Thursday, July 3, 2014

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
ঠিকঠাক ঘুমুতে যাওয়া ঠিকঠাক ঘুম থেকে উঠা
ঠিকঠাক নাওয়া ঠিকঠাক খাওয়া
প্রতিদিন কভারসিল-৪মিঃগ্রাঃ নিশ্চিতভাবেই খেয়ে দিন শুরু করার কথা
অথচ মাথার পেছনে ঘাড়ের ব্যথা অসহ্য না হওয়া পর্যন্ত
সেকথা বেমালুম ভুলেই থাকি।

কিছুই ঠিকঠাক করা হল না এক জীবনে
রবিবারের বাজারে দুঃসম্পর্কের এক আত্বীয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পেয়ে যাওয়া
আট টাকা সেকি তুমুল খুশির আলোড়ন তুলেছিল বুকে
আহা সেই টাকাও যে কি বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলি!!
কত কিছুই যে হারিয়ে ফেলেছি যা আগলে রেখেছিলাম নির্জনে
ব্যাডমিন্টনের কাঠের ব্যাট, বাজিমাত করে দেয়া দাবার ঘুটি, ৩নম্বর ফুটবল
তর্ক ও বিতর্কের রাত, ভেজা জ্যোছনায় খোলা মাঠে শুয়ে থাকা বন্ধু
আমি আর তুই  
ভারী বৃষ্টিতে কাঁদা মাখামাখি খেলে জিতে পাওয়া আয়না ও কাফুই

কিছুই নেই ঠিকঠাক আগে ছিল ঠিক যেমন
না ছোঁয়া ভালবাসা, আদর্শ লিপিতে শেখা সত্যাসত্য, বোধ এবং মূল্যবোধ
বদলে গেছে বিশ্বাস ফাগুন মাস এমনকি বিশ্বস্ত ক্রোধ।
বদলে গেছে প্রিয় বই, ছুঁতে চাওয়া প্রিয় নারী
বদলে গেছে প্রিয় শিক্ষক স্বপ্নে বানানো হিজলতলায় বাড়ি

কিছুই ঠিকঠাক হয় না আমাকে দিয়ে
মানুষের ভিড়ে কিছুতেই যোগ্য করে তুলতে পারিনা নিজেকে
বন্ধুরা সজ্ঞানে এড়িয়ে চলে যেনো আনমনা মেঘ   
নারীর সামনে এখনও আমি কৈশোরের সেই বুক ধরফর একপেশে প্রেমিক

কিছুই ঠিকঠাক করা হলনা একজীবনে
যে সময়ে তোমার ঠোট ছুঁয়ে দেয়ার কথা ছিল আমার ঠোটে
সেই সময়ে আমি তোমার হাত ধরেই আপ্লুত ছিলাম
                                হাঁদারাম এর মত
তোমাকে আদর করতে গিয়ে
কীসব ছাইপাশ বলতে বলতে আর করতে করতে
রাত পার করে দেই, তোমাকে
ঠিকঠাক আদর ও করা হলো না এক জীবনে।

কবিতা লিখব বলে
কিছুই করা হলো না নিজের মত করে
ঠিকঠাক করা হলো না চাকরি
ঠিকঠাক করা হলো না প্রেম
ঠিকঠাক করা হলো না ঘর
ঠিকঠাক হওয়া হলো না বর।
কবিতা লিখব বলে ইঁদুর দৌড়ে আমি বসে থেকেছি হুলো বিড়াল
পৈতা পড়া বামুনের পাশে নগ্ন চাঁড়াল

তবু কবিতাও লেখা হল না ঠিকঠাক
কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
০৩.০৭.২০১৪


Saturday, May 10, 2014

আমার হাত কেবলি গুটিয়ে আসে মা

মা তোমার জন্য আমার কোনো দুঃখ নেই জানি
কোনো দিন মনেও পরে না যে তুমি বলে বা মা বলে
কেউ একজন ছিল আমার কোনো কালেও। তুমি কিংবা মা
থাকলে আমার জীবনের তেমন কোনো হেরফের হয়ে যেতো
সেরকমও ভাবি না কখনো। তবু যখন খুব বেশী একা লাগে
অর্থহীন পরমার্থ জীবনের মুট টানতে টানতে হাঁপিয়ে উঠি-
ভাবি একটা আশ্রয় হলে কি ভালো হত কিছু? তোমার বুকে
ঝাঁপিয়ে পড়ে কেঁদে কেটে কি জুড়াতো এই পাথর বুক?
তুমি যদি ইশ্বরের কাছে গিয়ে থাক তাহলে তো জানই যে
আমার ইশ্বরও নেই তুমিও নেই, ঘরও নেই একান্ত আড়ালও নেই।

আম্মা, মা আমার মা মাগো
তুমি জানো তোমাকে এমন করে কোনোদিন ডাকিনি আমি
তবু মানুষের কাছে শুনে শুনে কিযে লোভ হয়
তাই আনাড়ির মত খুবই নীচু স্বরে মাঝে মাঝে ডেকে উঠি।
তোমার গর্ভে যেহেতু জন্মেছি নিশ্চয় তোমাকে দেখেছি আমি
দুই বছর হউক কিংবা তিন, বেঁচে যেহেতু ছিলাম তোমার সঙ্গে একসাথে
নিশ্চয় তোমার দুধও খেয়েছি। অথচ দেখ তোমাকে ডাকার লজ্জা
তোমাকে ছুঁয়ে দেখার লজ্জা তোমার জন্যে হাউমাউ করে কাঁদার লজ্জা
আমার কিছুতেই যায় না।

প্রায় অস্পষ্ট একটা ছবি থেকে তোমার একটা পোরট্রেট করিয়ে
এনেছিলেন বড় ভাই। আমি দূর থেকে কেবল চেয়ে চেয়ে দেখেছি
তোমাকে এমন আপন কেউ মনে হয়নি আমার, কতবার ভেবেছি
ছবি হলেও তোমাকে একটু ছুঁয়ে দেই, একটু জড়িয়ে ধরি। তবু
কি অন্তহীন লজ্জা আমাকে ঘিরে ধরে চারপাশ, আমার অবশ চোখ কেবল
তাকিয়ে থেকেছে অপলক তোমার দিকে। এখন তোমার ছবিটিও দেখিনা আর।

তুমি তো জান নিশ্চয় যে তোমার ছবিটাও দেখার সুযোগ নেই আর
আমার যারা আপন কিংবা তোমার রক্তের উত্তরাধিকার যারা বহন করছে
তাদের কারো সাথেই তেমন স্বাভাবিক সম্পর্ক ও নেই আমার। বৃদ্ধ বাবা
সারারাত নিদ্রাহীন কাটিয়ে সকালবেলা খুব করে চান আমি অন্তত তাঁর
মাথার কাছে বসে থাকি, মাথায় হাত বুলিয়ে দেই। জ্বরতপ্ত কপালে জলপট্টি
না হউক আমার শীতল হাত অন্তত কিছুটা জুড়াক তাঁর উত্তাপ।

আর সবার মত তুমিও নিশ্চয় জান না যে আমিও কি ভীষনভাবে চাই-
কি ভীষন ভাবে চাই আমার আত্বজ আর আত্বজাদের সাথে আমিও সবার মত
স্বাভাবিক থাকি। ছেলেবেলার কথা বলতে বলতে আমাদের রাত ভোর হয়ে যাক
ছেলেবেলার হাসিগুলো হাসির হিল্লোল তুলুক মাঝরাতেও। কিন্তু আমার হয় না-
আমি পারি না, কি এক অচেনা হুতোম পেঁচা যেন কুয়াশার চাদর টেনে দিয়েছে
আমাদের মধ্যে।

সবার মত আমিও জানি এসবের দায় নিশ্চিত ভাবেই আমার।
কোনো কৈফিয়ত নেই। আমার ভালবাসার হাত কেবলি গুটিয়ে আসে
আমি প্রাণপন চেষ্টা করতে থাকি প্রসারিত করতে, অন্তত
আমার সন্তানেরা বেড়ে উঠুক ভালবাসায়। তবু ছায়ার সঙ্গে যুদ্ধ করে করে
ভীষণ ক্লান্ত লাগে, ঘুম পায়। মাঝে মাঝে ভেতরের কোনো বেঁচে যাওয়া দ্রোহ
আঙুল তোলে তোমার দিকে, যুবক বাবার দিকে, বেড়ে উঠা শৈশবের দিকে
কিংবা ভেজা ভোরে নগ্ন শরীরে জানালায় তাকিয়ে থাকা বালকের অনন্ত দৃষ্টির দিকে।

‘শুকনা বড়ই কাঁটা চিকিৎসায়’ লাল হয়ে যাওয়া নগ্ন পশ্চাতদেশের
ব্যাথা ভুলতে আমি যখন জানালা দিয়ে নির্বাক তাকিয়ে থাকতাম আবছা অন্ধকারে
তখন আমাদের প্রাইমারী স্কুলের জাম গাছের মাথা ছুঁয়ে
সাদা কাপড়ে জড়ানো একটা নারী চেয়ে থাকতো আমার দিকে
সেটা কি ভূত ছিল নাকি তুমি? ভূত দেখে কি মানুষ ভয় পায়?
সাদা কাপড়ে জড়ানো ওই ভূত দেখে আমার একদম ভয় হতো না
ভূতের দৃষ্টি ছিল আমারই মত কুয়াশাচ্ছন্ন।

তোমার আদরের ভাইপো তার প্রিয় ফুপুর কবর জিয়ারত করতে চাইলে
আমিও তার সঙ্গী হই, যদিও কবরে গিয়ে তোমার জন্যে প্রার্থনা করার কথা
কখনই মনে হয়নি আমার। জানি, তুমি এই মাটিতে শুয়ে আছ বলেই
গোটা বাংলাদেশকেই মা বলে মনে হয়। তোমাকে ছেড়ে থাকার কষ্ট
সইতে না পেরে পায়ে ঠেলেছি বিলাসী জীবন, তবু চুপি চুপি তোমার সঙ্গে দেখা
করতে যাওয়ার লজ্জা, লুকিয়ে তোমাকে জড়িয়ে থাকার লজ্জা যে আমার
কিছুতেই যায় না।

আমার অক্ষমতার দায় আমি কাকে দেব
বয়ঃসন্ধির না পাওয়া আমাকে নুইয়ে রাখে খালপাড়ের জংলা গাছের মত
আহ আমার চোখে মুখে একটু জল ছিটিয়ে দাও মা

আমার হাত কেবলি গুটিয়ে আসে
আমার আংটিবিহীন পান্ডুর হাতে ছুঁয়ে রাখো তোমার অশরীরী হাত

১১.০৫.২০১৪


Sunday, May 4, 2014

একটি ভূতপূর্ব প্রেমের গল্প

একটা খবর আমাকে বিচলিত করেছে, কিংবা বলা যায় আমাকে আশ্বস্তও করেছে
খবরটি নিছকই একটা খবর আমার কাছে। তবু খবরটি আমাকে আন্দোলিত করেছে
আমি বিচলিত থেকেছি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের টানাপোড়েনে। আমি বিচলিত থেকেছি
পাওয়া ও না পাওয়ার হিসেব নিকেশে। আমি বিচলিত থেকেছি পৌরুষ ও অপৌরুষের
জয় ও পরাজয়ে, আমি বিচলিত থেকেছি যুক্তি ও যুদ্ধে, বিচলিত থেকেছি প্রেমে ও কামে

এই ঘটনায় তার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পরেনি আমি নিশ্চিত, কেননা এখন থেকে একযুগ
আগে, কোনো এক কোজাগরী পূর্নিমায় আজিমপুরের মাঠে ছালবাকল সহ একটা আস্ত আকাশ 
তার মাথায় ভেঙ্গে পরেছিল আমার চোখের সামনে। আমার দিকে মৃদু হেসে সে যথারীতি 
আকাশকে লকেট বানিয়ে ঝুলিয়ে রেখেছিল তার গলায়। আমি বিচলিত ছিলাম সেদিনও।

সে ছিল একান্তই তার মত, অবিচল। যেন ওই বয়সেও তার জানা ছিল স্বয়ং বিধাতাও 
কুতকুত খেলতে গিয়ে মাঝে মাঝে ভুল ঘরে চারা ফেলে দেয়। তাই বলে খেলা ফিরিয়ে 
নেয়া কোনো কাজের কথা না। ভুল মানে ভুল, বিধাতার জন্যে হয়তো খেলা। তবু ভালবাসা 
নিয়ে জুয়া খেলাটা চালিয়ে যাওয়াই তার জন্যে যুতসই ছিল। অতঃপর তার গন্ধ মুছে 
ফেলতে রাতভর আমি ডুবে ডুবে স্নান করেছি পুর্নিমায়।

এতদিন পর আমি আবার বিচলিত হয়েছি। বিচলিত হয়েছি প্রেমে ও অপ্রেমে
বিচলিত হয়েছি বিশ্বাস ও অবিশ্বাসে। বিচলিত হয়েছি শঙ্কা ও প্রত্যাশায়
বিচলিত হয়েছি আশায় ও ভালবাসায়
৩০.০৪.২০১৪


আমার ভালবাসার সঙ্গে কেউ পারে না, কিচ্ছু না

আমার ভালবাসার সঙ্গে কেউ পারে না, কিচ্ছু না
বাজার পেরিয়ে পাকা ঘাটের টইটুম্বুর নদী কিংবা ঘরের পাশে
চাপকলের উচ্ছ্বল জল
টলমল টলমল ছলছল ছলছল টলমল ছলছল ছলছল টলমল
ভালবাসা কি তবে খরস্রোতা চোখের জল?

কেউ পারে না, কিচ্ছু না; এমনকি দুঃখ
আমার ভালবাসার সঙ্গে কেউ পারে না
নদী ও ঘাস, ফাগুন মাস এমনকি বৃক্ষ

যেন বইছে একা সইছে
চোখ বন্ধ যেন অন্ধ ভেজা শুভ্র যেন অভ্র
যেন বোকা ভীষণ একরোখা!!

আমার ভালবাসার সঙ্গে কেউ পারে না, কিচ্ছু না

০৩.০৫.২০১৪


আজ তোমার মন ভাল

আজ তোমার মন ভাল
আমার কেন মন ভাল নেই
আমি কেনো তোমার সুখেও
বৃষ্টি জলে কান্না লুকাই

তোমার যখন রাত্রিগুলো
কথায় কথায় পার হয়ে যায়
আমার কেন বিরাণ ঘরে
মেঘলা আকাশ একলা হারায়

আজ তোমার মন ভাল
আমার কেনো মন ভিজে যায়
আমার পথে আসতে গিয়েও
তোমার হাতে অন্য ছোঁয়ায়? 

তোমার সুখে হাসার কথা
জ্বলছি কেনো আমি তবে
আমি ছাড়া তোমার সুখ
অন্য কিছুতে কেন হবে?

০৩.০৫.২০১৪

Wednesday, April 16, 2014

শিভাস রিগাল

তোমার উষ্ণতা আমাকে জাগিয়ে রাখে দিনভর
তোমার স্পর্শের হ্যাং-ওভারে আমি অর্থহীন হাঁটি
মালিবাগ মোড় হয়ে কাকরাইল
রমনা পার্ক হয়ে শাহবাগ
ঘুরি আজিজ সুপার মার্কেটের বইয়ের দোকান
পাতা উল্টাই কবিতা পড়ি
স্মৃতি উল্টাই জাবর কাটি
বুকের মধ্যে হাত রেখে
ছুঁয়ে দেই তোমার উদ্ধত স্তন

তোমার উষ্ণতা আমাকে জাগিয়ে রাখে দিনভর
সন্ধ্যে বেলায় আমি হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যাই রাস্তার শেষে
তোমার পথ যেখানে এসে শেষ
তোমাকে ছুঁতে গিয়ে ছুঁয়ে ফেলি বিষণ্ণ সাইনবোর্ড
শিভাস রিগাল
তোমার স্বপ্ন গুলো পার হয়ে কবে আমি বলতে পারবো
শি ওয়াজ রিয়াল...

Monday, March 17, 2014

কি হলে কি হয় আমি জানি না

কি হলে  কি হয়, কি না হলে কি- আমি জানি না
আমি জানি না কতটা এগোলে যায় না পিছানো
কতটা ফুটালে হুল ফিরে না আর ভীমরুল
জানি না কতটা জোয়ার হলে ডুবে যায় তীর
কতটা সময় গেলে মন হয় চঞ্চল অধীর।

কি হলে কি হয় আমি জানি না, কি না হলে কি তাও
কতটা প্রেম থাকলে ঠিকঠাক হয় ঘর
কতটা অপ্রেমে মন হয় চৌচির চর
কতটা দুঃখে থাকে না স্বপ্ন
কতটা হারালে মানুষ হয় নিমগ্ন, জলে ও পাজলে

কি হলে  কি হয়, কি না হলে কি- আমি জানি না
জানি না কত দূর পেরুলে নদী হয়ে যায় নিরবধি
কত দূর পেরুলে মাঠ ভুলে যায় পথ ঘাট
কতটা কাঁদলে চোখ ভেসে যায় চোখের কাজল
কতটা বাসলে ভালো উড়ে যায় নারীর আঁচল।

১৬.০৩.২০১৪