Wednesday, August 29, 2018

কেবল আমি হইলাম না


আজকে ঠিকঠাক ভোর হইল, কেবল আমি হইলাম না

একটা সরল সোজাসাপটা রোদ আমাকে পার হইয়া আমার চেয়ার দখলে লইল। পাশের টেলিভিশন চ্যানেলের মালিকের বাড়ির লনে কুত্তাগুলা আগের তুলনায় বেশি ঘেউ ঘেউ করিল। পৃথিবী তার খোলস পাল্টানোর আশায় এক দঙ্গল দেবশিশু রাস্তায় নামিয়ে হোলিখেলার আয়োজন করল। বলাই বাহুল্য রক্তের রঙ লাল, তাকে সবুজে পরিণত করার চেষ্টার পরিনতি অন্ধকার।
আমি অন্ধকার হাতড়ে একটা হিজল গাছের তলায় মানুষের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু  কীট, মানুষ, পতঙ্গ, পাখি কিংবা পশু কাউকেই আলাদা করতে পারি না, এমনকি তারাও আমাকে একইরকম অবহেলায় ফেলে যাচ্ছে।
একটা মোহময়ী হিজল গাছের মোহে আমি আটকা পড়ে আছি আধো অন্ধকারে

প্রতিদিন ঠিকঠাক ভোর হয়। কেবল আমি হই না
পৃথিবীর নির্লজ্জ পাটাতনে আমারই মাথা কেবল কেবল হেঁট হয়ে থাকে

ও জল, আমার শুশ্রূষা চাই

২৯.০৮.২০১৮

Sunday, August 19, 2018

বাসতে বাসতে বাসি করে ফেলি


তোমাকেই বাসি। বাসতে বাসতে বাসি করে ফেলি। তবু তোমাকেই বাসি। তোমাতেই যাই, যাইতে যাইতে আর কোথাও যাওয়ার নাই। তবু তোমাতেই যাই। তোমাকেই খাই, খাইতে খাইতে কিছু বাকি রাখি নাই, তবু তোমাকেই চাই। চাইতে চাইতে, অকস্মাৎ পথের ঘাসফুল বনে যাই, পদচুম্বনে গলে যদিওবা যাই তবু তোমাকে পাই, বারে বারে পাই, মনে ভয় নাজানি হারাই।

শুধু তোমাতেই বাসি, বাসতে বাসতে বাসি করে ফেলি

১২.০৮.২০১৮

সর্বশান্ত কবিতা

কী যে কথা ছিল কিছুই মনে পড়েনা
কিংবা কিছুই ছিল না কথা, ভোর
তার নিয়মেই ভোর। হঠাৎ কী যেন
কী যেন দুলতে থাকলে মনে
লিখে রাখি সর্বশান্ত কবিতাদের তোর।

তবে কী হয়? সারে কি জীবনের ক্ষত?
একলা হাওয়ায় উড়ে নির্বাক রঙধনু যত
গড়াতে গড়াতে জড়িয়ে গেলে
তাড়াতে তাড়াতে ছাড়াতে হয়
চলতে চলতে ছিটকে পড়া, এইসব অপার বিস্ময়!

দৃশ্যরা হেঁটে যায়, মানুষেরা স্থির
জীবন কাটিয়া যায়, জীবন অধীর

১৬.০৮.১৮


Wednesday, July 25, 2018

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি


অনেকদিন পর সেদিন বিকেলে বৃষ্টি এল
অনেকদিন পর সেদিন শুক্রবার বিকেলে
দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বৃষ্টি এল।
হৃৎপিণ্ড লাফাতে লাফাতে কণ্ঠনালি ঠেলে বের
হওয়ার আগে তাকে কোনোমতে ঠেকানো গেল
তারপর স্মৃতিরা ভিজলো। শূন্যতার কালিতে
লেখা একটা সাদা চিঠি নৌকা হয়ে ভাসলো

হারানো কতগুলো বছর, একটা শৈশব
আর কতগুলো শরৎকাল ভিজলো
স্কুলপথে দাঁড়িয়ে থাকা জামগাছটা ভিজলো
কার্নিশে লুকানো একটা বোকা কাক ভিজলো

ভিজতে ভিজতে ভাসতে ভাসতে
প্রায় দাঁড়িয়ে যাওয়া একটা জীবন ধ্বসে গেল জলে
রুপালি মাছেরা তখনো স্বপ্ন দেখে, কানাকানি করে
জলের অতলে

২৬.০৭.২০১৮

Saturday, July 14, 2018

একটি কবিতার ধ্বংসাবশেষ


আমি যেখানে রোজ হাঁটি, তার পাশেই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে হাঁটে একটা পৃথিবীও
আমি তার পোড়া গন্ধ নিতে নিতে হাঁটি, অবশেষগুলো উল্টে পাল্টে দেখি।
দেখি একজন যৌন(জন শব্দটি আমার কেবল যৌন যৌন মনে হয়)প্রিয় কবির সতেজ হাড়কে আখ ভেবে চর্বন শেষে চুষছেন একজন রাজনীতিকপাশে দাঁড়িয়ে নমিতমস্তক কবি উদ্গীরণ করছেন ততোধিক রসদেখি একজন জন(জন শব্দটি আমার কেবল যৌন যৌন মনে হয়)প্রিয় নায়িকার অবশেষ হিশেবে বেঁচে আছে কেবল তাঁর সিলিকন স্তনবাকি প্রত্যঙ্গগুলো থেকেও সংরক্ষণ রস নিঃসৃত হয় বিধায় আমার সেদিকে যেতে প্রবৃত্তি হয় না।
প্রিয়(প্রিয় বললে আমার কেবল জনপ্রিয় মনে হয়) লেখক বন্ধুর চারপাশে মৌ মৌ করে বডি স্প্রে’র গন্ধ যদিও শব্দ আর অক্ষর পচে বের হচ্ছে পুঁজ। আমার প্রিয়((প্রিয় বললে আমার কেবল জনপ্রিয় মনে হয়) বন্ধুর স্ত্রীর জীবন যাপন সংক্রান্ত হা-হুতাশে তরতাজা লাফানো মাছগুলো কেমন বোবা চোখে তাকিয়ে থাকে। জনৈক বুদ্ধি বিক্রেতার উৎফুল্ল মগজে মুকুটের মত লেপ্টে আছে কোলাহলপ্রিয় কাকের বিষ্ঠা। বলাই বাহুল্য মগজের হাটে ফেসবুক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে তাবৎ মেধাবীদের মগজ।
সভ্যতা নামক যে অ্যাম্ফিথিয়েটারে দিনরাত প্রদর্শিত হচ্ছে নাটক, সে নাটকের আমিও একজন কুশীলব। সুতরাং ডিরেক্টরের নির্দেশনা ব্যতীত আমিও চিন্তারহিত। শুধু আমার একান্ত ব্যক্তিগত হাঁটার সময়গুলোতে আমার অলস মগজে পায়চারি করে কিছু কবিতার ধ্বংসাবশেষ, যখন দেখি সভ্যতার আলোকোজ্জ্বল চাতালে অবলীলায় পেচ্ছাব করে যায় আন্দামানের এক জারাওয়া নারী

আর ‘অসভ্য’ ‘অসভ্য’ বলে চিৎকার করতে থাকে।

১৪.০৭.২০১৪


Saturday, July 7, 2018

আম পোকার সৃষ্টি রহস্য


একটা ঠিকঠাক শক্তসামর্থ কাঁচা আমরে সোফার নিচে বিছাইয়া রাখছিলাম পাকার জন্য। আগেই বইলা রাখি কোথাও কোনো খুঁত ছিল না আমটার। তো কয়দিন পরে আম খাইতে গিয়া এর ভিতর থাইক্কা পোকা বের হইল। আমি অবাক, যদিও অবাক হওয়ার ক্ষমতা আমার নাই বইলা মনে করছিলাম। একদিন বেবিট্যাক্সিতে তাজমহল রোড পার হইতে হইতে আমার অবাক হওয়ার ক্ষমতা, বিশ্বাস করার ক্ষমতা শেষ হইয়া গেছিল। এমনই ভাবতেছিলাম এতদিন। আজকে অবাক হইয়া সেই বিশ্বাসও ভাইঙ্গা গেছিল প্রায়।
যাই হউক, এইরকম একটা অক্ষতযোনি আম থাইকা পোকা পাইয়া আমি মনে মনে ইউরেকা ইউরেকা বইলা চিল্লাইয়া উঠলাম। ভাবলাম আমি বুঝি প্রানিকূলের সৃষ্টিরহস্য উদ্ধার কইরা ফেলছি। সেইকরম জম্পেশ একটা পোস্ট দিমু ভাবতেছিলাম ফেইসবুকে। সেইমত গুগল করতে গিয়া আমি পুরাই হতাশ।
বলে কিনা মুকুল হওয়ার কালেই আমে পোকার বীজ ঢুইকা পরে। কেন যে জানতে গেলাম!!

না জাইন্না আমি তো ঈশ্বর হইয়া যাইতেছিলাম প্রায়

০৩.০৭.২০১৮


Saturday, June 9, 2018

রাত বাড়লেই অচেনা হয়ে যায় হলুদ সন্ধ্যা


আমাদের চিনে বাদামের বিকেলগুলো আনমনে জড়িয়ে রাখত
সন্ধ্যার শরীর। সন্ধ্যাগুলো লেপ্টে থাকত সবুজ ঘাসে

সন্ধ্যা এমন গুরুত্বপূর্ণ ছিল
আমাদের শৈশবের হলুদাভ বসবাসে

যদিও সন্ধ্যা মানে চাপকলের শব্দ, মুখস্তের কলকল
তবু সন্ধ্যা মানে তোমাকে ছুঁয়ে দেখার ছল
সন্ধ্যা মানে কবিতায় হাঁটাহাঁটি, জোছনায় ডুবাডুবি
শিশিরের জল। সন্ধ্যা মানেই চাঁদের দেশে তুমি অবিকল

তোমার এসবের কিছুই মনে নেই, শুনেছি
তুমি এখন ভীষণ প্রেমময়, মৃত্যুর সমান বয়সী জীবন নিয়ে
কারো সংগোপন আশ্রয়। তুমি ঠিকই জানতে
এইসব শিশিরের শব্দ জোছনা সাঁতার অর্থহীন, বন্ধ্যা

রাত বাড়লেই অচেনা হয়ে যায় হলুদ সন্ধ্যা

১০.০৬.২০১৮