Thursday, September 24, 2020

কথোপকথন

 ১৯.০৮.২০২০

-দ্যাখেন, মেঘমালা ঝরছে
পছন্দ হইছে নামটা?
-হুম, খুব
নেবেন?
-দেবেন?
শব্দের মধ্যে যে অন্য শব্দেরা বাস করে
তাই কবিতা। কবিকে প্রশ্ন করতে নেই
-কবি এতো কাঠখোট্টা কীকরে হয়?
আমি মেঘমালা চাই না, আমার বৃষ্টিই ঢের
এইভাবে যে ঢের বলছো, জানো তো ঢের এ ঘের দেয়া
-জানি, নক্ষত্রের ঘের
তো? মেঘমালা না নিয়ে ঘের এ ঢুকে যাচ্ছ যে বড়!
-ইচ্ছে হলে ঢুকব, কার কী? ঈশ! নক্ষত্রের ঢের নিচের ঘের!!
শোনেন মশায়, আমি নক্ষত্রের উপরে থাকি, নিচে নয়
আমাকে ঘের দেয়া অত্ত সহজও নয়
তা জানি, নারী তো নিজেই নক্ষত্র
নক্ষত্র বিষে পুড়ে যায় দেহ
পাই বা না পাই, ছুটে যাই
👥

২১.০৯.২০২০

 

আমাকে ভেবেছিলে এই কয়দিন?
-হুম
কেন ভাব? কী হয়?
-এতো কিছু জেনে ভাবে মানুষ?
কী ভাবছিলে বল তো...কত আগের!
-তোমার মোবাইল নাম্বারটা, কেমন মুখস্ত এখনো দ্যাখো
  মনে আছে তোমার?
না। আর?
-আরও কত কী! সেইযে বরিশাল গেলে, সৌমেনের ঘর
হুম, বাদ দাও। কত বছর গেল। নিশ্চয় অনেক নতুন স্মৃতি হয়েছে
সেইসব ভাব। কী লাভ পুরোনোকে রেখে?
-আবারো লাভের কথা! কত পুরোনো দেখ এই শরীর, মন
  ফেলে দিতে পারছি?

 

 
 

Wednesday, September 23, 2020

সুন্দর

সুন্দর চোখ মেলে তাকালে সুন্দর
নড়ে উঠলে সুন্দর, শব্দ করলে সুন্দর
কথা বললে বেশি সুন্দর
সুন্দরে ঝড় উঠলে সুন্দর
আরও বেশি সুন্দর

 

 

Tuesday, September 22, 2020

আইডেনটিটি

ভর দুপুরের ঘুম তোমার স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে না
ভাঙ্গা লোহা ও টিন স্তুপ হয়ে আছে বারান্দায়,
তুমি সফেদ চাদরে ভাসছ
এই জনাকীর্ণ শহরে কোথায় খুঁজছো মেঘমালা
 
মগজে কিলবিল করে ছোট মাছ, ঠোকরাচ্ছে হৃদয়
মিলান কুন্ডেরার ‘আইডেনটিটি’ পাশে ছড়ানো
মৃত মানুষের অভিনয়ে আর কত তুমি ভাসবে জলে
 
ছিঁড়ে ফেল অজ্ঞাতনামা চিঠি, মুখের আড়ালে মুখোশ
অনেক বাঁক ঘুরে প্রেম এসে দাঁড়ালে দরোজায়, স্মৃতির
খোঁড়লে চাপা দাও আর্ত পলিমাটি
 
২২.০৯.২০২০

ডিগবাজী

জীবন ওইখানে দাঁড়িয়ে ছিল, আমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম
আমাদের ছোটবেলায় জীবন শূন্যে ডিগবাজী খেত আমাদের সামনে
আমরা তাঁকে মামা ডাকতাম, জীবন মামা
 
জীবন মামার কী যে হল, আর কোনো খোঁজ জানিনা
মামার একটা ভাগ্নি ছিল ইভা। ইভার কথা মাঝে মাঝে
মনে হয়। লম্বাটে, ছিপছিপে। বেশ ফর্সা।
আমরা অবশ্য তখন ফর্সাকে সাদা বলতাম
সুন্দরী বলাটা ছিল আমাদের ভব্যতার সীমার বাইরে। তখন কেউ সুন্দরী ছিল না
কেউ কালো কেউ শ্যামলা কেউ সাদা। ইভা সাদা ছিল
 
আরো পরে এভারগ্রিনে কোচিং করার সময় এক ইভা ছিল আমাদের সাথে
সেও দেখতে একই রকম, লম্বা, ফর্সা। তবে সুন্দরী
তখন সুন্দরী বলা শিখে গেছি আমরা। ইভার সঙ্গে কথা বলার জন্য
ওর পাশে বসার জন্য সেকি চেষ্টা সকলের!
তারপর আমিই একদিন এভারগ্রিন ছেড়ে দিলাম। ইভা আবারো হারিয়ে গেল
 
জীবন এখনও পাশে দাঁড়ানো। তাকে জানি না। পাশ কাটিয়ে চলে যাই
জীবন মামাকে খুঁজি। তাঁর শূন্যে ডিগবাজী দেখার খুব ইচ্ছা ইদানীং
 
২১.০৯.২০২০

  

সাহস

আমার সাহসের অভাব অনেকেই যেমন জানেন আমিও জানি
জানা নিয়েও অজানা অনেক কথা থাকে, খুব রাতে
সেই অজানা নিয়ে ভাবতে ভাবতে অনেক জানা গল্পের
সুরাহা করতে আমি ব্যর্থ হই
 
একটা ভীষণ ঝড়ের রাতে আমি আব্বার সাথে ঘরের খুঁটি জাপটে ধরে কী এক সুরা পড়ে যাচ্ছিলাম জোরে জোরে। আর আমার বোনটা দরজা খুলে চলে গিয়েছিল আম কুড়াতে। সেই সাহস! সেই সাহসের বিন্দুমাত্রও আমি আয়ত্ব করিনি। আমার ভীরু হাত ধরে রেখে আমার সাহসী বোনটা একদিন মরে গেল। আমি সারারাত তাঁর দিকে তাকাতে পারিনি
 
আপনারা যারা পৃথিবীকে নতুন করে দাঁড় করাতে চান
তাঁদের সাধুবাদ। আমার মা মরে গিয়েছিলেন অপমান সইতে না পেরে
আমি এখনো বাঁচছি। বেঁচে আছি। আপনারাও আছেন
 
এই ঘিনঘিনে পৃথিবীতে বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে সাহসী কাজ, কি বলেন?
 

১৯.০৯.২০২০ 

Friday, September 18, 2020

দুই লাইনের কবিতা


আমি প্রখর রোদে মাতাল হওয়া লোক
আমার কেবল মৃত্যুর দিকে ঝোক
  •  
 গৌন আর যৌনতায় ভরপুর পৃথিবী
আমি গৌন না হলেও যৌনতায় ঠিকই ভিজি

Thursday, September 3, 2020

মোহন, মৃত্তিকা ও নীলিমা

পৃথিবীর সমতলে হেঁটে চলার দিন শেষ
হে আমার প্রিয় কন্যারা, আমার অক্ষমতা তোমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছ
এই নিরানন্দ পৃথিবীতে আনন্দে থাকার কোনো সূত্রই আমি আয়ত্ব করতে পারিনি
তোমাদের শেখাবার মত কোনো জ্ঞান আমি অর্জন করতে পারিনি
 
একটা পরিত্যক্ত নৌকার গলুইয়ে বসে আমি তোমাদের বেড়ে উঠা দেখি
 
তোমাদেরও জন্মের অনেক আগে, তোমাদের জন্মের কোনো সম্ভাবনারও আগে
তোমাদের নামে আমি ভালোবাসাকে কৃতদাস করেছি
আর আরাধ্য করেছি এক হিজলগাছ।
তারপর
সেই কোমল হিজল গাছের পথে
                  হেঁটেছি নিরন্তর
 
প্রপিতামহ থেকে পিতামহ, পিতামহ থেকে পিতা, পিতা থেকে আমি
আমি থেকে প্রবহমান যে রক্তবীজ
তার সমস্ত দায় আমারই। আমার এই অনন্যোপায় ডানা ঝাপটানো
হে সন্ধ্যাকালীন হিজল গাছ
হে অনাবাসি আর্য চাঁদ
আমাকে লুকিয়ে রাখ তোমার আচ্ছাদিত বিহ্বল বিলাপে
 
আমার নগ্নতায় লুকানোর কিছু ছিল না, পৃথিবীর আচ্ছাদনের কাপড়
আমার শরীরকে কলুষিত করেছে
আমার প্রেমে জরাগ্রস্থ শীতকম্পন তুমিই জাগিয়ে দিয়েছ
হে নারী, ঈশ্বরের তীর্থযাত্রায় আমিও তোমার সঙ্গী ছিলাম
 
আপনারা যারা আমাকে পৃথিবীর নিয়ম টিয়ম শেখাচ্ছেন
তাঁদের বর্তুল ভাবনার চাপে পড়ে, মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে
আমি ভুলে গেছি কমলালেবু আসলে দেখতে কেমন হয়; যৎসামান্য আঁচড়ে
মৃত্তিকায় লেখা মা সমেত ‘অধিক অন্য কোনো নাম’ও মনে পড়ে না
 
মূলত, এ জীবন কেবলই আমার ছিল, আমি আর আমার
আমি আর আমার, আর একটা গোত্র ভুলে যাওয়া প্রজাপতির
 
পৃথিবীর মানচিত্রে ব্রহ্মাণ্ডের ঢেউ আছড়ে পড়ে, মৃত একটা শরীর ছাড়া
আর কিছুকেই আমার নিজের বলে মনে হয় না। আমি মানুষ নই,
নতুন জন্মে আমি গাছ হয়ে বাঁচবার স্বপ্ন দেখি
হে মানুষ মানুষে লালিত কালান্তরের পাপ
আমাকে মুক্ত করো তোমাদের ক্রোধ থেকে, সমুদয় বীভৎসতা থেকে
 
আমি বেঁচে আছি কিংবা বেঁচে ছিলাম
আমি বেঁচে থাকব, কিংবা হারিয়ে যাব অচিরেই
চোখ বন্ধ করে, কিছু মনে না রেখে, আমি এইসব নির্দয়তা ভুলে যেতে চাই
যেন আমার কখনো জন্মই হয়নি, মা বলে কাউকেই আমি
জানিনি কোনদিন। আমি বিষণ্ণতার গর্ভে জন্মেছিলাম
তারপর সকালের কোলাহলে জেগে উঠে দেখেছি রমনক্লান্ত স্বামী স্ত্রী
আর আধার খুঁজতে এসে বর্শীতে আটকাপড়া ক্রন্দনরত মৎসযুগল
 
একজন পরাজিত মানুষের বেঁকে যাওয়া মেরুদণ্ডকে তোমরা ক্ষমা করো
হে আমার প্রিয় কন্যারা,  নিজের ক্রোধ-উন্মত্ত আর জরাগ্রস্ত উত্তরাধিকার করা ছাড়া
তোমাদের দেয়ার মত কিছু নেই আমার, তোমাদের শেখাবার মত
কিছুই শিখিনি আমি, যে শিক্ষা তোমাদের সামনে অবারিত আজ
সেইসব আমার চেয়েও অক্ষম কোনো গল্পকারের নির্বোধ মিথ্যাচার
 
তোমরা বিশ্বাস রেখো পৃথিবীর সমান্তরাল ভালোবাসায়
 
আসবার সময় মায়ের কবরের ওপারে সবুজ কালিতে যে চিঠি আমি
লিখে রেখেছিলাম, তোমরা বিশ্বাস রেখো সেই সবুজে। আমার শব্দপুঞ্জে
সেই সবুজ আমি গেঁথে রেখে যাচ্ছি তোমাদের কথা ভেবে
একটা জীবন কেমন সবুজে আটকে যায়, কেমন কবিতা হয়ে যায়
 
আমি কেবল তোমাদের ভালবাসার দিকে নতজানু
ভোরের বাতাসে তোমরা কাশফুলের মত দুলে উঠো, হেসে উঠো
উদ্ভাসিত থেকো পৃথিবীর গোধূলিতে, যেখানে রংধনু ঝুলতে থাকে ভালোবাসার
 

  

বসে আছি মোহন মৃত্তিকায়

আমাকে সহজেই ছুড়ে ফেলে দিতে পার, অন্ধকারে ঢেকে দিতে পার
আমি তোমাদের সাথে হাঁটিনি, তোমাদের মত করে ভাবিনি
আমার শব্দেরা আনন্দিত হয়নি তোমাদের উৎসবে, কাতর হয়নি
তোমাদের শোকে। আমি নিরব থেকেছি তোমাদের দ্রোহে
 
আমি অপরাধী দেখে কেঁদেছি, দেবতা দেখে হেসেছি
পার হয়ে গিয়ে মানবস্তম্ভ, আমি ফিরেও দেখিনি আর
তোমাদের গল্পে আমার বিশ্বাস জাগেনি, তোমাদের স্বপ্নে
আমার তন্দ্রালু চোখে নেমেছে গভীর ঘুম
 
তোমাদের উত্থানসহজ মন্ত্র আমাকে টানেনি, আমি হেঁটেছি হাতলবিহীন সিঁড়িতে
তোমাকে ফেলে রেখে আমি ছুঁয়ে দিয়েছি উদ্বেল নদী
তোমার মুক্তবর্ণ স্তনে আমি গেঁথে দিয়েছি ক্রোধোন্মত্ত কামনার দাঁত
 
জল জোছনা, আমাকে ভিজিয়ে দেয় মানুষেরই অক্ষমতার শ্লোক
 
আমাকে একা ফেলে রেখে হেঁটে চলে যায় একটা দীর্ঘ জনপদ
আমি প্রায়শ্চিত্তহীন, হাঁটুগেড়ে বসে আছি মোহন মৃত্তিকায়
 

ৎ(বু) জীবন

কোথাও যেতে হবে, কিন্তু সকালে ঘুম ভেঙে
কিছুতেই মনে পড়ছে না কোথায় যাওয়ার কথা ছিল
আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নাই
 
আমার শহর নাই, আমার গ্রামও নাই
আমার গ্রামে আমি ভাড়াটিয়া ছিলাম, কারণ
আমার পূর্বপুরুষ অন্য গ্রাম থেকে এসেছিল। এই শহরেও তাই
 
আমার জীবনেও আমি ভাড়াটিয়া, আমার জীবন নাই
আমি অন্য জীবন বয়ে বেড়াচ্ছি
 
আমি যে মিছিলে হেঁটেছিলাম, সেটাও আমার ছিল না
আমি যে আঁধারে লুকিয়ে ছিলাম, সে আঁধার ছিল অন্যের ছায়া
আলোতে আমি পথ ভুলে যাচ্ছি, আলো আমাকে অন্ধ করে দিয়েছে
 
আমি কার হাত ধরে বসেছিলাম ওই অচেনা নদীর পাড়ে?
সে নদী আমার ছিল না। সে হাতও অন্যের ছিল