Sunday, December 27, 2015

বাঁচা

একটা ঘরে বৃষ্টি হলে হউক
একটা পর'এ পুড়লে পুড়ুক বুক
একটা মানুষ ভাঙতে ভাঙতে বাচুক
একটা মানুষ কান্না চেপে হাসুক
একটা নীলে আরো জমুক নীল
তবু জীবন বর্ণনায় বর্ণিল....

Saturday, November 14, 2015

সত্য

সত্য হল বেঁচে থাকা
সত্য হল মরে যাওয়া
সত্য হল আমি
সত্য হল তুমি
সত্য হল সত্য
সত্য হল মিথ্যা
সত্য হল প্রেম
সত্য হল নিষ্ঠা
সত্য হল তোমার আমার
নাক সিটকানো বিষ্ঠা

১৫.১১.২০১৫

Saturday, October 17, 2015

স্বপ্ন

এইরকম অ-যথাযথ স্বপ্নের ভিতর দিয়ে যাও
সত্য কিছু পাও বা নাও যদি পাও
আঁধারে সপ্তডিঙ্গা নাহয় তুমি খামোখাই ভাসাও

দেখো আমার কৈশোর এখনো ঠিকঠাক পার হয়নি
আমি আচমকাই নিমগাছের নীচে আসনপেতে বসে পড়ি
আমার তেলহীন অযত্ন উরুতে নখ দিয়ে লিখে রাখি
তোমার মায়াবী নাম।
নারী তোমার সুশোভিত বেডরুমে আমার অযত্ন উরু কী
বড় বেশী বেমানান?


যাচ্ছেতাই ইচ্ছেতাই

যেমন ইচ্ছা বাঁচ
সুখদৃশ্যে উদ্বাহু নাচ

যেমন ইচ্ছা কামাও
টাকা এবং
সুখি মানুষের জামাও

যেমন ইচ্ছা লেখ কবিতা
আগপাশতলা তলাআগপাশ
যাচ্ছেতাই ইচ্ছেতাই
চিন্তার খোরাক সবি তা

যাহা ইচ্ছা খাও
যেথা খুশি যাও                                   

-নাই রে ভাইরে
তাই রে নাই রে –
কি  আসে যায়

আসে যায়
যায় আসে                              
যায় আসে আসে যায়
ইহাতেই সুখ
কামক্লান্ত মুখ

 

তুলে নাও এই স্বপ্ননাশ দন্ড

যদি প্রতিশ্রুতি দেই
ভুল করেও ছুঁতে চাইব না
যদি প্রতিশ্রুতি দেই
খুব গোপনে আনা চকলেটগুলো এমন আলতো
তুলে দেবো তোমার হাতে, যেন আমার উদ্বায়ী আঙ্গুল
অবচেতনেও ছুঁয়ে না দেয় তোমার করতলের
সৌভাগ্য রেখা।
যদি প্রতিশ্রুতি দেই
ল্যাপটপে পুরোনো ছবি দেখানোর সময় আমার কনুই
বুকের খুব কাছে ঘোরাফেরা করলেও আমি
যথাসম্ভব আষ্টে-পৃষ্ঠে কাষ্ঠ হব
যেন বুকের ওঠানামায় ছুঁয়ে না যায় অনুদ্বায়ী মেঘমালা
যদি প্রতিশ্রুতি দেই
হাঁটার সময় দূরত্ব রাখব একহাত নিদেনপক্ষে এক বিঘত
যেন অনিচ্ছায়ও আমার হাত ছুঁয়ে না দেয় তোমার হাত
এমনকি কড়ে আঙুল
যদি প্রতিশ্রুতি দেই
তোমার অ-জ্ঞান প্রশ্রয়েও 
আমি সজ্ঞান নিরাশ্রয়ী হব

তবু তুলে নাও এই স্বপ্ননাশ দন্ড

কবিতা ও বিষ্ঠা বিষয়ক কথকথা

ভাঙ্গার জন্যেও যে গড়ারই সূত্র
এটা  জেনেও যারা ঠেলতেই থাকেন
পরিনামে তাহারাই ব্রাত্য হন
       
আমলা কবির গামলা ভরা জ্ঞান ( নাকি ফেন)
শামসুর রাহমানকেও ভাগাড়ে ফেলে দেন
      
শেখ হাসিনার গনতন্ত্র আর
সরকার আমিনের ধর্মতন্ত্র
আমিন        আমিন
       
আমার এক বন্ধু পায়ের বুড়ো আঙ্গুলের
গন্ধ পছন্দ করেন, আরেকজন ঘামের গন্ধ
কেউ পোড়া মবিলের গন্ধ পছন্দ করেন
কেউ পোড়া টায়ারের
কেউ আয়ুকামী
কেউ পায়ুগামী
কবিতার বিষ্ঠায় যারা চিন্তার খোরাক খুঁজে পান
তাদের জন্য নাড়াচড়ার কাঠিটি
যথাসম্ভব ছোট হওয়াওই যৌক্তিক

Saturday, September 19, 2015

সুন্দর

তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই দেখিনা
না ভারী চশমায় চোখ, না অপার্থিব মুখ
অবাধ্য চুল তবু ছুঁতে চায় বুকের কারুকাজ
দন্ডিত আমি হৃদয়ের জমিনে দেখি সীমানার সাজ
এ সুন্দর ভীষণ আপন
এ সুন্দর গভীর গোপন

১৭.০৯.২০১৫


Monday, September 14, 2015

বিলাপ

যদি কোনোদিন হন্তারক হই নিজেই নিজের
ভেবো না এ কেবল আমারই অক্ষমতা

আর যদি নিতে না পারি এই দ্বি-ভাব
গোলাপের গন্ধ নিতে নিতে টিংটিঙে রজনীগন্ধার
কথা মনে করে আমি যদি সম্ভোগেই মত্ত থাকি
তবে জেনো, আত্বদহনের কালে
নিজের কব্জিতে ব্লেড চালানোর নাম করে আমি
রক্তাক্ত করি মানব ও মানবতা সংক্রান্ত সমুদয় ভন্ডামি।

আত্বগ্লানির অনিবার্য পীড়নে পুড়তে পুড়তে
নিজের অজান্তেই যদি তোমার নিটোল ঠোঁটে
গেঁথে দেই কামার্ত দাঁত, তবে জেনো
পুরুষ জন্মের পাশাপাশি আমি লালন করি
জন্মজন্মান্তরের পৈশাচিকতা

যদি কোনোদিন তোমাকে অবজ্ঞা করে বসি
যদি বিস্মৃত হয়ে যাই লাউডগা, ছেলেবেলার তুলতুলে পাখি
যদি বিকারগ্রস্ত আমি ইশ্বরের শিরস্ত্রাণ চুরি করে
পরিয়ে দেই তোমার মাথায়, যদি
অমানবিক এই পৃথিবীতে আমি হারিয়ে যাই অকস্মাৎ
তবে ভোরের ঝিরঝিরে  বাতাসে শরীর ডুবিয়ে ভেবো
‘আমাকে জড়িয়ে না থাকলে তোমার জীবন কী ভীষণ দুর্বিসহ!!’

১৫.০৯.২০১৫

Tuesday, September 8, 2015

সাহস

আমি যে কত অক্ষম
কত কিছু জানি না, কত কিছুই বুঝি না
তবু তুমি সাহস করে কিছুই বল না
তোমার সাহসের আশায় হৃদয় পেতে বসে থাকি



গন্ধ

আজকাল সামাজিক গন্ধরা আমাকে জ্বালিয়ে মারছে
চোখ কান ও নাক সমেত আমার সমস্ত মুখমন্ডল
আঙ্গুল কব্জি ও হাত সমেত আমার সম্পূর্ণ বাহু
বুক পেট ও নিন্মাঙ্গ সমেত
আমার সমস্ত দেহ এখন ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠেছে

যতই নির্বিকার ভাব নিয়ে ঘুরে বেড়াই
অনাচার থেকে পাশ ফিরে হাই তোলা হামুখে
যতই দুই আঙ্গুলে তুড়ি বাজাই
আমার ঘ্রাণেন্দ্রিয় হয়ে উঠা শরীর হরহামেশাই কুঁচকে যায়
ভোজসভায় নাচসভায় এমনকি রাজসভায়

চুনকাম করা নারী আলিশান বাড়ি শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি
সরকারি আমলা গো পানীয় ভর্তি গামলা কিংবা পৌরসভার
কামলা, রাজনীতিবিদ বিশ্বখ্যাতিবিদ টকশোবিদ বা পণ্ডিত
একটা আঁশটে গন্ধ আমাকে আটকে রাখে ঘরে
যদিও গতানুগতিক চর্ম হাড় ও রক্ত মাংসের এ দেহের
অকৃত্রিম আবাস আসলে নিজেরই খোঁড়া আস্তাকুড়ে

নর্দমা আবর্জনার স্তূপ আর ভাগাড়ের গন্ধই কেবল মৌলিক ও শ্লীল
উন্নয়নের উল্লম্ফনে সাংবিধানিক সকল কিছুই অশালীন ও অশ্লীল


Saturday, September 5, 2015

দুঃখের ফেরিওয়ালা

কখনো কখনো কবিতাও বিরক্ত লাগে
মনে হয় আমি অর্থহীন অক্ষমতা বপন করি কবিতায়
বিষন্ন শব্দেরা হাশপাশ করে, হুতোম প্যাঁচার মত বেজার মুখে
ঢং বদলে আমি মূলত ফেরি করি দুঃখের

ইদানিং দুঃখ বিলাসি বলে আমার দুর্নাম আরো বাড়ছে
এই তুমি সেই তুমি এই পাওয়া সেই পাওয়া
এই প্রেম সেই প্রেম এই দ্রোহ সেই দ্রোহ
হিসেবের খাতা কেবল উড়ছে।

একসময় এক নারী কিছুই না বলে
ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাশে বসে থাকতো
একবার এক নারী হাতে হাত রেখে
চোখের জল ফেলেছিল। আরো একবার একজন
অস্পষ্ট সন্ধ্যায় বকুল গাছের নীচে ছড়ানো বকুল দেখে
ভোরের সতেজ বকুল কুড়িয়ে মালা গেঁথে দেয়ার কথা
বলেছিল।  আহা বকুল
শেষমেশ শুকিয়ে যাওয়াই যার নিয়তি
মূলতঃ প্রাকৃতিক বলেই এ নিয়ে আর তর্ক চলে না

এমন নয় যে এখনি জীবন যুদ্ধে ইস্তফা দিয়ে লিখছি কবিতা
তবু আমার দীর্ঘশ্বাসের নাম কবিতা, অক্ষমতার নাম কবিতা

এই জীবন বদলে যদি অন্য জীবন চাই
তবে আমি একটি কবিতাহীন জীবন চাইব
চাইব পেশীবহুল কৃষকের জীবন
চাইব একরোখা প্রেমিকের জীবন
কিংবা তুলতুলে রঙিন প্রজাপতির জীবন
না চাইলেও যেন ছুঁয়ে দিতে পারি তোমার
উদোম পিঠ


Sunday, August 30, 2015

খোঁজ

বেশ কিছুদিন হল আমার কবিতারা সপ্রাণ হয়ে উঠেছে
কবিতার শব্দ অক্ষর আর বাক্যগুলো হারিয়ে যাওয়া
প্রেমিকার মত হঠাতই জেগে উঠে আমার কবিতাকে
নিয়ন্ত্রণ শুরু করে দিয়েছে

আমার কবিতার শব্দগুলো মাঝে মধ্যেই জীবন্ত হয়ে উঠছে
দুপুর সন্ধ্যায় এমনকি মাঝরাতে
নিজেই ইজিচেয়ারে হেলান দিয়ে কবিতা পড়ছে
কফি বানাতে গিয়ে অগোচরে চিনি বেশি হয়ে যাচ্ছে, নিজের
অসতর্কতার ভার আমার উপর চাপিয়ে দিয়ে অযথাই  
রাগ করছে, দিনের পর দিন কথা বন্ধ রাখছে।

আমার কবিতার কমা দাড়ি কোলন অক্ষর
আমার সঙ্গে কথা শুরু করলে আমি যারপনায় খুশি ই হয়েছিলাম
কিন্তু আজকাল কিছুতেই বাগে আনা যাচ্ছে না
ওদের যথেচ্ছ্ব ব্যবহারে আমি বিচলিত, কবিতার শব্দেরা
স্বয়ং মানবীয় অবয়ব নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে, দিনের পর দিন
মাসের পর মাস, কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিনা ।

খুঁজব যে তেমন ঠিকঠাক ঠিকানাও জানা নেই
কেমন ঘরে থাকে, কোন পথে হাঁটে, কি কি বারে মেডিটেশনে
যায় কিংবা মাসে একবার ফিজিওথেরাপি
এইসব আবছা জানলেও বাসা নম্বর, রাস্তা এসবের কিছুই জানি না

আমার আশরীরী শরীর কামমোহিত হয়ে পড়লে ছুঁয়ে দেয়ার জন্য
আমি কিছুতেই তাকে পাই না। কবিতার খাতা সুশোভিত
কল্পিত ড্রইং রুম এঘর ওঘর অন্তর্জাল ও বহির্জাল, আহা
কবিতা ছাড়া আমার সুখ স্খলন কিছুতেই হয় না।




Sunday, August 23, 2015

কিশোরী

ছুঁতে চেয়েছিলাম মন
বাঁশঝাড় পেরিয়ে লুকোচুরি দীঘল বন
ছুঁতে চেয়েছিলাম উড়ে যাওয়া হারিকিরি ফ্রক
হাইস্কুলের মাঠ পেরিয়ে ইঁদারার জলে কাঁপতে থাকা
                                               বিষণ্ণ তোর মুখ
কিশোরী, তোর অতলস্পর্শী বিরাণ চোখে
                                     আমার গহীন ঘন সুখ।


Friday, August 21, 2015

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে
যদি তোমার চাওয়াগুলোকে রেখে দাও ওজোনস্ফিয়ারে
সবকিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি চেয়ারে হেলান দিয়ে
চোখ বুজে দেখতে থাক সিলিং ফ্যানের ঘূর্ণন এবং
প্রত্যাশা না কর কাঁধে কোনো হাত
যদি তুমি প্রেমপুরাণে বিশ্বাস কর নির্দ্বিধায়
মনসাগরে না ডুবে
যদি তুমি অনায়াসে ডুবে যেতে পার সম্ভোগ গহ্বরে

সব কিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি ভুল করেও
দৈনিক পত্রিকাগুলো হাতে তুলে না নাও
যদি তুমি টেলিভিশনের ভলিউম পুরোপুরি অফ করে দিয়ে
গভীর রাতে দেখতে থাক সুশীলওয়ালা দের শার্টের রঙ আর চুলের ভাঁজ

সবকিছুই ঠিকঠাক চলবে যদি তুমি  প্রেমানুভুতি
ধর্মানুভুতি কিংবা দলানুভুতির জোয়ারে
ভাসিয়ে দিতে পার পথঘাট এমনকি পয়ঃনিষ্কাশন নর্দমা

যদি তুমি পড়তে পার কেবল চোখ দিয়ে
যদি তুমি দেখতে পার কেবল দৃষ্টি দিয়ে
যদি তুমি বিশ্বস্ত থাক বিস্তৃত নৈঃশব্দতায়
আর ভোরের সবজি ফেরিওয়ালার কাছে মগজ বেঁচে দিয়ে
অপেক্ষা করতে থাক অনাগত আলোকোজ্জ্বল দিনের।


বউ

তোমার দিকে হাত বাড়ালেই
তুমি পেতে দাও করতল, উষ্ণ বা শীতল
তোমার দিকে হাত বাড়ালেই
তুমি গলে যাও, অথবা না গলেই আলিঙ্গনে জড়াও
তোমার দিকে হাত বাড়ালে তুমি চাও বা না চাও
আমার দিকেই ধাও

তবু আমি চাই তুমি একবার অন্ততঃ আমাকে চাও
আমি গলে গলে নক্ষত্রপুঞ্জ হয়ে জ্বলতে থাকি।

Wednesday, June 10, 2015

প্রকৃতির ডাকে সাড়া না দিতে পেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ়

সম্ভাবনার দ্বার যখন খুলে যাচ্ছিল ঢাকার আমি আটকা পরেছিলাম বাস এর মধ্যে
এ জট কেবল যানের নয়, যান ও দেবদূতের। এ জট আশু উন্নয়নের এ জট পানির
ন্যায্য হিস্যার। সুতরাং আমরা গন্তব্য ভুলে গিয়ে স্বপ্নতাড়িত হয়ে পড়ছিলাম আশু
উন্নয়ন সম্ভাবনায়, তিস্তায় টলমলে পানির স্বপ্নে যখন বিভোর ছিলাম দেখি, নিজের
অজান্তেই পানির চাপ বাড়তে থাকে আমার তলপেটে
এবং বাড়তেই থাকে

আমি অন্যমনস্কতার ভান করি। মনযোগ দিয়ে পড়তে থাকি চুক্তি, প্রটোকল, আশ্বাস,
পত্রিকার পাতা উপচে পড়া প্রশংসা। আমার চাপ অসহ্য ঠেকে। সফেদ শ্মশ্রুমণ্ডিত দেবদূতের
ছবিতে চাপ ভুলে থাকার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার চোখে ভেসে উঠে ২০০২ সাল, গুজরাট

ট্রেনে আগুন দিয়ে ৫৮ জনকে হত্যা। প্রতিক্রিয়ার সরকারি মদদে হত্যা প্রায় দুইহাজার।
সন্তানের সামনে বাবা-মাকে হত্যা, মেয়েদের অপহরণ, গনধর্ষণ। সাইদা’র গর্ভস্থ সন্তানকে
বের করে সেখানে জ্বলন্ত কাপড়ের টুকরা ভরে দেয়া, মুসলমানেরা নাকি পুড়তে ভয় পায়! পুলিশের সামনে এহসান জাফরি খন্ডিত বিখন্ডিত, সমালোচনার ফল দেখো প্রাক্তন সাংসদ!!

আমার চাপ বাড়তেই থাকে। মনে হয় এক্ষুনি ভিজিয়ে দেই নিজেকে লুকিয়ে রাখা আমার
পরিধেয় কাপড় সহ গাড়ির পাটাতন, আশু উন্নতি ও উন্নয়ন সম্ভাবনা সংক্রান্ত সমুদয় দলিল
ও খবরের কাগজ। তলপেটে অসহ্য চাপ নিয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি চোখ বুজে বলতে থাকি
‘মানুষ বিনাশের এই প্রলয় নাচনে গণতন্ত্র দীর্ঘজীবী হউক’।

১০.০৬.২০১৫


Thursday, June 4, 2015

জল বাড়ছে

জল বাড়ছে
জল বাড়ছে চৌদিকে
ঘরে জল উঠোনে জল
ডুবে যাচ্ছে জলের কল
ভয়ার্ত চোখে নিঃসঙ্গতা টলমল

তবে কি ডুবে যাবে এই অমরাবতী
জল বাড়ছে



Friday, May 29, 2015

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে তবে কে আমাকে জড়িয়ে ধরে সকাল দুপুর
মধ্যরাতে

একবার নিজের থেকে কিছু নীল ভাগ দেবো বলে ফ্যাকাশে হওয়া
বিকেলে আকাশের দিকে যাচ্ছিলাম জগন্নাথপুরের খাল পেরিয়ে। আকাশ
এমন নির্বোধ মাঝপথে আমাকে আটকে দিলো ঘন অন্ধকার হয়ে

অতঃপর যা হবার তাই। নীলেরা অন্ধকারের বুক চেপে বসে থাকলো।

সেই থেকে অন্ধকারের সঙ্গে নটঘট। অন্ধকারের সঙ্গে প্রেম প্রণয়
অন্ধকারের সঙ্গে বাক বিতন্ডা, অন্ধকারের সঙ্গে বৈরিতা। আমি
উদোম আলোয় অন্ধকারের শান্ত হাত ধরে বসে থাকি

অন্ধকার যদি অনঙ্গ হবে
কে তবে বুকে চেপে থাকে এই আলোর প্লাবনে

২৯.০৫.২০১৫

Wednesday, May 27, 2015

পঞ্চপান্ডব

“কুন্তী বলিলেন যুধিষ্ঠির যাহা বলিবে তাহাই সত্য
সুতরাং দ্রৌপদী পঞ্চপান্ডবের ভার্যা হউক”।

অতঃপর বাংলাদেশের মহা পুলিশীয় দুষ্টামি সূত্রমতে
একদল পান্ডব গান্ধর্ব মতে ক্ষুদ্রকায় বাস এর ভিতরে
একটি গারো যুবতির সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হইলেন।

সভ্যতার ক্রমউন্নতির এই যুগে
পৌরুষ উত্থানে ইহা একটি মাইলফলক বটে!

২৬.০৫.২০১৫



Tuesday, May 19, 2015

অপেক্ষা

কারো জন্যে অপেক্ষায় থাকি না,
কিছুর জন্যেই না
শেষ দানে হারিয়ে স্বর্বস্ব
পরাজয় তবু নিজেই মানি না


Monday, May 11, 2015

সত্য তবে অশ্বডিম্ব

(কবিতাটা নিয়ে একটা খচখচানি ছিলই। তাই কিছু লাইন বদলে কবিটাতে অন্য অবয়ব দেয়ার চেষ্টা করেছি। মন্দ কি একই অঙ্গে ভিন্ন রূপ!!)


মহাশূন্যতাই যদি অনন্ত আশ্রয়
তবে সত্য হউক অশ্বডিম্ব
ইশ্বর, তোমার মনুষ্যজন্ম কতটা রোমাঞ্চকর ছিল
সে চিন্তা থাক। ভালবাসার নাম করে তুমি যতই
হাউমাউ করে কাঁদো মহান সংসদে, সেটা অবশেষে
গ্রাম্যতা বলেই গন্য হবে। তোমার নিযুতবর্ষি
অপেক্ষারা ঝুলে থাকুক বিরাণ জানালায়, ব্যস্ততম
চৌরাস্তায়, বেদখল হয়ে যাওয়া ব্যালট বাক্সে
মুঠোফোনের কম্পনে কিংবা ভিনদেশি পাহাড়ি বৃষ্টিতে

আর যথারীতি পৃথিবী ঘুরুক তার নিজেরই অক্ষে
‘ভগ’এ ই চলুক মানুষের ভোগ
ক্ষমতার মহান মসনদে একনায়ক আর একইশ্বরে
আমরা বরং সমবেত হই এক কাতারে
এবং অন্ধকারের সিঁড়ি বেয়ে আমাদের যাপিত জীবন
অচ্ছুতই থেকে যাক দুঃস্বপ্নের সীমানায়

আমি অপেক্ষায় থাকি তোমার দুর্দশাগ্রস্থ লাজুক
চেহারা দেখবার জন্যে যখন তুমি কান্না লুকাতে গিয়ে
পুব আকাশে রংধনু হয়ে জেগে ওঠ। ইশ্বর
তোমার দুঃখ ভুলানিয়া রংচঙে রূপ দেখে আমি
অপলক চেয়ে থাকি, যেমন করে কিশোরীর স্তন
দেখে আলাভোলা নাকাল কিশোর


Tuesday, May 5, 2015

দুঃখের জন্যে করুণা

আমার কি যে হচ্ছে আজ
পুকুরে হেলে পড়া আমগাছের ডালটা
খুব মনে পড়ছে। মনে পড়ছে ডালের উপর
শালিকের বাসায় ছোট্ট ছানাটার কথা

বাতিটা নিভানোই থাক। মন খারাপ জানালার
কপাটগুলো কাঁপছে কেন? এই শীতরাতেও
ভূরভূরিয়ার বর্ষণধবল দুপুরে খেয়া পারাপারের
ঘাটের কথা কেন মনে পড়ছে

কোথাও নেই কেউ। দূরে সিনেমার শো শেষ হলে
অন্তরঙ্গ হাঁটে নিস্তরঙ্গ দম্পতি।
লটারির টিকেটের সুখস্বপ্নের সময়েও
অন্য কোথাও পার ভাঙে সর্বনাশা নদী

এই রকমই হয়। শিয়রে মখমলে বালিশ রেখেও
যাদের ঘুম হয় না করুণা ছাড়া তাদের জন্যে
আর কি হতে পারে


০৫.০৫.২০১৫