পৃথিবীর সমতলে হেঁটে
চলার দিন শেষ
হে আমার প্রিয় কন্যারা, আমার অক্ষমতা তোমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছ
এই নিরানন্দ পৃথিবীতে আনন্দে থাকার কোনো সূত্রই আমি আয়ত্ব করতে পারিনি
তোমাদের শেখাবার মত কোনো জ্ঞান আমি অর্জন করতে পারিনি
একটা পরিত্যক্ত নৌকার গলুইয়ে বসে আমি তোমাদের বেড়ে উঠা দেখি
তোমাদেরও জন্মের অনেক আগে, তোমাদের জন্মের কোনো সম্ভাবনারও আগে
তোমাদের নামে আমি ভালোবাসাকে কৃতদাস করেছি
আর আরাধ্য করেছি এক হিজলগাছ।
তারপর
সেই কোমল হিজল গাছের পথে
হেঁটেছি নিরন্তর
প্রপিতামহ থেকে পিতামহ, পিতামহ থেকে পিতা, পিতা থেকে আমি
আমি থেকে প্রবহমান যে রক্তবীজ
তার সমস্ত দায় আমারই। আমার এই অনন্যোপায় ডানা ঝাপটানো
হে সন্ধ্যাকালীন হিজল গাছ
হে অনাবাসি আর্য চাঁদ
আমাকে লুকিয়ে রাখ তোমার আচ্ছাদিত বিহ্বল বিলাপে
আমার নগ্নতায় লুকানোর কিছু ছিল না, পৃথিবীর আচ্ছাদনের কাপড়
আমার শরীরকে কলুষিত করেছে
আমার প্রেমে জরাগ্রস্থ শীতকম্পন তুমিই জাগিয়ে দিয়েছ
হে নারী, ঈশ্বরের তীর্থযাত্রায় আমিও তোমার সঙ্গী ছিলাম
আপনারা যারা আমাকে পৃথিবীর নিয়ম টিয়ম শেখাচ্ছেন
তাঁদের বর্তুল ভাবনার চাপে পড়ে,
মায়ের কবরের সামনে দাঁড়িয়ে
আমি ভুলে গেছি কমলালেবু আসলে দেখতে কেমন হয়; যৎসামান্য আঁচড়ে
মৃত্তিকায় লেখা মা সমেত ‘অধিক
অন্য কোনো নাম’ও মনে পড়ে না
মূলত, এ জীবন কেবলই আমার ছিল, আমি আর আমার
আমি আর আমার, আর একটা গোত্র ভুলে যাওয়া প্রজাপতির
পৃথিবীর মানচিত্রে ব্রহ্মাণ্ডের ঢেউ আছড়ে পড়ে, মৃত একটা শরীর ছাড়া
আর কিছুকেই আমার নিজের বলে মনে হয় না। আমি মানুষ নই,
নতুন জন্মে আমি গাছ হয়ে বাঁচবার স্বপ্ন দেখি
হে মানুষ ও মানুষে লালিত কালান্তরের পাপ
আমাকে মুক্ত করো তোমাদের ক্রোধ থেকে, সমুদয় বীভৎসতা থেকে
আমি বেঁচে আছি কিংবা বেঁচে ছিলাম
আমি বেঁচে থাকব, কিংবা হারিয়ে যাব অচিরেই
চোখ বন্ধ করে, কিছু মনে না রেখে, আমি এইসব নির্দয়তা ভুলে যেতে চাই
যেন আমার কখনো জন্মই হয়নি, মা বলে কাউকেই আমি
জানিনি কোনদিন। আমি বিষণ্ণতার গর্ভে জন্মেছিলাম
তারপর সকালের কোলাহলে জেগে উঠে দেখেছি রমনক্লান্ত স্বামী স্ত্রী
আর আধার খুঁজতে এসে বর্শীতে আটকাপড়া ক্রন্দনরত মৎসযুগল
একজন পরাজিত মানুষের বেঁকে যাওয়া মেরুদণ্ডকে তোমরা ক্ষমা করো
হে আমার প্রিয় কন্যারা, নিজের ক্রোধ-উন্মত্ত আর জরাগ্রস্ত উত্তরাধিকার করা ছাড়া
তোমাদের দেয়ার মত কিছু
নেই আমার, তোমাদের শেখাবার মত
কিছুই শিখিনি আমি, যে শিক্ষা তোমাদের সামনে অবারিত আজ
সেইসব আমার চেয়েও অক্ষম কোনো গল্পকারের নির্বোধ মিথ্যাচার
তোমরা বিশ্বাস রেখো পৃথিবীর সমান্তরাল ভালোবাসায়
আসবার সময় মায়ের কবরের ওপারে সবুজ কালিতে যে চিঠি আমি
লিখে রেখেছিলাম, তোমরা বিশ্বাস রেখো সেই সবুজে। আমার শব্দপুঞ্জে
সেই সবুজ আমি গেঁথে রেখে যাচ্ছি তোমাদের কথা ভেবে
একটা জীবন কেমন সবুজে আটকে যায়, কেমন কবিতা হয়ে যায়
আমি কেবল তোমাদের ভালবাসার দিকে নতজানু
ভোরের বাতাসে তোমরা কাশফুলের মত
দুলে উঠো, হেসে উঠো
উদ্ভাসিত থেকো পৃথিবীর গোধূলিতে, যেখানে রংধনু ঝুলতে থাকে ভালোবাসার
হে আমার প্রিয় কন্যারা, আমার অক্ষমতা তোমরা ইতোমধ্যেই জেনে গেছ
এই নিরানন্দ পৃথিবীতে আনন্দে থাকার কোনো সূত্রই আমি আয়ত্ব করতে পারিনি
তোমাদের শেখাবার মত কোনো জ্ঞান আমি অর্জন করতে পারিনি
একটা পরিত্যক্ত নৌকার গলুইয়ে বসে আমি তোমাদের বেড়ে উঠা দেখি
তোমাদেরও জন্মের অনেক আগে, তোমাদের জন্মের কোনো সম্ভাবনারও আগে
তোমাদের নামে আমি ভালোবাসাকে কৃতদাস করেছি
আর আরাধ্য করেছি এক হিজলগাছ।
তারপর
সেই কোমল হিজল গাছের পথে
হেঁটেছি নিরন্তর
প্রপিতামহ থেকে পিতামহ, পিতামহ থেকে পিতা, পিতা থেকে আমি
আমি থেকে প্রবহমান যে রক্তবীজ
তার সমস্ত দায় আমারই। আমার এই অনন্যোপায় ডানা ঝাপটানো
হে সন্ধ্যাকালীন হিজল গাছ
হে অনাবাসি আর্য চাঁদ
আমাকে লুকিয়ে রাখ তোমার আচ্ছাদিত বিহ্বল বিলাপে
আমার নগ্নতায় লুকানোর কিছু ছিল না, পৃথিবীর আচ্ছাদনের কাপড়
আমার শরীরকে কলুষিত করেছে
আমার প্রেমে জরাগ্রস্থ শীতকম্পন তুমিই জাগিয়ে দিয়েছ
হে নারী, ঈশ্বরের তীর্থযাত্রায় আমিও তোমার সঙ্গী ছিলাম
আপনারা যারা আমাকে পৃথিবীর নিয়ম টিয়ম শেখাচ্ছেন
আমি ভুলে গেছি কমলালেবু আসলে দেখতে কেমন হয়; যৎসামান্য আঁচড়ে
মূলত, এ জীবন কেবলই আমার ছিল, আমি আর আমার
আমি আর আমার, আর একটা গোত্র ভুলে যাওয়া প্রজাপতির
পৃথিবীর মানচিত্রে ব্রহ্মাণ্ডের ঢেউ আছড়ে পড়ে, মৃত একটা শরীর ছাড়া
আর কিছুকেই আমার নিজের বলে মনে হয় না। আমি মানুষ নই,
নতুন জন্মে আমি গাছ হয়ে বাঁচবার স্বপ্ন দেখি
হে মানুষ ও মানুষে লালিত কালান্তরের পাপ
আমাকে মুক্ত করো তোমাদের ক্রোধ থেকে, সমুদয় বীভৎসতা থেকে
আমি বেঁচে আছি কিংবা বেঁচে ছিলাম
আমি বেঁচে থাকব, কিংবা হারিয়ে যাব অচিরেই
চোখ বন্ধ করে, কিছু মনে না রেখে, আমি এইসব নির্দয়তা ভুলে যেতে চাই
যেন আমার কখনো জন্মই হয়নি, মা বলে কাউকেই আমি
জানিনি কোনদিন। আমি বিষণ্ণতার গর্ভে জন্মেছিলাম
তারপর সকালের কোলাহলে জেগে উঠে দেখেছি রমনক্লান্ত স্বামী স্ত্রী
আর আধার খুঁজতে এসে বর্শীতে আটকাপড়া ক্রন্দনরত মৎসযুগল
একজন পরাজিত মানুষের বেঁকে যাওয়া মেরুদণ্ডকে তোমরা ক্ষমা করো
হে আমার প্রিয় কন্যারা, নিজের ক্রোধ-উন্মত্ত আর জরাগ্রস্ত উত্তরাধিকার করা ছাড়া
কিছুই শিখিনি আমি, যে শিক্ষা তোমাদের সামনে অবারিত আজ
সেইসব আমার চেয়েও অক্ষম কোনো গল্পকারের নির্বোধ মিথ্যাচার
তোমরা বিশ্বাস রেখো পৃথিবীর সমান্তরাল ভালোবাসায়
আসবার সময় মায়ের কবরের ওপারে সবুজ কালিতে যে চিঠি আমি
লিখে রেখেছিলাম, তোমরা বিশ্বাস রেখো সেই সবুজে। আমার শব্দপুঞ্জে
সেই সবুজ আমি গেঁথে রেখে যাচ্ছি তোমাদের কথা ভেবে
একটা জীবন কেমন সবুজে আটকে যায়, কেমন কবিতা হয়ে যায়
আমি কেবল তোমাদের ভালবাসার দিকে নতজানু
উদ্ভাসিত থেকো পৃথিবীর গোধূলিতে, যেখানে রংধনু ঝুলতে থাকে ভালোবাসার
This comment has been removed by the author.
ReplyDeleteকবিতা এতোটা সুন্দর হয়!!! প্রতিটা লাইন, প্রতিটা শব্দ, .....
ReplyDeleteজীবনের সত্যকে উচ্চারণের দিব্যদৃষ্টি এ লেখাটির মহান ঐশ্বর্য।সেলাম আপনাকে সেলাম।