের নীরাকে নিয়ে
নীরার ঠোঁট ছুঁয়ে দেয়ার জন্যে কি ব্যাকুল আকুলতা নিয়ে আড়াল খুঁজি
নীরার ঠোঁট ছুঁয়ে দিয়ে যদি সত্যি আমার ঠোঁট মিথ্যে বলতে ভুলে যেতো!!
যদিও আজকাল আর বিশ্বাস হয়না সত্য বা মিথ্যা
ন্যায় বা অন্যায়।

অবরুদ্ধ হয়ে  ঘরে বসে থেকে লা লিগা কিংবা টি-টুয়েন্টি বাদ দিয়ে
সবাই যখন দুঃসাহসী সাপ-লুডু খেলা দেখে নেতা নেত্রীর  
বড় বেশী উৎসুক হয়ে থাকে কানা কিংবা ছক্কার জন্যে, যদিও কারোরই
জানা নেই কিসে কালসাপের উদ্ধত হামুখ পেরিয়ে যাবে বাংলাদেশ, সেই মুহুর্তে
পূর্নেন্দু পত্রীর নন্দিনীর জন্যে সে কি আকুলতা আমার-
নন্দিনীর নগ্নতাকে ছুঁয়ে দেয়ার জন্যে কিছুতেই পরজন্মের অপেক্ষার তর সয় না
আমি মুহুর্তে ‘দশ দিগন্তের অন্ধকার’ হয়ে বসে থাকি।
যদিও বিশ্বাস হয়না পরজন্ম কিংবা পরকালে
নগ্নতা কিংবা সভ্যতায়
আলো কিংবা অন্ধকারে।

বিশ্বাস হয়না আমি কিংবা আমি সংক্রান্ত যাবতীয় বিশ্বাস
আমি কিংবা আমি সংক্রান্ত যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
বিশ্বাস হয়না হাত, হাতের পাঁচ আঙুল
বিশ্বাস হয়না চোখ, আদিগন্ত দৃষ্টি
বিশ্বাস হয়না শিশ্ন, শরীর এবং শরীর বৃত্তীয় কৃষ্টি  

বিশ্বাস হয়না তুমি কিংবা তুমি সংক্রান্ত যাবতীয় প্রেম
তুমি কিংবা তুমি সংক্রান্ত যাবতীয় অঙ্গপ্রত্যঙ্গ
বিশ্বাস হয়না বিড়াল চোখ কিংবা তার মনি
বিশ্বাস হয়না স্তন এমনকি যোনি।

আমার বিশ্বাসের মড়ক আজ খেয়ে গেছে সমস্ত কিছু
সৃষ্টি কর্তা থেকে শুরু করে দৃশ্যমান সমস্ত সৃষ্টি
ছেলেবেলার না-ভোলা হলুদ জ্যোৎস্না, অলীক প্রজাপতি
এমনকি কাকভোরে ঘোরলাগা অবিশ্রান্ত বৃষ্টি।

২৫.০২.২০১৪


Monday, February 3, 2014

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি নাইতে নেমেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে নাইতে যাওয়া বাদ দিয়েছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি লাফিয়ে পুকুরে নেমেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি তড়িঘড়ি করে পুকুর থেকে উঠে গিয়েছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি খাতাকলম নিয়ে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি খাতাকলম তুলে রেখে কবিতা লেখা বন্ধ করেছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি ঘুম থেকে উঠে গিয়েছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি কাথা মুড়ি দিয়ে ঘুমুতে গেছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে কলাপাতা মাথায় দিয়ে হৈচৈ করে পাতা পানিতে খেলা শুরু করেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে কলাপাতা মাথায় দিয়ে আমি তড়িঘড়ি করে ঘরে ফিরে এসেছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে ছাদে বৃষ্টিতে ভিজতে গেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে আমি তড়িঘড়ি করে ছাদ থেকে নেমে এসেছিলাম

একদিন বৃষ্টি ছিল বলে তোমাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম
একদিন বৃষ্টি ছিল বলে তোমাকে ছেড়ে দিয়ে বৃষ্টি দেখা শুরু করেছিলাম

একদিন, বৃষ্টিদিন কিংবা বৃষ্টিহীন
আমি আমাকেই খুঁজি, নিশ্চিত
একদিন, বৃষ্টিদিন কিংবা বৃষ্টিহীন
আমি আমাকেই বুঝি, কিঞ্চিত



০২.০২.১৪

Friday, January 17, 2014

ইচ্ছে ভুল

ভুলি নাই, ভুলতে কি পারি
ইচ্ছে ভুল অনিচ্ছাতেই
বাজায় কেবল তুড়ি।
তোমার জন্যে সকালগুলো
শীত চাদরে মোড়া
তোমার জন্যে মোহন বিকেল
ভালবাসায় ঘেরা।
তোমার জন্যে রাত্রি কাঁপে
আমি কেমন নীল
আমার ঘরে খোলা দুয়ার
তোমার ঘরে খিল।


১৭।০১।২০১৪

প্রেম ও উদ্বেগ

মিনমিনে প্রেমের চেয়েও তোমার
হাসির ঝংকার অনেক বেশি সুরভিত, নারী
বন্ধুর আড্ডায় কিংবা এক বিকেল আমোদে
তোমার হাসি যেন ভেঙ্গে দেয়
একসঙ্গে একশটা গ্লাস।
আমি নিঃশব্দে হেঁটে যাই, পদতলে ভাংগা কাঁচ
প্রেম ও উদ্বেগ পাশাপাশি হাঁটে, সরব সলাজ।

১৩.০১.২০১৪