Thursday, September 3, 2020

বসে আছি মোহন মৃত্তিকায়

আমাকে সহজেই ছুড়ে ফেলে দিতে পার, অন্ধকারে ঢেকে দিতে পার
আমি তোমাদের সাথে হাঁটিনি, তোমাদের মত করে ভাবিনি
আমার শব্দেরা আনন্দিত হয়নি তোমাদের উৎসবে, কাতর হয়নি
তোমাদের শোকে। আমি নিরব থেকেছি তোমাদের দ্রোহে
 
আমি অপরাধী দেখে কেঁদেছি, দেবতা দেখে হেসেছি
পার হয়ে গিয়ে মানবস্তম্ভ, আমি ফিরেও দেখিনি আর
তোমাদের গল্পে আমার বিশ্বাস জাগেনি, তোমাদের স্বপ্নে
আমার তন্দ্রালু চোখে নেমেছে গভীর ঘুম
 
তোমাদের উত্থানসহজ মন্ত্র আমাকে টানেনি, আমি হেঁটেছি হাতলবিহীন সিঁড়িতে
তোমাকে ফেলে রেখে আমি ছুঁয়ে দিয়েছি উদ্বেল নদী
তোমার মুক্তবর্ণ স্তনে আমি গেঁথে দিয়েছি ক্রোধোন্মত্ত কামনার দাঁত
 
জল জোছনা, আমাকে ভিজিয়ে দেয় মানুষেরই অক্ষমতার শ্লোক
 
আমাকে একা ফেলে রেখে হেঁটে চলে যায় একটা দীর্ঘ জনপদ
আমি প্রায়শ্চিত্তহীন, হাঁটুগেড়ে বসে আছি মোহন মৃত্তিকায়
 

ৎ(বু) জীবন

কোথাও যেতে হবে, কিন্তু সকালে ঘুম ভেঙে
কিছুতেই মনে পড়ছে না কোথায় যাওয়ার কথা ছিল
আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নাই
 
আমার শহর নাই, আমার গ্রামও নাই
আমার গ্রামে আমি ভাড়াটিয়া ছিলাম, কারণ
আমার পূর্বপুরুষ অন্য গ্রাম থেকে এসেছিল। এই শহরেও তাই
 
আমার জীবনেও আমি ভাড়াটিয়া, আমার জীবন নাই
আমি অন্য জীবন বয়ে বেড়াচ্ছি
 
আমি যে মিছিলে হেঁটেছিলাম, সেটাও আমার ছিল না
আমি যে আঁধারে লুকিয়ে ছিলাম, সে আঁধার ছিল অন্যের ছায়া
আলোতে আমি পথ ভুলে যাচ্ছি, আলো আমাকে অন্ধ করে দিয়েছে
 
আমি কার হাত ধরে বসেছিলাম ওই অচেনা নদীর পাড়ে?
সে নদী আমার ছিল না। সে হাতও অন্যের ছিল


Friday, August 28, 2020

নিরাপত্তা

অগত্যা আশ্চর্য আলোকময় রাতে
আমাদের ফুচকাবিক্রেতার অন্তর্ধান আমাদের বিস্মিত করে
 
যদিও আমরা এখন আর ঘরের খিল লাগানো নিয়ে মোটেই চিন্তিত নই
আমাদেরকে পর্যবেক্ষণের জন্য আমরা নিয়োগ করেছি স্বয়ং ধ্রুবতারা
 
একটা ঝড় ছুটে আসছে শহরের দিকে
নাকি শহর নিজেই যাচ্ছে ঝড়ের দিকে
এই সত্য বুঝতে আমি বৃষ্টির জলে মা কাছিমের সাঁতার পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি
 
২৩.০৮.২০২০ 

কুমড়ো ফুল

কাল মাঝরাত করে ঘুমুতে গেলেও
আমি স্পষ্ট খেয়াল করেছি, সদর দরজা বন্ধই ছিল,
আমার স্ত্রী কখনো সদর দরোজা আটকাতে ভুল করেন না
 
খুব ভোরে কিছু শব্দ এসে ডেকে তুললে
আমি হাওয়ার বিহ্বলতায় মজে যাই, এঘর থেকে ওঘরে হাঁটি
হঠাতই একটা গাঢ় হলুদ কুমড়ো ফুল এসে
অনায়াসে সদর দরজা ঠেলে ঢুকে পড়ে

আমি কুমড়োর হলুদে আরও বিহ্বল হই
কুমড়োর হলুদে স্মৃতিকে অবিশ্বাস করতে শুরু করি
কুমড়োর হলুদে স্মৃতিকে নির্মাণ করতে শুরু করি
 
একটা গাঢ় হলুদ কুমড়ো ফুল
একটা গাঢ় হলুদ কবিতার মত ঝুলে থাকে আমার সদর দরজায় 

Monday, August 10, 2020

কার্ল মার্ক্স

কার্ল মার্ক্স এর জীবনী শেষ করে বই হাতেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দেখলাম একটা নারীর সাথে কি নিয়ে যেন আলাপ হচ্ছে আমার। তারপর আলাপ চলতে চলতে হাঁটতে হাঁটতে লোকজন পেরিয়ে আমরা এমন একটা আড়ালে পৌঁছে গেছি যেখানে বাইরের মানুষ আমাদের দেখতে পাবে না। এক ধরণের লুকিয়ে পড়ার মত জায়গা মনে হতে পারে। তবু আমাদের আলাপ চলছিল। একসময় আমরা দুজনেই নিরব হয়ে যাই। দুজনেই আলাদাভাবে নিরব। আলাদাভাবে বিহ্বল। কিছু সময় পার হওয়ার পর আমাদের মনে হল আরে আমরা এমন লুকোনো জায়গায় কেন ঢুকে পড়লাম, চলেন বেরিয়ে যাই, কে কী ভাবে আবার! অগত্যা আমাদের বিহ্বলতা চাপা রেখে আমরা বেরিয়ে এলাম।

আমি সাধারণত গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে গেলে ওই কাহিনীরই দৃশ্যায়নে ঢুকে পড়ি। কিন্তু এই ঝকঝকে দৃশ্যায়নের অর্থ আমার কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না…

Tuesday, July 28, 2020

আহ মেঘমালা


তোমার শরীর জুড়ে দীর্ঘ চুম্বন
মেঘমালা, আহ মেঘমালা
ভিজে যাচ্ছে ঠোঁট ও সকল আলস্যেরা
তোমার জীবাশ্মে দৌড়ায় অশ্ব, খুরের দাপট
আহ নারী, নারী তুমি ক্লেদ

সারারাত ধরে অবিরাম বৃষ্টির গূঢ়তর বিলাপ আমি বুঝতে ব্যর্থ হয়েছি
তোমাকে ভালোবাসা ছাড়া আর কোনো প্রাপ্তি নাই আমার
এই অসার সফলতায় তুমি বৃষ্টির নৃত্য দেখতে দেখতে
কেমন নির্ভার হাস। তোমার হাসির বিহবলতায়
আগামী জন্মের জন্য কেটে রাখা টিকেট আমি বুক পকেট
পাশ পকেট আর পিছন পকেট হাতড়েও খুঁজে পাই না

আরও সব অনিবার্য ব্যর্থতায় আমার চামড়া কুঁচকে যায়
আমার হাত মুখ পা আমার নিতম্ব
আমার নিজেরই সর্বস্ব সেঁধিয়ে যেতে থাকে আমারই অন্তর্গত শূন্যতায়


২১.০৭.২০২০

Monday, June 22, 2020

স্নানঘরে কবিতার শেল্ফ


তোমাকে এক খাবলা পেয়ে গেলে, ধর তোমার স্নানঘরে
খাবলাখাবলি আবার স্বভাব না হয়ে যায়!
তখন কবিতা নিয়ে তুমি শঙ্কায় পড়ে যাবে, তখন
তোমার বুকশেল্ফের কবিতাগুলো ডাকাতের মত
হামলে পড়লে, তুমি ভয় পেয়ে যাবে নাতো

তোমার আব্দারে আকাশ যদি সত্যি বিছিয়ে যায় স্নানঘরে
আর কাচে ঘেরা শেল্ফেও যদি রাখো কবিতা বন্দি করে
দেখো, জয় গোস্বামীরও সঙ্কোচ যাবে ভেঙে
সমস্ত যৌবন ধরে থাকা ব্যধিঘোর কেটে যাবে তাঁরও।

শব্দেরা হালুম হুলুম ভাঙবে কাচ, ওষ্ঠে ছড়াবে সুধা
বিহ্বল তোমার অন্তর্বাস ছিঁড়েখুঁড়ে বীরবর হয়ে গেলে যুক্তবর্ণ,
তোমার গোপন গভীর হ্রদতট ভাসবে জোয়ারে। বল তো…
তখন কবিতার কোন লাইন তোমার মনে পড়বে?

তোমার রক্তরেণুতে গেঁথে গিয়ে কবিতার বীজ, তুমি
সন্তানসম্ভবা হলে কবির ভ্রূণে লেখা হয় নতুন কবিতা

প্রেম দূরে সরে থাকে, প্রেম একা হাঁটে
শব্দেরা ছুঁয়ে থাকে, শব্দেরা কাঁদে…তোমার স্নানঘরে, তোমার বুকভরে-
কবিতার শেল্ফ।

১৭.০৬.২০২০