Saturday, October 26, 2013

প্রেম


পিছলে পড়ে
শ্যাওলা জলে নেয়ে
সামাজিকতাকে উদোম উঠোনে শুকোতে দিয়ে
এসো তবে যাপন করি কোজাগরী জীবন।


২৯.০৯.২০১৩

মনের ভেতর কালো মেঘ


ঘরের ভেতর কালো মেঘ ঢুকে পড়েছে বলে
যেই তুমি হুট করে খিল এটে দিলে, সেই থেকে
আমার এখানে বৃষ্টি
                অঝোর বৃষ্টি
তোলপাড় ঝড়, আমার বিছানা দুলে দুলে উঠছে
দুদ্দার শব্দে ভেঙ্গে চুরমার হচ্ছে
                        জানালার কাঁচ
মেঝেতে পা রাখলেই রক্তক্ষরণ।
তুমি কি খাটের কোনে জড়সড় হয়ে আছ বৃষ্টি ভয়ে
নাকি ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যেতে দিচ্ছ তোমার রাত্রিবাস
তোমার কি মনে পড়ে যাচ্ছে ডাল লেকের ভাসমান কটেজ ?

আমি বালিশ আঁকড়ে বসে থাকি
                        বৃষ্টি থামেনা
ভোরের কুয়াশা জড়িয়ে বৃষ্টি-ক্লান্ত তুমি কি এখনও ঘুমাও
আড়মোড়া ভেঙ্গে (শুভ সকাল) তুমি কি শরীরে জড়াও সোনালি রোদ

আমার এখানে বৃষ্টি থামেই না, তবু
আমি কিছুতেই বৃষ্টি দেখতে পাচ্ছি না
আমার দুচোখ আড়াল করে রেখেছে তোমার বৃষ্টি-স্নাত নাকি বৃষ্টি-ভীত শরীর

২৬.১০.২০১৩


Friday, October 25, 2013

ভুলে যাও আমাকে মানুষ


ভুলে যাও আমাকে মানুষ
আমার অক্ষমতা নিয়ে বড় বেশী বিপর্যস্ত আমি
ভুলে যাও আকাশ ভুলে যাও নদী
ভুলে যাও গাছ ভুলে যাও ঘাস

ভুলে যাও আমাকে বন্ধু
আমার নিস্পৃহতা নিয়ে বড় বেশী বিপর্যস্ত আমি
ভুলে যাও জোছনা ভুলে যাও বৃষ্টি
ভুলে যাও মাঠ ভুলে যাও ঘাট

ভুলে যাও আমাকে প্রেম
আমার অসহায়ত্ব নিয়ে বড় বেশী নির্জীব আমি
ভুলে যাও ভীরুতা ভুলে যাও কাপুরুষতা
ভুলে যাও স্পর্শ ভুলে যাও সুখ

ভুলে যাও আমাকে পিতা
ভুলে যাও ভাই ভুলে যাও বোন
ভুলে যাও স্ত্রী ভুলে যাও কন্যা
ভুলে যাও মৃত্তিকা ভুলে যাও নিলীমা।

এই পৃথিবীতে কোনো কিছুরই যোগ্য ছিলাম না আমি
অথবা কিছুই যোগ্য ছিল না আমার
সকল অক্ষমতার দায় কাঁধে নিয়ে
বরং আমিই সরে যাই দূরে
পৃথিবীর ভিন্ন আলোয় যদি দেখা হয় কোনদিন  আবার
আমাকে চিনো না কেউ।



Sunday, September 29, 2013

সনাক্তকারী চিহ্ন 'বুকের বাম পাশে কালো তিল আছে'


আমাকে নগ্ন দেখে তুমি যদি চলেও যাও
কি আসে যায়। নগ্নতাই আমার বৈভব
নগ্নতা আমি ঢাকি না সুতো কিংবা চাতুর্যে
বরং উন্মুক্ত করি নিপতিত কিংবা উত্তুঙ্গ।
আমাকে উন্মুক্ত দেখে যদি তোমার বিবমিষা জাগে
জাগুক, কি আসে যায়।

আমার দাদা কৃষক ছিলেন
তার সুঠাম বাহু ছিল, ছিল ছাতিম গাছের মত বুকের পাটা
যদিও আমি তাকে দেখেছি বলে মনেই পড়ে না।
বাবা ছিলেন দরিদ্র শিক্ষক, যাকে ঠিকঠাক
ছা-পোষা বলা যায় কিনা সেটিও ভাববার। তিনি নিতান্তই
ক্ষীণকায় ছিলেন। দুই পক্ষের ছয় সন্তানকে মানুষ করতে কিংবা বাঁচিয়ে
রাখতেই তিনি আরো ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিলেন কিনা কে জানে

সপ্তম শ্রেণিতে উঠার সময় কোটবাড়ির সামরিক কলেজটি
আমাকে সনাক্তকারী চিহ্ন হিসেবে ‘বুকের বাম পাশে কালো তিল আছে”
বলে আইডি কার্ডে রায় দিয়েছিল। সেই কালো তিল
একই সাথে চারটি কালো তিলের খোঁজও যদি চাও
খুঁজতে হবে আমাকে নিরাভরণ।

তোমাকে দেখানোর কি আছে আমার নগ্নতা ছাড়া
আমার গায়ে যে   রঙ চঙ শার্ট দেখ, জিন্স আর ভারী জুতা
কখনো চটি জুতোয় হাঁটুতে আটকে যাওয়া পাঞ্জাবি,
ফেসবুক আর টুইটারে ঘন ঘন বদলে যাওয়া প্রফাইল ছবি
ঝলমলে আমি আর আরো ঝলমলে আমার বন্ধুরা; এসবের কোথাও
আমাকে পাবে না
বরং আবরনহীন আমাকে দেখো তুমি সরল
অকপট ঋজু।

বাইরে যতই চুলে পাক ধরুক
ভোগ আর সম্ভোগে বাড়ুক অস্থিরতার চর্বি
ভেতরে ভেতরে এখনও সেই দশ বছর বয়সের আমি
ঘর্ষণে ঘর্ষণে ক্ষয়ে যাওয়া হাফপ্যান্টে উকি দেয় উপবাসী নিতম্ব
নগ্নতা ছাড়া কোথাও খুঁজে পাবে না তুমি আমাকে অকৃত্রিম।

জড়াতেই যদি চাও তবে এসো
আমাকে জড়াও আলিঙ্গনে। ঢোলভাঙ্গার মীনেরা
যদিও আমার সঙ্গী  ছিল একদা
তবু দেখো কেমন আঁশহীন নিভাঁজ ত্বক
ভল্লুকেরা কখনোই বাসা বাঁধেনি আমার বুকে। মসৃনতায় যদি সুখ
না হয় তোমার, কি আসে যায়।

যদি পেতেই চাও আমাকে
আমার নগ্নতা খুঁড়ে ঢুকে যাও গভীরে আরও
দেখো শ্যাওলা পড়া একাকী ঘাট। শ্যাওলা পছন্দ নয় বলে
নারীরা পাল উড়িয়ে চলে গেছে দূরে।
পিছলে পড়ার ভয় নিয়েও যদি তুমি বসতে চাও ঘাটে
তবেই আমাকে পাবে তুমি নিবিড়। 


২৯.০৯.২০১৩



Thursday, September 12, 2013

আমার রোদ

আমার পাঁচ বছরের মেয়ে রোদ ; বলে বাবা
সিলেট থেকে এসে আমাকে একটা ছোট্ট ছাতা কিনে দিও।
এইবার যে বৃষ্টি প্রায় শেষ এটি ওকে কিছুতেই বোঝানো যায় না

আমি বলি ঘরে তো তিনটি ছাতা আছে, কিন্তু ওর ছোট্ট ছাতা চাই ই।
বলি আচ্ছা দেবো কিনে। তবু ও কথা থামাতেই চায় না
বলে যদি অনেক পয়সা লাগে কিনতে, আমি বলি দেবো
বলে যদি আরো অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
ও বলে, যদি আরো অনেক অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
যদি তোমার কাছে অত পয়সা না থাকে
বলি তাহলে সোফা টিভি বিক্রি করে তোমাকে ছাতা কিনে দেবো
ও বলে, যদি তাতেও না হয়। আমি বলি তাহলে সব বেচে দেবো
যা আছে আমার, তবু তোমাকে ছাতা কিনে দেবই।
ও যেনো আশ্বস্ত হয়, মিষ্টি করে হাসে

যে রাতে আমি সিলেট থেকে ঘরে ফিরব
ও কিছুতেই ঘুমাতে চায় না। আমি গাড়িতে চড়ার সময় থেকেই
ওর সময় গননা শুরু; বাবা এখন কোথায়? বলি ব্রাম্মনবাড়িয়া
ও খুবই হতাশ, ব্রাম্মনবাড়িয়া থেকে আসার সময় একবার গভীর রাত
হয়ে যাওয়ায় ট্রেনের দ্যোদুল্যমান পুলকও ওকে জাগিয়ে রাখতে পারেনি।
রাত বাড়ে, আমি পার হই মোহময়ী ভৈরব, নরসিংদী পেরিয়ে মাধবদী
তারপর ভুলতা এসে আমার গাড়ি অবস্থান ধর্মঘটে বসে। মেয়ের হতাশ
স্বরে আমার রক্তচাপ বাড়ে, ওকে ঘুমিয়ে পড়তে বলি। ও কিছুতেই ঘুমাবে না।
অতঃপর মধ্যরাত কাছাকাছি এলে গাড়ি যাত্রাবাড়ি এসে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে;
ড্রাইভারের নাক-ডাকা কানে এলে আমি চৌদ্দদিনের জঞ্জালের ভারী ব্যাগ সহ
নেমে পড়ি। আমার মেয়ের ঘুমজড়ানো গলা কানে বাজে
ওর মা ওকে ঘুমিয়ে যেতে বলে। বলে কাল সকালেই তো বাবাকে দেখতে পাবে
ও কিছুতেই ঘুমাবে না, ‘আজ দেখলেতো বাবাকে একদিন বেশী দেখা হবে’

ভারী ব্যাগ নিয়ে আমি যাত্রাবাড়ীর খানাখন্দ পার হতে থাকি জোড় কদমে
জীবনভর আমার অপ্রাপ্তির হতাশাগুলো কোথায় পিছে পড়ে থাকে!!

১২.০৯.২০১৩



তোমাকে ভালবাসি বলা হয়ে গেলে


তোমাকে ভালবাসি বলার সময় থেকে আমার জীবন বদলে যাবে
আমার কন্ঠস্বর বদলে যাবে, আমার চোখেরা নতুন করে দেখতে শিখবে
আমার সকালগুলো বদলে যাবে, দুপুরগুলো বদলে যাবে, আমার কবিতারা
বদলে যাবে, আমার আশাগুলো বদলে যাবে, হতাশারা বদলে যাবে।

তোমাকে ভালবাসি বলার পর থেকে সবকিছু নতুন করে শুরু হবে
আমার নক্ষত্রপুঞ্জের অন্য সব তারা তারস্বরে চিৎকার শুরু করবে
তাদের আলো ধীরে ধীরে কমতে কমতে এমন অবস্থায় দাঁড়াবে যে
একমাত্র তোমার আলো ছাড়া অন্ধকারে ডুবে যাবে পুরো পৃথিবী।

তোমাকে ভালবাসি বলার পর থেকে কিছুই আগের মত থাকবে না আর
সমস্ত সৌন্দর্য নিয়ে পৃথিবীর সুন্দরীরা হয়ে যাবে পানসে
নেফারতিতি থেকে হেলেন, গ্রেটা গার্বো আর ঐশ্বর্য তোমার শরীরের ভাজ
দেখবার জন্যে তোমার আচল ধরে টানাটানি শুরু করলে নিরুপায় আমার
ঘরের খিল দেয়া ছাড়া আর কিইবা করার থাকবে।

তোমাকে ভালবাসি বলার পর থেকে আমার বয়স হয়ে যাবে ষোলো
সময় যন্ত্রগুলো ভুল করে পিছনের দিকে চলা শুরু করলে রোজ বিকেলের সফেদ
মেঘগুলো দিকভ্রান্ত হয়ে তোমার পায়ের কাছে এসে লুটোপুটি খাবে। তোমাকে
ভালোবাসি বলা হয়ে গেলে আর কিইবা বলার থাকবে আমার।

তোমাকে ভালবাসি বলা হয়ে গেলে শেষ বিকেলের রোদ, শীতের ওম সকাল
কিংবা দিগন্তের রঙ স্থির হয়ে ঝুলে থাকবে সমস্ত কবিদের ড্রইংরুমে।
কবিরা কবিতা ভুলে স্থির চেয়ে থাকবেন তোমার দিকে। তোমাকে
ভালবাসি বলা হয়ে গেলে একটা লঙ্কাকান্ড ঘটে যাবে সবদিকে।

তোমাকে ভালবাসি বলা হয়ে গেলে তোমার সমস্ত কিছু কেবল আমিমুখী
আমার দিকে ধাবিত হবে তোমার আশা ও শংকার সুউচ্চ মাস্তুল। আমাকে না দেখলে
তোমার চোখেরা ক্লান্ত হয়ে ঝুলে যাবে দখিনের জানালায়, আমাকে জড়িয়ে না ধরলে
তোমার নিয়মিত স্পর্শগুলো মনে হবে কুষ্ঠ রোগীর। তোমাকে ভালবাসি শোনার পর থেকে
ফিসফিসানি থেকে সমুদ্রের গর্জন কিছুই আর শ্রবনযোগ্য মনে হবে না তোমার।

তোমাকে ভালবাসি বলা হয়ে গেলে তুমি জান
বিশ্বব্রম্মান্ডে ঘটে যাবে একটা মারাত্বক অঘটন। বরং এই কি ভাল নয়
না শোনা আর্তি নিয়ে প্রতিদিন তুমি মুছে যাও ধূলো পড়া ছবির ফ্রেম
বের হয়ে উঠা তীক্ষ্ণ তারকাটার মাথা আলগোছে লুকিয়ে রেখে তুমি
জীবনের ঘ্রাণ নাও বুকের হাস্নুহেনার বাতাসে।

০২.০৯.২০১৩


Monday, August 12, 2013

স্বর্ণলতা অথবা মুক্তি

আমি আপনার কে হই
-তুমি ঘাসফুল ছুঁয়েছো কখনো
সবইতো আছে তবু আমার কাছে কি চাই আপনার
-খালি পায়ে হেটেছো শিশির ভেজা ঘাসে
বড় বেশি হেয়ালি আপনার, বলতেই হবে আজকে
-কেন অযথা জানতে চাও, সবই কি জানি আমি
না, আপনাকে বলতেই হবে; কে হই আমি আপনার
-তুমি, তুমি আমার ধরো মুক্তি
 কিংবা ধরো বারো তলার ছাদ থেকে লাফিয়ে পরার সময়
 হঠাত গজিয়ে উঠা পাখা
মুক্তিই যদি হব তবে ছুঁতে চান কেন আমাকে, কেন জড়াতে চান
-মুক্তিকেও ছুঁতে হয় জড়াতে হয়
 গভীরে যেতে হয়

২৭।০৭।২০১৩

শেরপুর, সিলেট