Saturday, September 27, 2014

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন
ডাঙায় নদী পেরুবে বলে সাঁকোর উপর
হঠাত করে থামছ কেন, নদীর বুকে জল নাই আর?
জলে এবং মলে যখন মাখামাখি, আলগোছে তুমি স্নান সেরে নাও
এবং মাখ আরবি আতর...‘মাহে ভাদর’

ও মানুষ তুমি ভাংছ কেন
ভালবাসার রুপালি চাবি তোমার হাতে
মন নিয়ে তুমি ভাবছ কেন
যাদুমন্তরে খুলে যায় যখন সোনালী বাঁক... ‘চিচিং ফাঁক’

নদীর জলে লাশ দেখে তোমার বুক ভেঙ্গে যায়?
মহত্তম মন্ত্র আর সার্বজনীন তন্ত্রগুলো মুখ ভেংচায়?
মানুষ দেখে অমন করে হাসছ কেন
উদোম শরীর ফুটপাতেও খুঁজে বেড়ায় সুখের নাগর
জীবন মানেই ধর্ম-অধর্ম সুখ দুঃখ আগর বাগর

নারীর মনের রঙ বদলালে তোমার অমন দুঃখ কেন
শিউলি মাখা সকালগুলো খুন হয়ে যায় ভর দুপুরে
কালবেলার ওই কালোখেলায় তবু তুমি পথ ভুলোনা
বরং তুমি ঘরে ফিরো সন্ধ্যে হলেই
এবং তুমি বাঁচতে শেখ যেমন তেমন যাচ্ছেতাই

পাওনি বলে হাহাকারে ডুববে কেন
মানুষ তোমার স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেল
স্বপ্ন এখন ‘অবরুদ্ধ জীবন’ বাঁচায়, অঙ্গ
এবং সঙ্গমেরই সুখ কামনায়

তবু তুমি বাঁচতে শেখ
রক্তভেজা সিক্ত পায়ে নতুন করে হাঁটতে শেখ
মানুষ তুমি হাল ছেড়োনা
অসুন্দরের যজ্ঞ দেখে হার মেনোনা

এ শহর আজ বেজান শহর
এ দেশ আজ বেজান দেশ
এ পৃথিবী আজ বেজান পৃথিবী
এ পৃথিবীর মানুষ পাথর মন পাথর নদী এবং নারী পাথর

তবু তুমি ভাঙবে কেন
বরং তুমি কোরাস ধর
নাহয় বাঁচ পাথর জীবন।

(একটা শহর, তার মানুষ পাথর, গাছ-পাতা পাথর, গরু-ঘোড়া প্রভৃতি জীবজন্তু পাথর, 
পাখি পাথর, পিঁজরায় দেওয়া জল ও চাল সকলই পাথর, সেই শহরের নাম বেজান শহর।
                ---ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য : দীনেশ্চন্দ্র সেন)


২৮.০৯.২০১৪

Monday, September 22, 2014

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ

মহামানবে বিশ্বাস নাই, এমনকি মহীয়ান মনুষ্যত্বে
অবিশ্বাসী আমি নদীর জল ছুঁতে গিয়ে
আলগোছে সরাই ভাসমান পাপ
  এবং ডুবে যাই

সুইমিংপুলের নীল জল বরাবরই নিঃসংশয়
ক্ষুদ্রকায় বিকিনিও জানে
কতটা ভিজলে ডুবে যায় আলোকিত ন্যায়

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ
তোমার নিভাঁজ ত্বকের চেয়ে গিরি ও গিরিখাদ
                          আর কর্ষিত নিন্মাঞ্চল

২২.০৯.২০১৪

সিলেট

Sunday, September 7, 2014

ইচ্ছে

ইচ্ছে আমার বোকা ভীষণ
গোয়ার এবং গন্ডমূর্খ
ভালো কিছু হয়না জেনেও
অর্থহীন লেখে পদ্য

ইচ্ছে আমার হাওয়াই জাহাজ
উড়ে এবং ডিগবাজি খায়
ইচ্ছে হলে যখন তখন
ঘরের জলে পদ্ম ফোটায়

ইচ্ছে গুলো সুবিধাবাদী
যখন তখন আপোষ করে
বাঁচবে বলে আঁকড়ে থাকে
ভীষণ রকম অনিচ্ছাটাকে

ইচ্ছে আমার ‘এবং নারী’
যখন খুশী ঘোমটা পড়াই
ইচ্ছে হলে নগ্ন করে
নিপল দিয়ে কান চুলকাই

ইচ্ছে গুলো মিথ্যে করে
মাঝে মাঝেই স্বর্গে ভাসে
ইচ্ছে আমার ইচ্ছে তোমার
কার সাধ্যি বেঁধে রাখে




যা কিছুর জন্যে আকুলতা

যা কিছুর জন্যে আকুলতা যা কিছুর জন্যে উন্মাদনা সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে অভিমান যা কিছুর জন্যে এমন ভেঙ্গে যাওয়া না যাওয়া
                                                             সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে খালপাড়ে ফেলে আসা  ব্যর্থতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে কেবলি ছুঁয়ে দেখার ব্যাকুলতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে উন্মাদ জোছনা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ফোটা জুঁই ফুল
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ছুঁতে পারা ছেড়া হাফ প্যান্ট
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে অনন্তের দড়িতে ঝুলে থাকা রংধনু শাড়ী

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না লেখা কবিতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে পুরোনো ডায়েরী ঘেঁটে
খুঁজে পাওয়া একরাশ শূন্যতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে ঘাসফড়িঙ এর অর্থহীন ওড়াওড়ি
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে তুমি ও আমি, স্বপ্নের ওপারে বাড়ী

না পাওয়াই যদি বেঁচে থাকা হয় তবে, রূপসী
তোমার দিকে তাকিয়ে থেকেই কাটুক না হয় অরূপ এ জীবন।


Wednesday, August 13, 2014

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে আবর্জনারা বড় হচ্ছে, বাড়ছে কাক ও কাকতাড়ুয়া

এ শহরে মানুষেরা সব নির্বীর্য ও নিশ্চল
গো এবং গর্ধভেরাই কেবল প্রাঞ্জল
এ শহরে তরুণেরা ক্ষীণদৃষ্টি নির্বীষ
তন্দ্রালু ঘোর আর পলায়ন স্বপ্নে বিভোর
স্ত্রীরা সব ক্লান্ত নারীরা স্তন ও নিতম্ব স্বর্বস্ব, তরুণীরা প্রেমহীন
এ শহরে নদীতে মাছ নাই
মানুষের লাশ হয়ে যায় ‘খুঁজে পাওয়া আরাধ্য’ মীন

এ শহরে রাত বাড়লেই বুদ্ধিজিবীতার নামে হিপোক্রাসি আর হিপোক্রাটদের
মিছিল শুরু হয়, যেন এইমাত্র নেমে আসা দেবদূত
কখনো শোনেনি ফিটনেস ছাড়া লঞ্চ আর গাড়ি কিকরে বের হয়

এ শহরে মিছিলে আর দেখা যায় না বজ্রমুষ্ঠি
এ শহরে আর ফোটে না কৃষ্ণচূড়া
এ শহরে কেউ নাইতে নামে না অমল ধবল বৃষ্টিতে
এ শহরে কেউ পুরস্কৃত হয় না মৌলিক কোনো সৃষ্টিতে
এ শহরে চুম্বনে আর কাঁপে না কারো ঠোঁট
এ শহরে ভোটের নামে হয় সবজি আর মাংসের জোট

এ শহরে আমিও ভন্ড, আবেগের জালিয়াত
আমার নামেও ব্যাংক ব্যালান্স বাড়ী গাড়ি ও নারীর সহবত
যদিও আমি দারিদ্র বিমোচনের মূল কর্তা
নুউঅর্ক আর জোবরা গ্রাম মিলিয়ে বানাই ভর্তা
যদিও আমি পরিবেশবাদী, ১০০ বছর পরের পৃথিবীর জন্য কাঁদি
আমার ভীষণ দূরদৃষ্টি, কাছাকাছি কিছুই দেখিনা ভাই
কোন গ্রামে জন্মেছি আমি? আমাদের আপাতঃ সংকট বলে কিছু নাই

এ শহরে প্রতিদিন আমিও খুনী
অভুক্ত শ্রমিকের ঘামে ভেজা শার্ট চড়া দামে আমিও কিনি
আমিও বাঁচি একেকটি দিন পরের দিনের আশায়
আমার মেয়ের কোমল গালের স্পর্শ আমায় বাঁচায়

এ শহরে তুমিও আছ, হৃদয় নিয়ে ভীত
এ শহরে গান হয় না আর, তোমার জন্যে গীত

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে তবুও থাকি, তোমার জন্য অপ্সরা

১৪.০৮.২০১৪

ঢাকা

Tuesday, August 12, 2014

আমি আসলে কতটা আমার

নির্ঘুম চন্দ্রগ্রস্ত মাঝরাত হঠাত করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়
        ‘তুমি আসলে কতটা তোমার’?
নিজেকে নিজের কবিতার নায়ক ভেবে বিছানা ছেড়ে
মেঝেতে পা রাখতে গিয়ে দেখি, প্রতিদিনের নিকানো পুঁছানো
আমার মেঝেও দখল করে নিয়েছে অজাচারী কিছু তেলাপোকা।

তেলাপোকার গা বাঁচিয়ে চলার পথ খুঁজতে খুঁজতে বুঝি
স্যান্ডেলবিহীন আমার দুই পা মহাশূন্যের অদৃশ্য দড়িতে ঝুলছে মধ্যাকর্ষণহীন

১০.০৮.২০১৪
রাত ২.৩০


Friday, August 1, 2014

অন্ধজীবন

আমি কোনো কিছুই ঠিক মত বেছে নিতে পারি না
শার্ট কিনতে গেলে রঙ নিয়ে বিপাকে পড়ি
রঙ পছন্দ হলে স্টাইল, তাও ঠিক হলে দাম

ছেলেবেলায় শাক কিনতে গিয়ে একবার
আলু শাক কিনে এনেছিলাম, কত জনই তো নিচ্ছে ভেবে
আহা কি লাঞ্ছনা!!
আমার কি আর তখন জানা ছিল
কারো কারো গোয়াল ঘরও থাকে
দোহনযোগ্য ওলান থাকে খুনসুটি থাকে

আমার কেবল নিকানো উঠোন, নিপাট দহন

৩১.০৭.২০১৪