Monday, November 17, 2014

বুকের ভিটায় ঘুঘু

যে কোনো কিছুই হতে পারে
চলে যাওয়া কিংবা ভুলে যাওয়া
মন্ত্রনার ‘পনে’ যদি ভেঙ্গে যায় তোমার মন
তুমি বরং পাথর বেঁধো বুকে।
প্রতিদিন ‘নিরোদ’ সময়ে
ঠিকঠাক পানি দিয়ো ফুলের টবে

সিঁথিতে রোদ মেখে নিয়ে তুমি যখন
কাজল পড় চোখে, আমি তখন ভর দুপুরে
ঘুঘু চড়াই বুকে।


১৭.১১.২০১৪

Sunday, November 9, 2014

দুঃখেরা শিল্প হয়ে গেলে

দুঃখেরা শিল্প হয়ে গেলে আর দুঃখ থাকে না
হয়ে যায় পতনোন্মুখ ঝর্ণাধারা
দুঃখেরা শিল্প হয়ে গেলে টেলিভিশন সারাইয়ের দোকানে
খোলা পড়ে থাকে পুরোনো টেলিভিশনের মত
দুঃখেরা শিল্প হয়ে গেলে নিরুদ্দেশ পাখি হাততালি দিয়ে উঠে
বিলের ঠিক মাঝে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকে বিষন্ন বক
দুঃখেরা শিল্প হয়ে গেলে  শহরজুড়ে লোডশেডিং এর রাতে
হোল্ডিং নম্বর ভুলে গিয়ে দিকবিদিক ছুটতে থাকে হিরন্ময় মেঘ


০৯.১১.২০১৪

Thursday, October 23, 2014

নরক

আমার মা যে নরকে যাবেন আশপাশে কান পাতলে
সেটা সহজেই বোঝা যায়। কালো অক্ষরের হিংস্রতা
আমাকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছে সেই বালক বয়সে, তাই
আর সবার মত আমিও এখন
কানকেই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বলে মানি।
ধর্মাবতার, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মত দুঃসাহস
আমার ছিল না কোনো কালেই। ইশ্বরের নামে এই যে
উন্মত্ততা চারদিকে, তীব্র আলোর দিকে ছুটে যাওয়া
ঘাসফড়িং এর এই যে অহেতুক লুটিয়ে পড়া
এ সবকেই আমি স্বাভাবিক বলে মানি, এবং
প্রতিরাতে আমি রিহার্সেল করি কিকরে নির্ভুলভাবে
নরকের দ্বাররক্ষককে কুর্নিশ করা যায়।

এই জন্মে না হলেও পরের জন্মে আমি
তোমার বুকেই ঘুমাতে চাই মা।
তোমার বুকে কি কখনো নরক ছুঁতে পারে

২২.১০.২০১৪
সিলেট

Saturday, September 27, 2014

ভালবাসা ও ঘৃণার মঙ্গলময় রাতে

জানি আমার জন্য তোমার সময় হবে না একটুও
আজকে তুমি ভীষণ ব্যস্ত, আকাশের গায়ে ঘর বানাচ্ছ মস্ত
আজকে তোমার পা ছুঁয়েছে নীলগিরি
দখিনা বাতাস তোমার চুল উড়িয়ে নিচ্ছে
ঢেকে দিচ্ছে মাছাপুছরা আর ধবলগিরি

আজকে তুমি ভীষণ ব্যস্ত, উদাস মেঘও ভীত সন্ত্রস্ত
অনিচ্ছায় তুমি নাচাও তোমার বাঁক
কি আসে যায়, আকাশ ও ভূমন্ডলে
‘আলোড়ন বয়ে যাক’

আজকে তোমার কথারা ফোটাচ্ছে খই
মোবাইল কোম্পানি গুলো বেহিসাবি এমন
        ব্যালেন্সের হিসাব কই?
তোমার কথায় জ্যোতি ছড়াচ্ছে হীরা
মুগ্ধ পাখিরা ঘুরছে তোমার পাশে
                ঠোঁটে নিয়ে পাউন্ড স্তারলিং লিরা

কথারা বানাচ্ছে ঘর, ঘৃনার ও ভালবাসার
কথারা বানাচ্ছে পাহাড়, দ্বিধা ও শংকার
কথারা বানাচ্ছে নদী, নিরন্তর নিরবধি

তোমার কথারা ফোটাচ্ছে খই
ঝড়ে-বৃষ্টিতে তুমুল হুলুস্থুল, তেপান্তরের মাঠ পেরুবে বলে
হাঁটা ধরেছে বোকা মাছ কই
আদিগন্ত বিস্তৃত শূন্যতা নিয়ে
আমি অপেক্ষায় জেগে রই।

২৩.০৯.২০১৪

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন

ও মানুষ তুমি ভাঙ্গছ কেন
ডাঙায় নদী পেরুবে বলে সাঁকোর উপর
হঠাত করে থামছ কেন, নদীর বুকে জল নাই আর?
জলে এবং মলে যখন মাখামাখি, আলগোছে তুমি স্নান সেরে নাও
এবং মাখ আরবি আতর...‘মাহে ভাদর’

ও মানুষ তুমি ভাংছ কেন
ভালবাসার রুপালি চাবি তোমার হাতে
মন নিয়ে তুমি ভাবছ কেন
যাদুমন্তরে খুলে যায় যখন সোনালী বাঁক... ‘চিচিং ফাঁক’

নদীর জলে লাশ দেখে তোমার বুক ভেঙ্গে যায়?
মহত্তম মন্ত্র আর সার্বজনীন তন্ত্রগুলো মুখ ভেংচায়?
মানুষ দেখে অমন করে হাসছ কেন
উদোম শরীর ফুটপাতেও খুঁজে বেড়ায় সুখের নাগর
জীবন মানেই ধর্ম-অধর্ম সুখ দুঃখ আগর বাগর

নারীর মনের রঙ বদলালে তোমার অমন দুঃখ কেন
শিউলি মাখা সকালগুলো খুন হয়ে যায় ভর দুপুরে
কালবেলার ওই কালোখেলায় তবু তুমি পথ ভুলোনা
বরং তুমি ঘরে ফিরো সন্ধ্যে হলেই
এবং তুমি বাঁচতে শেখ যেমন তেমন যাচ্ছেতাই

পাওনি বলে হাহাকারে ডুববে কেন
মানুষ তোমার স্বপ্নগুলো ঝেড়ে ফেল
স্বপ্ন এখন ‘অবরুদ্ধ জীবন’ বাঁচায়, অঙ্গ
এবং সঙ্গমেরই সুখ কামনায়

তবু তুমি বাঁচতে শেখ
রক্তভেজা সিক্ত পায়ে নতুন করে হাঁটতে শেখ
মানুষ তুমি হাল ছেড়োনা
অসুন্দরের যজ্ঞ দেখে হার মেনোনা

এ শহর আজ বেজান শহর
এ দেশ আজ বেজান দেশ
এ পৃথিবী আজ বেজান পৃথিবী
এ পৃথিবীর মানুষ পাথর মন পাথর নদী এবং নারী পাথর

তবু তুমি ভাঙবে কেন
বরং তুমি কোরাস ধর
নাহয় বাঁচ পাথর জীবন।

(একটা শহর, তার মানুষ পাথর, গাছ-পাতা পাথর, গরু-ঘোড়া প্রভৃতি জীবজন্তু পাথর, 
পাখি পাথর, পিঁজরায় দেওয়া জল ও চাল সকলই পাথর, সেই শহরের নাম বেজান শহর।
                ---ঘরের কথা ও যুগসাহিত্য : দীনেশ্চন্দ্র সেন)


২৮.০৯.২০১৪

Monday, September 22, 2014

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ

মহামানবে বিশ্বাস নাই, এমনকি মহীয়ান মনুষ্যত্বে
অবিশ্বাসী আমি নদীর জল ছুঁতে গিয়ে
আলগোছে সরাই ভাসমান পাপ
  এবং ডুবে যাই

সুইমিংপুলের নীল জল বরাবরই নিঃসংশয়
ক্ষুদ্রকায় বিকিনিও জানে
কতটা ভিজলে ডুবে যায় আলোকিত ন্যায়

নিষ্পাপ চাঁদের চেয়ে কলঙ্কিত চাঁদই আমার পছন্দ
তোমার নিভাঁজ ত্বকের চেয়ে গিরি ও গিরিখাদ
                          আর কর্ষিত নিন্মাঞ্চল

২২.০৯.২০১৪

সিলেট

Sunday, September 7, 2014

ইচ্ছে

ইচ্ছে আমার বোকা ভীষণ
গোয়ার এবং গন্ডমূর্খ
ভালো কিছু হয়না জেনেও
অর্থহীন লেখে পদ্য

ইচ্ছে আমার হাওয়াই জাহাজ
উড়ে এবং ডিগবাজি খায়
ইচ্ছে হলে যখন তখন
ঘরের জলে পদ্ম ফোটায়

ইচ্ছে গুলো সুবিধাবাদী
যখন তখন আপোষ করে
বাঁচবে বলে আঁকড়ে থাকে
ভীষণ রকম অনিচ্ছাটাকে

ইচ্ছে আমার ‘এবং নারী’
যখন খুশী ঘোমটা পড়াই
ইচ্ছে হলে নগ্ন করে
নিপল দিয়ে কান চুলকাই

ইচ্ছে গুলো মিথ্যে করে
মাঝে মাঝেই স্বর্গে ভাসে
ইচ্ছে আমার ইচ্ছে তোমার
কার সাধ্যি বেঁধে রাখে




যা কিছুর জন্যে আকুলতা

যা কিছুর জন্যে আকুলতা যা কিছুর জন্যে উন্মাদনা সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে অভিমান যা কিছুর জন্যে এমন ভেঙ্গে যাওয়া না যাওয়া
                                                             সবই না পাওয়া
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে খালপাড়ে ফেলে আসা  ব্যর্থতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে কেবলি ছুঁয়ে দেখার ব্যাকুলতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে উন্মাদ জোছনা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ফোটা জুঁই ফুল
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না ছুঁতে পারা ছেড়া হাফ প্যান্ট
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে অনন্তের দড়িতে ঝুলে থাকা রংধনু শাড়ী

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে না লেখা কবিতা
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে পুরোনো ডায়েরী ঘেঁটে
খুঁজে পাওয়া একরাশ শূন্যতা

যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে ঘাসফড়িঙ এর অর্থহীন ওড়াওড়ি
যা কিছুর জন্যে বেঁচে থাকা সে তুমি ও আমি, স্বপ্নের ওপারে বাড়ী

না পাওয়াই যদি বেঁচে থাকা হয় তবে, রূপসী
তোমার দিকে তাকিয়ে থেকেই কাটুক না হয় অরূপ এ জীবন।


Wednesday, August 13, 2014

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে আবর্জনারা বড় হচ্ছে, বাড়ছে কাক ও কাকতাড়ুয়া

এ শহরে মানুষেরা সব নির্বীর্য ও নিশ্চল
গো এবং গর্ধভেরাই কেবল প্রাঞ্জল
এ শহরে তরুণেরা ক্ষীণদৃষ্টি নির্বীষ
তন্দ্রালু ঘোর আর পলায়ন স্বপ্নে বিভোর
স্ত্রীরা সব ক্লান্ত নারীরা স্তন ও নিতম্ব স্বর্বস্ব, তরুণীরা প্রেমহীন
এ শহরে নদীতে মাছ নাই
মানুষের লাশ হয়ে যায় ‘খুঁজে পাওয়া আরাধ্য’ মীন

এ শহরে রাত বাড়লেই বুদ্ধিজিবীতার নামে হিপোক্রাসি আর হিপোক্রাটদের
মিছিল শুরু হয়, যেন এইমাত্র নেমে আসা দেবদূত
কখনো শোনেনি ফিটনেস ছাড়া লঞ্চ আর গাড়ি কিকরে বের হয়

এ শহরে মিছিলে আর দেখা যায় না বজ্রমুষ্ঠি
এ শহরে আর ফোটে না কৃষ্ণচূড়া
এ শহরে কেউ নাইতে নামে না অমল ধবল বৃষ্টিতে
এ শহরে কেউ পুরস্কৃত হয় না মৌলিক কোনো সৃষ্টিতে
এ শহরে চুম্বনে আর কাঁপে না কারো ঠোঁট
এ শহরে ভোটের নামে হয় সবজি আর মাংসের জোট

এ শহরে আমিও ভন্ড, আবেগের জালিয়াত
আমার নামেও ব্যাংক ব্যালান্স বাড়ী গাড়ি ও নারীর সহবত
যদিও আমি দারিদ্র বিমোচনের মূল কর্তা
নুউঅর্ক আর জোবরা গ্রাম মিলিয়ে বানাই ভর্তা
যদিও আমি পরিবেশবাদী, ১০০ বছর পরের পৃথিবীর জন্য কাঁদি
আমার ভীষণ দূরদৃষ্টি, কাছাকাছি কিছুই দেখিনা ভাই
কোন গ্রামে জন্মেছি আমি? আমাদের আপাতঃ সংকট বলে কিছু নাই

এ শহরে প্রতিদিন আমিও খুনী
অভুক্ত শ্রমিকের ঘামে ভেজা শার্ট চড়া দামে আমিও কিনি
আমিও বাঁচি একেকটি দিন পরের দিনের আশায়
আমার মেয়ের কোমল গালের স্পর্শ আমায় বাঁচায়

এ শহরে তুমিও আছ, হৃদয় নিয়ে ভীত
এ শহরে গান হয় না আর, তোমার জন্যে গীত

এ শহর ছেড়ে পালাচ্ছে সবাই, পালাচ্ছে সব বন্ধুরা
এ শহরে তবুও থাকি, তোমার জন্য অপ্সরা

১৪.০৮.২০১৪

ঢাকা

Tuesday, August 12, 2014

আমি আসলে কতটা আমার

নির্ঘুম চন্দ্রগ্রস্ত মাঝরাত হঠাত করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়
        ‘তুমি আসলে কতটা তোমার’?
নিজেকে নিজের কবিতার নায়ক ভেবে বিছানা ছেড়ে
মেঝেতে পা রাখতে গিয়ে দেখি, প্রতিদিনের নিকানো পুঁছানো
আমার মেঝেও দখল করে নিয়েছে অজাচারী কিছু তেলাপোকা।

তেলাপোকার গা বাঁচিয়ে চলার পথ খুঁজতে খুঁজতে বুঝি
স্যান্ডেলবিহীন আমার দুই পা মহাশূন্যের অদৃশ্য দড়িতে ঝুলছে মধ্যাকর্ষণহীন

১০.০৮.২০১৪
রাত ২.৩০


Friday, August 1, 2014

অন্ধজীবন

আমি কোনো কিছুই ঠিক মত বেছে নিতে পারি না
শার্ট কিনতে গেলে রঙ নিয়ে বিপাকে পড়ি
রঙ পছন্দ হলে স্টাইল, তাও ঠিক হলে দাম

ছেলেবেলায় শাক কিনতে গিয়ে একবার
আলু শাক কিনে এনেছিলাম, কত জনই তো নিচ্ছে ভেবে
আহা কি লাঞ্ছনা!!
আমার কি আর তখন জানা ছিল
কারো কারো গোয়াল ঘরও থাকে
দোহনযোগ্য ওলান থাকে খুনসুটি থাকে

আমার কেবল নিকানো উঠোন, নিপাট দহন

৩১.০৭.২০১৪

Sunday, July 27, 2014

দুঃখ কেবল সেই মায়ের জন্য

স্নানঘরে কাঁচের দরজায় উপচে পড়ে জল
কোথায় বৃষ্টি এপারে না ওপারে

তেল আবিবে সাইরেণ বাজে আর তুমি আরবি খেজুর নিয়ে
প্রস্তুত হতে থাকো রোজা খুলবে বলে
তুমি নিশ্চয় জানো না সাইরেন হল সতর্ক সংকেত
প্রতিবার সংকেতে কাউন্টার মিসাইল গুলো প্রতিহত করে দেয়
ফিলিস্তিনি রকেট, আর বৃষ্টির মত বোমা পড়তে থাকে গাজায়।

ও মানুষ, দেখো মৃত্যর আগে তোমার যেন বেশী রক্ত না ঝরে
বিধাতা সাওম পালনে তোমার আনুগত্যের নিশ্চয়ই প্রতিদান দেবেন
ও মানুষ, তুমি পালাচ্ছ না কেন
তিন’শ কোটি ডলারের সামরিক সাহায্য কি এতটাই কম যে তোমার
ঘর বাড়ী অক্ষত থেকে যাবে? পালাও মানুষ
বিধাতার এ ভূখন্ডে ভয় কি তোমার

মূহুর্তেই ইউক্রেনে লাশ হয়ে যায় তিন’শ মানুষ, লাশ বাড়তে থাকে ফিলিস্তিনে
লাশ বাড়তে থাকে পাকিস্তানে লাশ বাড়তে থাকে ইরাকে
মানবিক লোভে এক যুদ্ধ সমান মানুষ চাপা পড়ে যায় রানা প্লাজায়
ও ইশ্বরের বরপুত্র মানুষ দুহাতে কংক্রিটের স্লাব ঠেলে ধরেও ঠিকঠাক
জপ করো ইশ্বরের নাম।

আমাদের মতই মহান নেতারা  আরো ভাল জানেন যে
মানুষ উৎপাদন যতটা সহজ রাজনীতি প্রভাব প্রতিপত্তি এবং ভূখন্ড রক্ষা ততটাই কঠিন
যদিও মানবিকতার হেন দুর্দশায় দুঃস্বপ্নের রাত্রিগুলোতে
স্ত্রী সঙ্গমেও আজকাল শরীর ততটা এগোয় না।

বিধাতার মত এতটা কঠিন পরীক্ষা অবশ্য নিতে পারেন না বিশ্ব নেতারা
মানবিকতার স্ল্যাশ ট্যাগ গুলো তাদেরও আর্দ্র করে।
যদিও আমরা বুঝি মানবিকতারও ধর্ম থাকে, থাকে ভূখন্ড এবং রাজনীতি
দিনের বেলা সামরিক সাহায্যের ফাইলে সই করলেও রাত্রিতে
ঘুমের ঘোরে  নিজের অজান্তেই আঁকড়ে ধরেন তার কিশোরী সন্তানকে।
ঘন ঘন বৈঠক হয়, বৈঠক দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়
লাশ বাড়তে থাকে মানুষের

এবং যথারীতি তেল আবিবের বিমান বন্দরে রকেট পড়ে
বোমা বৃষ্টির সাথে সাথে কামান গর্জে উঠে গাজায়। ঘরবাড়ী
ধুলোয় মিশে গেলেও নারী পুরুষ আর শিশুর লাশের
প্রতিদিনের শুমারিতে কোনো সমস্যাই হয় না।

বিধাতা নিরবই থাকেন। দুঃখ কেবল সেই মায়ের জন্য
যার আর্তনাদের হাহাকারে বিধাতার সাম্রাজ্যের খুটিগুলো
প্রায়শই নড়েচড়ে উঠে। 

২৭.০৭.২০১৪

Saturday, July 26, 2014

গড়ানো বল উঠাতে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

আজকে আমি ঘুমাব, আজকে আমার ভীষণ ঘুম পাচ্ছে
জন ডেনভার আপনি থাকুন আমার পাশে
কে তুমি পর্দা উঁচিয়ে উঁকি দিচ্ছ, কে তোমরা ফেসবুকে আমার
কবিতা নিয়ে উচ্ছ্বাসে মাতো, কে বলে আমি কবিতা লিখি
এ আমার জীবন যাপনের লিরিক, এ আমার ক্রন্দন
কান্না নিয়ে এমন উচ্ছ্বাসে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

পিং পং বল গুলো আজকাল এত গড়ায় কেনো মাটিতে
গড়ানো বল উঠাতে আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগে

২৫.০৭.২০১৪

Wednesday, July 23, 2014

ভালবাসা তোমার জন্য

ভালবাসা তোমার জন্যে কতবার ছুঁয়েছি ভোর, সোনালী শিশির
ভালবাসা তোমার জন্যে ছুটে বেড়িয়েছি খোলা বারান্দা, হামুখ দুপুর
ছুঁয়েছি ঝলমলে রোদ কিশোরী নুপুর।  

ভালবাসা তোমার জন্যে বিকেলগুলো থেমে গিয়েছে, গড়ায়নি সন্ধ্যায়
অথৈ বেদনায় ডুবেছে কিশোর, শিশিরে ভিজেছে ঘাসফুল
                                                       মানবিক মন্দায়

ভালবাসা তোমার জন্যে কত কি না করতে চেয়েছি গোপনে
মোল্লাবাড়ীর ঘাটে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থেকেছি শীতের দুপুরে

ভালবাসা তোমার জন্যে পেরিয়েছি হাতল বিহীন বাঁশের পুল
তোমার জন্যে অপার্থিব লকারে জমিয়েছি শুকনো বকুল

ভালবাসা তোমার জন্যে করতলে অক্ষমতা মুঠো করে দেই ছুট
ভালবাসা না পেলে পারাপার নিঃসাড় সকলি ঝুট।

২৩.০৭.২০১৪

Monday, July 21, 2014

অত ভাবনার কিছু নাই

দেখো এইসব নিয়ে অত ভাবাভাবির দরকার নাই
ব্যাপারটা মূলত ভালবাসাবাসি সংক্রান্ত
আর ভালবাসাবাসি মানেই তো প্রেম
প্রেম যে আদতে যৌনতা থেকেই উদ্ভূত সেটা কে না জানে
এবং ঠিকঠাক যৌনতা থেকেই মানুষের উত্তরণ, কিংবা মেধার।

সুতরাং এইসব নিয়ে অত ভাবাভাবির দরকার নাই
বরং চলো আমরা ঢেউয়ে দুলতে থাকা নৌকোয় দাঁড়কাকের বসে থাকা দেখি।
কিংবা ওই দূরে স্নানরতা নারীর সৌন্দর্য

২১.০৭.২০১৪

Friday, July 4, 2014

চাই

আমি রোদ চাই, চাই বৃষ্টি। জমি চাই চাই ঘর
ঘর চাই সাথে আলোকিত নর
নর চাই সাথে নারী। নারী চাই সাথে কর্ষিত সুখ
কর্ষিত সুখ চাই সাথে অকর্ষিত পুলক

আমি পুলক চাই সাথে মায়াবী পালক

আমি ঝুম চাই সাথে নিঝুম
আমি আলো চাই সাথে ছায়া
আমি শরীর চাই সাথে কায়া।

আমার জন্যে কিছুই পর্যাপ্ত নয় এই পৃথিবীতে

আমি জীবন চাই সাথে মৃত্যুর  ভীতি
আমি মৃত্যু চাই সাথে জীবনভর প্রীতি

আমি প্রেম চাই সাথে অপ্রেমের যন্ত্রনা
আমি প্রেমহীন স্বস্তি চাই সাথে প্রেমের মন্ত্রনা

আমি নীতি চাই সাথে রাজনীতি
আমি কৃতি চাই সাথে অনাবিল প্রীতি

আমি জ্ঞান ছাই সাথে মূর্খতার সারল্য
আমি কঠোরতা চাই সাথে তারল্য

আমি মুক্তি চাই সাথে পরাধীনতার বন্ধন
আমি বন্ধন চাই সাথে মুক্তিহীনতার ক্রন্দন

আমি সুখ চাই সাথে দুঃখ বিলাশ
আমি দুঃখ চাই সাথে অনন্ত সুখ তালাশ  

আমার চাওয়ার সাথে পাওয়াগুলো যখন গোলটেবিল বৈঠকে বসে
মুহূর্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে আকাশ ও ভূমন্ডলে
ইশ্বরের পাগলা ঘন্টি বেজে উঠলে দায়িত্বে নিয়োজিত দেবতা
স্বপ্নবান ছুড়তে থাকে তালবেতাল। আমি আষাঢ়ে গল্পের মত
আষাঢ়ের বৃষ্টির জন্যে অপেক্ষা করতে থাকি
জীবন ভেজাবো বলে।


০৪.০৭.২০১৪

Thursday, July 3, 2014

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে

কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
ঠিকঠাক ঘুমুতে যাওয়া ঠিকঠাক ঘুম থেকে উঠা
ঠিকঠাক নাওয়া ঠিকঠাক খাওয়া
প্রতিদিন কভারসিল-৪মিঃগ্রাঃ নিশ্চিতভাবেই খেয়ে দিন শুরু করার কথা
অথচ মাথার পেছনে ঘাড়ের ব্যথা অসহ্য না হওয়া পর্যন্ত
সেকথা বেমালুম ভুলেই থাকি।

কিছুই ঠিকঠাক করা হল না এক জীবনে
রবিবারের বাজারে দুঃসম্পর্কের এক আত্বীয়ের কাছে অপ্রত্যাশিত পেয়ে যাওয়া
আট টাকা সেকি তুমুল খুশির আলোড়ন তুলেছিল বুকে
আহা সেই টাকাও যে কি বেখেয়ালে হারিয়ে ফেলি!!
কত কিছুই যে হারিয়ে ফেলেছি যা আগলে রেখেছিলাম নির্জনে
ব্যাডমিন্টনের কাঠের ব্যাট, বাজিমাত করে দেয়া দাবার ঘুটি, ৩নম্বর ফুটবল
তর্ক ও বিতর্কের রাত, ভেজা জ্যোছনায় খোলা মাঠে শুয়ে থাকা বন্ধু
আমি আর তুই  
ভারী বৃষ্টিতে কাঁদা মাখামাখি খেলে জিতে পাওয়া আয়না ও কাফুই

কিছুই নেই ঠিকঠাক আগে ছিল ঠিক যেমন
না ছোঁয়া ভালবাসা, আদর্শ লিপিতে শেখা সত্যাসত্য, বোধ এবং মূল্যবোধ
বদলে গেছে বিশ্বাস ফাগুন মাস এমনকি বিশ্বস্ত ক্রোধ।
বদলে গেছে প্রিয় বই, ছুঁতে চাওয়া প্রিয় নারী
বদলে গেছে প্রিয় শিক্ষক স্বপ্নে বানানো হিজলতলায় বাড়ি

কিছুই ঠিকঠাক হয় না আমাকে দিয়ে
মানুষের ভিড়ে কিছুতেই যোগ্য করে তুলতে পারিনা নিজেকে
বন্ধুরা সজ্ঞানে এড়িয়ে চলে যেনো আনমনা মেঘ   
নারীর সামনে এখনও আমি কৈশোরের সেই বুক ধরফর একপেশে প্রেমিক

কিছুই ঠিকঠাক করা হলনা একজীবনে
যে সময়ে তোমার ঠোট ছুঁয়ে দেয়ার কথা ছিল আমার ঠোটে
সেই সময়ে আমি তোমার হাত ধরেই আপ্লুত ছিলাম
                                হাঁদারাম এর মত
তোমাকে আদর করতে গিয়ে
কীসব ছাইপাশ বলতে বলতে আর করতে করতে
রাত পার করে দেই, তোমাকে
ঠিকঠাক আদর ও করা হলো না এক জীবনে।

কবিতা লিখব বলে
কিছুই করা হলো না নিজের মত করে
ঠিকঠাক করা হলো না চাকরি
ঠিকঠাক করা হলো না প্রেম
ঠিকঠাক করা হলো না ঘর
ঠিকঠাক হওয়া হলো না বর।
কবিতা লিখব বলে ইঁদুর দৌড়ে আমি বসে থেকেছি হুলো বিড়াল
পৈতা পড়া বামুনের পাশে নগ্ন চাঁড়াল

তবু কবিতাও লেখা হল না ঠিকঠাক
কিছুই ঠিকঠাক করা হলো না এক জীবনে
০৩.০৭.২০১৪