আমি ঘর থাইকা
বাইর হইতে গেলে আব্বা আমার দিকে চাইয়া থাকে। কিছু কয় না। আমি মাথা নিচু কইরা বাইর
হইয়া যাই। ঘরে অনেক মেহমান, আমার থাকনের জায়গা নাই। আমি বাইরে থাকমু। তবু আব্বা
চাইয়া থাকে কেন। আমি অন্য ঘরে যাই, অন্য ঘরে গিয়া ফাঁকা বিছনা পাইয়া আমি কবিতা লেখি।
এর মধ্যে একটা মাইয়া উপুর হইয়া শুইয়া আমার কবিতা পড়ে। আমি তারে আমার কলম দিয়া গুতা
দেই। তার পিঠে, তার মাংসে গুতা দেই। মাইয়াটা খিল খিল কইরা হাসে। আবার অন্য মানুষজন
আইসা আমার বিছানা ভইরা যায়। ওই মাইয়া আমারে কয় অন্য ঘরে চলেন। আমি অন্য ঘরে যাই।
সেইখানেও মানুষ। এর মধ্যে অন্য একটা খাটে মশারী খাটাইতে খাটাইতে মনে হইল না বাইরে
যাই। বাইরে গিয়া দেখি জোছনা আর বন্যায় দুনিয়া ভাইস্যা যাইতাছে। আমার ঘরের সামনের
মাঠে আমি সাতরাইতে থাকি। আমারতো যাইতেই হইব। কিন্তু কই যাইতে হইব জানি না। মাইয়াটা
এর মইধ্যে হারাইয়া যায়। আমি সাতরাইয়া মাঝ মাঠে যাইতে যাইতেই পানি হাওয়া হইয়া যায়।
দেখি এই মাঝরাইতে মাঠের মইধ্যে চাঁদের হাট। ভয়ানক জোছনায় মানুষজন চেয়ার টেবিলে
বইসা আনন্দ করতাছে। আমি এইসব পার হইয়া যাই। পার হইয়া ভোকেশনালের (যদিও আমার
গোবিন্দ ভবনের কথা মনে হইতেছিল) পাকা রাস্তায় উঠি। এর মধ্যে আমার সৎ মায়ের গলা
শুনা যায়। আমি পাত্তা না দিয়া হাইটা খোকনদের বাড়ির দিকে যাই। গাছপালার জঙ্গলের
মধ্যে দিয়া আমি খোকনদের বাড়ি পার হইয়া শাহিনদের বাড়ির দিকে যাইতে থাকি। এর মধ্যে
মনে হইতেছে আব্বা আবার বদনা লইয়া টাট্টির দিকে যাইতে যাইতে আমারে দেইখা ফেলছে। মইরা যাওয়ার পরে দেখি আব্বার স্বাস্থ্য আরো ভাল হইছে। আমি গাছাপালার
আড়ালে লুকাইয়া যাই। আব্বা চাইয়াই থাকে। তবু আমি নিচু হইয়া শাহীনদের বাড়ির দিকে যাইতে থাকি। শাহীনের বাড়ির কোনায়
পোলাপাইনের আসর বসছে। শাহীন ভাল ছেলে, শাহীন ওইসবে নাই। কিন্তু আমার ওইখানে যাইতেই
হইব। আরেকটু আগাইয়া দেখি শাহীনের আব্বা চাপকলে গোছল করতেছে। উনিও মইরা গেছেন গত
বছর। আমার খটকা লাগতেছে। আমি কিছুতেই আগাইতে পারতেছি না। কিন্তু আমারতো যাইতেই
হইব।
১৩.১০.২০১৮
No comments:
Post a Comment