Thursday, December 26, 2013

অপেক্ষা

তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি লন্ড্রিতে কাপড় দিতে গেছি, কাপড় এনেছি
গোছল করেছি, খেয়েছি, হাঁটতে গেছি, এটিএম থেকে টাকা তুলেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি লাফিয়ে বাসে উঠেছি, বাস থেকে নেমেছি
অফিসে গেছি, অফিস করেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি বাজারে গেছি, দরাদরি করে মাছ কিনেছি
ফোনে কথা বলেছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়েছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আমি কবিতা লিখেছি, টিভি দেখেছি
ঘুমিয়েছি, ঘুম থেকে জেগেছি
তোমার জন্যে অপেক্ষার ফাঁকে ফাঁকে
আমি
যাপন করেছি
একটা দীর্ঘ জীবন।


২৬.১২.২০১৩ 

Monday, December 23, 2013

শামুক

দাউ দাউ করে জ্বলে আগুন বাসে
তবু আমার ভেতরে জ্বলে না আগুন কোনো
আমি ঘোর অন্ধকারে ঘাপটি মেরে বসে থাকি
আমাকে জাগায় না কোনো লেলিহান শিখা
আমাকে জাগায় না কোনো ঝলসানো মুখ
আমাকে জাগায় না এমনকি
        বাংলাদেশের পুড়ে যাওয়া বুক।

যেন আমি নিজেই পুড়ে অঙ্গার
যেন আমার বোধের কড়ায় তালা মেরে
কোনো পাষণ্ড হয়েছে পগারপার

এমন কোনো মিছিল নেই যেখানে আমি গিয়ে স্লোগান ধরতে পারি
এমন কোন সমাবেশ নেই যেখানে আমি গিয়ে বক্তৃতা দিতে পারি
এমন কোন রাজনীতি নেই যেখানে গিয়ে আমি নীতিবোধ জাগাতে পারি

আমি জানি এখানে নীতির নামেই হয় সবচেয়ে বেশী নীতিহীনতা
আমি জানি এখানে ধর্মের নামেই হয় সবচেয়ে বেশী বর্বরতা
আমি জানি এখানে শিক্ষার নামে আশিক্ষাই দাপিয়ে বেড়ায় সর্বত্র

আমার স্বপ্নরা এখন আর জেগে উঠে না মাঝরাতে
বিপ্লব নামে যে শব্দ আমি শিখেছিলাম ছোটবেলায়
সেটি প্লাবিত হয়ে গেছে, প্লাবন শেষ হলে সেখানে জমেছে আবর্জনা।

আবর্জনা গায়ে না মেখে অথবা মেখেও কিছু মানুষ
এখনো তোলপাড় তোলে
মিছিলে যায়, ফেস বুকে স্ট্যাটাস দেয়
আবর্জনা গায়ে না মেখে অথবা মেখেও কিছু মানুষ এখনো
গান গায়, কবিতা লেখে জেগে উঠবার  
এখনো কলাম লেখে পত্রিকায়
গভীর রাতে টক শোতে তোলে ঝড়, পেছনে ফেলে কামনা তাড়িত ঘর।


যদিও জানি সবই আত্ব-তন্ত্রের ফেউ
তবু
আমার মত শামুক তো হয়ে যায়নি কেউ!!



১২.১০.২০১৩

রক্তচাপ যখন কমছে না কিছুতেই

আমার জীবন
বড় বেশী আত্বহত্যা প্রবণ।
সত্যি যখন
সামনে এসে দাঁড়ায় মরণ,
আমি কাঁপি ভীষণ
কেউ কি নেই
আমায় বাঁচায় এখন


২৩.১২.২০১৩ 

Tuesday, December 17, 2013

চন্দ্রনিবাস

০০:০০০০০০১ থেকে ০০:০২ এ পৌঁছাতে কতটা সময় লাগে
নিযুতাংশের হিসাব এখনও রাখেনা ঘড়ি
ভালবাসা রাখে
আমি মিছেই হাপিত্যেশ করি।

অযুত নিযুত কাল ধরে জ্যোছনার দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি
              হাসপাতালের বিছানায় শুয়েও পূর্নিমার চাঁদ
              নিযুতাংশের হিসাব করে করে
                                           কাটায় রাত।
       
আদি থেকে অন্ত, কালপুরুষই তোমার যোগতারা
আমার জন্যে বরাদ্দ কেবল অকারণ আশকারা।

১৭.১২.২০১৩

Friday, December 6, 2013

লুকোচুরি

কেউ না জানুক
এ টি এম বুথের সিসি ক্যামেরা জানে
টাকার কথা ভুলে গিয়ে আমি
হঠাৎ করেই জাপটে ধরেছিলাম কবিতাকে

Wednesday, December 4, 2013

অন্ধকার

ইদানিং আমি অন্ধকার নিয়ে ভাবছি
অন্ধকার কি সত্যি অন্ধকার
কিংবা কতটা অন্ধকার আছে অন্ধকারের ভেতর
একদিন মাঝরাতে বখে যাওয়া আলোতে চোখ যখন প্রায়
অন্ধ হতে বসেছিল
তখন খুব অন্ধকার কামনা করেছিলাম আমি
সেই থেকে অন্ধকার প্রায়ই আমার সাথে
গলাগলি করে শোয়। আমি অন্ধকারের স্তনের মধ্যে
নাক ডুবিয়ে গন্ধ নিতে নিতে বুঝতে চেষ্টা করি
কতটা অন্ধকার হলে মুখোমুখি বসেন
                                বনলতা সেন।

যতবার আমি খুব কাছ থকে আলো দেখতে চেয়েছি
হউক সে শীতের খড়কূটোর আলো কিংবা শাহবাগের ঝলমলে রাত
পুড়ে গেছে আমার হাত, পুড়ে গেছে মাঝরাত।
যতবার আমি তোমাকে ছুঁতে চেয়েছি আলোয়
আমাকে স্তব্ধ করে অন্ধকারে ডুবিয়েছে অন্য কোনো নখের দাগ।
যতবার আমি আলোকিত ঘরে আলোকিত মানুষের খোঁজে
কড়া নাড়তে গেছি, আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছে মেঘ কালো অন্ধকার।

আজকাল আলো আরও বেশী ভয়ানক, ছুটে যায় উড়ে যায়
পুড়ে যায় বাস, উদ্যান
পুড়ে যায় ভোর সোনালী বিকেল
পুড়ে যায় মুখ পুড়ে যায় মানুষ
পুড়ে যেতে যেতে ঝলসে যেতে যেতে
নিভে যেতে থাকে প্রিয়তম বাংলাদেশ।

অক্লান্ত আলোতে ডুবে যেতে যেতে লীন হতে হতে
আমি ভাসি অসীম শূন্যতায়
ভাসি নিঃসঙ্গতায়।
আমাকে হাত বাড়িয়ে টেনে নেয় অন্ধকার
আমি অন্ধকারের ভেতর ‘অনন্ত মৃত্যুর’ মত মিশে যেতে থাকি।

০৪.১২.২০১৩


Friday, November 22, 2013

সুখ

কবে তুমি সুখি ছিলে সবচেয়ে বেশী
আমি বলি আজ
আজ তোমার পাঠানো বাতাসেরা ঘিরে ছিলো আমাকে
তোমার পাঠানো সুখগুলো আজ স্পর্শ করে ছিল 
আমাকে সারাক্ষণ
আমার কবিতাগুলো আজ ভাসিয়ে দিয়েছিলাম তোমার দিকে
আমাদের গানগুলো আজ ভাসছিল
আমার কানে          তোমার কানে


কবে তুমি দুখি ছিলে সবচেয়ে বেশী
আমি বলি আজ

কাল তুমি চলে যাবে আমাকে ছেড়ে

২২.১০.২০১৩

এইভাবে বাঁচা

এইভাবে যে বাঁচে তারও বাঁচার অধিকার থাকে
বেঁচে থাকা যে সব সময় বেঁচে থাকার মতই হবে
তারও মানে নেই কোনো।
বেঁচে থাকা মানে যেমন তেমন-
চলন্ত বাসের হাতল ধরে ঝুলে থাকাও হতে পারে
হতে পারে মার্সিডিস বেঞ্জ এ চড়ে লং ড্রাইভ
হতে পারে ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’ জাতীয় এলাকা
নাক চেপে পাড় হওয়া।

তবু বাঁচে, যে যার মত বাঁচে
বেঁচে থাকাটাই সার
বেঁচে থাকার জন্যে তোলপাড়

বার বছর বয়সে ট্যাকপাড়া থেকে র‍্যাশনের চাল আনতে গিয়ে
আধা মনের যে মুট তুলে নিতে হয়েছিল মাথায়
হউক সে কুলি না পাওয়া বা আমার বুদ্ধিহীনতা
আসল ব্যাপার এই যে আধা মনের সেই মুট আমি
কিছুতেই বইতে পারছিলাম না
আমার মাথা নুয়ে পড়ছিল ঘাড় বেঁকে যাচ্ছিল
তবু মাথা থেকে নামিয়ে বিকল্প কিছু ভাবতেই পারিনি

চল্লিশ বছর এমন কিছু নয়
এমন নয় যে পিঠ বেঁকে যাবে, আড়ষ্ট হয়ে যাবে ঠোঁট
এমন নয় যে চলতে চলতে এখনই ক্লান্ত হয়ে যাবে পা
এমন তো নয়ই যে জিরোতে বসে
আর কিছুতেই উঠতে ইচ্ছে করবে না জীবনের
এমনও নয় যে নাক চেপে পাড় হতে হয়
মার্সিডিস এ না হলেও
এমন নয় যে বাসের হাতল ধরে ঝুলে আছি

তবু মাঝে মাঝে কি ভীষণ ভারী কিছু চেপে বসে
যেন বার বছর বয়সের সেই মুট এখনও বয়ে বেড়াচ্ছি আমি
আমার মাথা নুয়ে পড়েছে, ঘাড়ের রগ ফুলে উঠেছে
পিঠ বেঁকে যাচ্ছে।



Wednesday, November 20, 2013

তুমিহীন

তোমার জন্যে কিছুই রাখিনি সাজিয়ে
না ঘর না অপেক্ষমান সময়।
তোমার জন্যে কিছুই করিনি জমা
কেবলি হতাশা ভরাট শূন্যতায়
তোমাকে একলা রেখে দেখো
কি নিদারুণ ভাসি পূর্ণতায়।
তবু তুমি যখন হাস
অন্য কারো হাত ধরে
পূর্নিমায় ভাস
আমার আকাশ ফুটো হয়ে অবিরল
                          ঝড়ে জল।

বিরহ

কতবার ভেবেছি
আর কখনো প্রেমে পড়ব না নারীর
তবু, অহেতুক রাত জেগে বসে থাকি
মাঝরাতে অশীতিপর চাঁদের বুড়ি চড়কা
কাটে আমার ঘরে, আমার ঘুম আসে না।
কলঘরে জমানো জল ছাড়া আর

কিছুই জেগে থাকে না আমাকে ছুঁয়ে দেয়ার জন্য।

১৮.১১.২০১৩

বিচ্ছেদ

তোমার গাড়ী ছেড়ে দিচ্ছে
আমার দৃষ্টি ওই দূরে-
        দীঘল বাঁক গ্রামে নিবদ্ধ
মন নিশ্চুপ। যেনো বোধহীন
ভালবাসা তুমি চলে যাচ্ছ

তোমার জন্যে দীঘল বাঁক ঝাঁপসা হয়ে যাচ্ছে।

১৮.১১.২০১৩

Saturday, November 9, 2013

আহ্ জীবন

(খুব ভোরে অফিসের জন্যে ঘুম থেকে উঠার আগেই সহকর্মী, ছোটভাই তুল্য সোলায়মানের ফোনে জানলাম আজ অফিস যেতে হবে না, শাট-ডাউন ঠিকঠাক মত হওয়ায় আজ রেষ্ট, যদিও ঈদ শেষে আজই আমার জয়েন করার কথা)

আজ ভোর না হতেই সোলায়মানের পিঁপড়েরা কানে কানে বলল
                আজ ছুটির দিন
আজ ছুটির দিন                  আজ ছুটির দিন
আজকে আমি কি দিব্যি পাখির কথা বুঝতে পারছি
কি দিব্যি পিঁপড়ের  কথা বুঝতে পেরে সময় পিছিয়ে দিলাম

আজকে আমি ঘুমাব অনেক বেলা
আজকে আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনব
যেন হেলাফেলা
আজকে আমি বালিশে হেলান দিয়ে থাকব শুয়ে
যদিও জানি ঘাড়ে ব্যাথা হয়ে যাবে
                                        হউক
আজকে আমি উঠব জেগে দুপুর হয়ে।

বিবিয়ানা তোমার সঙ্গে আজ আর নেই লেনাদেনা
তুমি যতই আজ কুশিয়ারায় পা ডুবিয়ে আড় চোখে তাকাও
টুপ করে ডুব দিয়ে
ভেজা কাপড়ে যতই দোলাও নিতম্ব
আমি কিছুতেই আজ তুমি মুখী হবোনা।

আজ আমি ঘুমুব কিংবা ঘুমুব ও না
তোমাকে পাওয়ার জন্যে তন্দ্রায় মল্ল যুদ্ধে নামব
জন আব্রাহামের সঙ্গে
অথবা পাওলো রসি’র সঙ্গে খেলবো ফুটবল ।

আজ আমি কেবলি বিভোর হব স্বপ্নে
অথবা স্বপ্নও দেখবো না, তন্দ্রায় ছুঁয়ে থাকব তোমাকে-
আদি ও অনাদিকালের
স্বস্তি ও অস্বস্তিময় হে জীবন
সুখ ও অসুখের
                প্রেম ও প্রেমহীন হে জীবন
কাম ও কামনার
                প্রাপ্তি ও প্রাপ্তিহীন হে জীবন
আজ সারাটা সকাল আমি তোমার ওষ্ঠে ওষ্ঠ ছুঁয়ে  থেকে বলব
‘আহ্ জীবন’।


১৮.১০.২০১৩

Saturday, October 26, 2013

প্রেম


পিছলে পড়ে
শ্যাওলা জলে নেয়ে
সামাজিকতাকে উদোম উঠোনে শুকোতে দিয়ে
এসো তবে যাপন করি কোজাগরী জীবন।


২৯.০৯.২০১৩

মনের ভেতর কালো মেঘ


ঘরের ভেতর কালো মেঘ ঢুকে পড়েছে বলে
যেই তুমি হুট করে খিল এটে দিলে, সেই থেকে
আমার এখানে বৃষ্টি
                অঝোর বৃষ্টি
তোলপাড় ঝড়, আমার বিছানা দুলে দুলে উঠছে
দুদ্দার শব্দে ভেঙ্গে চুরমার হচ্ছে
                        জানালার কাঁচ
মেঝেতে পা রাখলেই রক্তক্ষরণ।
তুমি কি খাটের কোনে জড়সড় হয়ে আছ বৃষ্টি ভয়ে
নাকি ঝড়ো হাওয়ায় উড়ে যেতে দিচ্ছ তোমার রাত্রিবাস
তোমার কি মনে পড়ে যাচ্ছে ডাল লেকের ভাসমান কটেজ ?

আমি বালিশ আঁকড়ে বসে থাকি
                        বৃষ্টি থামেনা
ভোরের কুয়াশা জড়িয়ে বৃষ্টি-ক্লান্ত তুমি কি এখনও ঘুমাও
আড়মোড়া ভেঙ্গে (শুভ সকাল) তুমি কি শরীরে জড়াও সোনালি রোদ

আমার এখানে বৃষ্টি থামেই না, তবু
আমি কিছুতেই বৃষ্টি দেখতে পাচ্ছি না
আমার দুচোখ আড়াল করে রেখেছে তোমার বৃষ্টি-স্নাত নাকি বৃষ্টি-ভীত শরীর

২৬.১০.২০১৩


Friday, October 25, 2013

ভুলে যাও আমাকে মানুষ


ভুলে যাও আমাকে মানুষ
আমার অক্ষমতা নিয়ে বড় বেশী বিপর্যস্ত আমি
ভুলে যাও আকাশ ভুলে যাও নদী
ভুলে যাও গাছ ভুলে যাও ঘাস

ভুলে যাও আমাকে বন্ধু
আমার নিস্পৃহতা নিয়ে বড় বেশী বিপর্যস্ত আমি
ভুলে যাও জোছনা ভুলে যাও বৃষ্টি
ভুলে যাও মাঠ ভুলে যাও ঘাট

ভুলে যাও আমাকে প্রেম
আমার অসহায়ত্ব নিয়ে বড় বেশী নির্জীব আমি
ভুলে যাও ভীরুতা ভুলে যাও কাপুরুষতা
ভুলে যাও স্পর্শ ভুলে যাও সুখ

ভুলে যাও আমাকে পিতা
ভুলে যাও ভাই ভুলে যাও বোন
ভুলে যাও স্ত্রী ভুলে যাও কন্যা
ভুলে যাও মৃত্তিকা ভুলে যাও নিলীমা।

এই পৃথিবীতে কোনো কিছুরই যোগ্য ছিলাম না আমি
অথবা কিছুই যোগ্য ছিল না আমার
সকল অক্ষমতার দায় কাঁধে নিয়ে
বরং আমিই সরে যাই দূরে
পৃথিবীর ভিন্ন আলোয় যদি দেখা হয় কোনদিন  আবার
আমাকে চিনো না কেউ।



Sunday, September 29, 2013

সনাক্তকারী চিহ্ন 'বুকের বাম পাশে কালো তিল আছে'


আমাকে নগ্ন দেখে তুমি যদি চলেও যাও
কি আসে যায়। নগ্নতাই আমার বৈভব
নগ্নতা আমি ঢাকি না সুতো কিংবা চাতুর্যে
বরং উন্মুক্ত করি নিপতিত কিংবা উত্তুঙ্গ।
আমাকে উন্মুক্ত দেখে যদি তোমার বিবমিষা জাগে
জাগুক, কি আসে যায়।

আমার দাদা কৃষক ছিলেন
তার সুঠাম বাহু ছিল, ছিল ছাতিম গাছের মত বুকের পাটা
যদিও আমি তাকে দেখেছি বলে মনেই পড়ে না।
বাবা ছিলেন দরিদ্র শিক্ষক, যাকে ঠিকঠাক
ছা-পোষা বলা যায় কিনা সেটিও ভাববার। তিনি নিতান্তই
ক্ষীণকায় ছিলেন। দুই পক্ষের ছয় সন্তানকে মানুষ করতে কিংবা বাঁচিয়ে
রাখতেই তিনি আরো ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছিলেন কিনা কে জানে

সপ্তম শ্রেণিতে উঠার সময় কোটবাড়ির সামরিক কলেজটি
আমাকে সনাক্তকারী চিহ্ন হিসেবে ‘বুকের বাম পাশে কালো তিল আছে”
বলে আইডি কার্ডে রায় দিয়েছিল। সেই কালো তিল
একই সাথে চারটি কালো তিলের খোঁজও যদি চাও
খুঁজতে হবে আমাকে নিরাভরণ।

তোমাকে দেখানোর কি আছে আমার নগ্নতা ছাড়া
আমার গায়ে যে   রঙ চঙ শার্ট দেখ, জিন্স আর ভারী জুতা
কখনো চটি জুতোয় হাঁটুতে আটকে যাওয়া পাঞ্জাবি,
ফেসবুক আর টুইটারে ঘন ঘন বদলে যাওয়া প্রফাইল ছবি
ঝলমলে আমি আর আরো ঝলমলে আমার বন্ধুরা; এসবের কোথাও
আমাকে পাবে না
বরং আবরনহীন আমাকে দেখো তুমি সরল
অকপট ঋজু।

বাইরে যতই চুলে পাক ধরুক
ভোগ আর সম্ভোগে বাড়ুক অস্থিরতার চর্বি
ভেতরে ভেতরে এখনও সেই দশ বছর বয়সের আমি
ঘর্ষণে ঘর্ষণে ক্ষয়ে যাওয়া হাফপ্যান্টে উকি দেয় উপবাসী নিতম্ব
নগ্নতা ছাড়া কোথাও খুঁজে পাবে না তুমি আমাকে অকৃত্রিম।

জড়াতেই যদি চাও তবে এসো
আমাকে জড়াও আলিঙ্গনে। ঢোলভাঙ্গার মীনেরা
যদিও আমার সঙ্গী  ছিল একদা
তবু দেখো কেমন আঁশহীন নিভাঁজ ত্বক
ভল্লুকেরা কখনোই বাসা বাঁধেনি আমার বুকে। মসৃনতায় যদি সুখ
না হয় তোমার, কি আসে যায়।

যদি পেতেই চাও আমাকে
আমার নগ্নতা খুঁড়ে ঢুকে যাও গভীরে আরও
দেখো শ্যাওলা পড়া একাকী ঘাট। শ্যাওলা পছন্দ নয় বলে
নারীরা পাল উড়িয়ে চলে গেছে দূরে।
পিছলে পড়ার ভয় নিয়েও যদি তুমি বসতে চাও ঘাটে
তবেই আমাকে পাবে তুমি নিবিড়। 


২৯.০৯.২০১৩



Thursday, September 12, 2013

আমার রোদ

আমার পাঁচ বছরের মেয়ে রোদ ; বলে বাবা
সিলেট থেকে এসে আমাকে একটা ছোট্ট ছাতা কিনে দিও।
এইবার যে বৃষ্টি প্রায় শেষ এটি ওকে কিছুতেই বোঝানো যায় না

আমি বলি ঘরে তো তিনটি ছাতা আছে, কিন্তু ওর ছোট্ট ছাতা চাই ই।
বলি আচ্ছা দেবো কিনে। তবু ও কথা থামাতেই চায় না
বলে যদি অনেক পয়সা লাগে কিনতে, আমি বলি দেবো
বলে যদি আরো অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
ও বলে, যদি আরো অনেক অনেক পয়সা লাগে, আমি বলি দেবো
যদি তোমার কাছে অত পয়সা না থাকে
বলি তাহলে সোফা টিভি বিক্রি করে তোমাকে ছাতা কিনে দেবো
ও বলে, যদি তাতেও না হয়। আমি বলি তাহলে সব বেচে দেবো
যা আছে আমার, তবু তোমাকে ছাতা কিনে দেবই।
ও যেনো আশ্বস্ত হয়, মিষ্টি করে হাসে

যে রাতে আমি সিলেট থেকে ঘরে ফিরব
ও কিছুতেই ঘুমাতে চায় না। আমি গাড়িতে চড়ার সময় থেকেই
ওর সময় গননা শুরু; বাবা এখন কোথায়? বলি ব্রাম্মনবাড়িয়া
ও খুবই হতাশ, ব্রাম্মনবাড়িয়া থেকে আসার সময় একবার গভীর রাত
হয়ে যাওয়ায় ট্রেনের দ্যোদুল্যমান পুলকও ওকে জাগিয়ে রাখতে পারেনি।
রাত বাড়ে, আমি পার হই মোহময়ী ভৈরব, নরসিংদী পেরিয়ে মাধবদী
তারপর ভুলতা এসে আমার গাড়ি অবস্থান ধর্মঘটে বসে। মেয়ের হতাশ
স্বরে আমার রক্তচাপ বাড়ে, ওকে ঘুমিয়ে পড়তে বলি। ও কিছুতেই ঘুমাবে না।
অতঃপর মধ্যরাত কাছাকাছি এলে গাড়ি যাত্রাবাড়ি এসে লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ে;
ড্রাইভারের নাক-ডাকা কানে এলে আমি চৌদ্দদিনের জঞ্জালের ভারী ব্যাগ সহ
নেমে পড়ি। আমার মেয়ের ঘুমজড়ানো গলা কানে বাজে
ওর মা ওকে ঘুমিয়ে যেতে বলে। বলে কাল সকালেই তো বাবাকে দেখতে পাবে
ও কিছুতেই ঘুমাবে না, ‘আজ দেখলেতো বাবাকে একদিন বেশী দেখা হবে’

ভারী ব্যাগ নিয়ে আমি যাত্রাবাড়ীর খানাখন্দ পার হতে থাকি জোড় কদমে
জীবনভর আমার অপ্রাপ্তির হতাশাগুলো কোথায় পিছে পড়ে থাকে!!

১২.০৯.২০১৩