Wednesday, March 28, 2018

আমি এই পুরুষজন্ম অস্বীকার করছি

রুপা, তোমার মৃত্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়
যদিও ধর্ষণ কিংবা এই সংক্রান্ত অপরাধ গুলো বেশ সয়েই যাচ্ছিল
তবু, তোমার মৃত্যু আমাকে নতুন করে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল

রূপা, তোমার মটকানো ঘাড়, থেঁৎলে যাওয়া মাথা সাক্ষী রেখে
এই পুরুষজন্ম অস্বীকার করছি, আমি দুরূ দুরু বক্ষে নারী কে নিয়ে লেখা
সকল কবিতা কে অস্বীকার করছি
নদীর বয়ে যাওয়া কুলকুল ধ্বনিকে অস্বীকার করছি
জ্যোৎস্না রাতে ঝিরিঝিরি বাতাসকে অস্বীকার করছি
তোমার কিশোরী হাত ছুঁয়ে দেয়ার জন্য
কিশোর হাতের দ্বিধা থরথর কম্পনকে অস্বীকার করছি

এই স্বীকারোক্তি কোনো দায়মুক্তি নয়
বরং আমি শাস্তি দাবী করছি
ভালবাসাহীন যে হাত ছুঁতে চাইবে নারীকে
মূহুর্তে সেই হাত ন্যাতানো পুরুষাঙ্গ হয়ে উঠুক
ভালবাসাহীন যে পুরুষ কামনা করবে নারীকে
তার মগজে থকথক করুক লিকলিকে ঘুণ পোকারা

যদিও জানি, শাস্তিদাতা, আপনিও স্বয়ং পুরুষ
রায় ঘোষণার পূর্বে অনুপুঙ্খ বর্ণনা শুনতে শুনতে
আপনার বিচার দন্ডটিও খানিকটা নড়েচড়ে উঠে বৈকি

০১.১০.২০১৭ 


চশমা ছাড়া স্বাধীনতা দেখার চেষ্টা করি


ওইখানে, একটু দূরে আমার চশমাটা
তার পাশে বই, মোমবাতি, সন্ধ্যায় ইলেক্ট্রিসিটি চলে গেছিল
আর আছে ঔষধের বাক্স, ডেস্ক ক্যালেন্ডার
গান শোনার জন্য একটা সাবউফার সহ দুইটা স্পিকার
কিছু দরকারি ফাইল, অফিসের বিজনেস কার্ড
আমার দুই মেয়ের ছোটবেলার ফ্রেমে বাঁধাই করা ছবি

কিছুক্ষণ পর আমরা স্বাধীনতা ছোঁব। আমি অপেক্ষায় আছি
কিন্তু সমস্যা হল চশমা ছাড়া আজকাল কাছের জিনিস একদম দেখিনা

স্বাধীনতা কি কাছের না দূরের?
আসুন চশমা ছাড়া স্বাধীনতা দেখার চেষ্টা করি

২৬ শে মার্চ ২০১৮, রাত ১:৩০

ঝরাপাতার বৃষ্টিবিলাস


বইমেলায় যখন বৃষ্টি শুরু হল
ডিম কিনতে গিয়ে তুমি আটকা পড়লে দোকানে

আমি বৃষ্টির চেয়ে বেশি দেখছিলাম ঝরা পাতাদের
উড়াল হাওয়ায় গাছের মরা পাতারা ঝরছিল
ঝরে গিয়ে উড়ছিল, উড়ে উড়ে ঘুরছিল
আর ডানপিঠে বৃষ্টি
ঝরা পাতার শরীর ছুঁয়ে নেমে যাচ্ছিল মাটিতে

তুমি বললে, হাতে হাত রেখে
চল বৃষ্টি ভিজি।

শুনে আমি ঝরছিলাম, ঝরে গিয়ে উড়ছিলাম
উড়ে উড়ে ঘুরছিলাম
আর ডানপিঠে বৃষ্টি তোমার শরীর ছুঁয়ে
নেমে যাচ্ছিল অন্য হৃদয়ে

আমি ঝরাপাতার জীবন চক্রে বৃষ্টিবিলাসে মুগ্ধ

২৩.০৩.২০১৮

আসুন একটা দুপুরের গল্প শুনি


কিছুই যখন করার নাই, আসুন একটা দুপুরের গল্প শুনি

উঠান জুড়ে ছিল রোদ, এককোণে
শুকিয়ে যাওয়া নারকেলের খোলে পানি চিকচিক করছিল
একপাশে জমিয়ে রাখা নিকোনো আবর্জনা
এত মানুষের জমায়েত, তাঁর জন্যে বিরল অভ্যর্থনা

তাঁর নিশ্চিন্ত চোখ বলছিল, অবহেলা করার সব
প্রয়োজন ফুরালো, জীবনে কোনো সিদ্ধান্ত না নিতে পারার
অপবাদও তিনি একাই ঘুচালেন। তিনি শুয়ে ছিলেন

শিশুটিও ছিল পাশে। এই জীবনে আর কখনো শয্যা হবে না কাছে

তো, যে গল্প বলছিলাম, তিনি শুয়ে ছিলেন উঠানের ঠিক মাঝখানে
তাঁর সফেদ পোষাক থেকে ঈশ্বরের দ্যুতি ছড়াচ্ছিল, আর মানুষেরা
আর মানুষগুলো, কাছের আর দূরের, কেউ কাঁদছিল
কেউ কান্না চেপে রাখছিল, কারো কারোরটা কিছুই বোঝা যাচ্ছিল না
তবু তিনি শুয়েই ছিলেন, নির্বিকার, যেন ঈশ্বর 

শিশুটিও ছিল পাশে, বোধ নির্বোধের অজানা ঘোরের মাঝে

এইসব আয়োজন, কান্নার রোল, দুর্বোধ্যতা আর
একটা শিশুর ভবিতব্য ভেবে ভেবে
একটা দমকা হাওয়া ছুঁয়ে গেল কি লাশটা?

ভীষণ অস্থিরতায় দাঁড়িয়ে গেছিল গাছটা
আমি তার নীচে বসে স্থির
পুকুরের পানিও কাঁপছিল তিরতির

আম্মা, তোমার জন্য কত আয়োজন, কত্তো ভীড়!!!

২০.০৩.২০১৮

Tuesday, March 13, 2018

তুই


এই একটা তুই
আমাকে ছুঁড়ে দিয়েছিল কই?
তুমি জানো না, আমি জানি

এই একটা তুই, এত প্রেমময়ও হয়?

১৪.০৩.২০১৮

সম্প্রতি আমি মৃত


ত্রিভূবন রানওয়েতে অনেকের সাথে কাল আমিও মরে গেছি। আমার আর কারো মুখ মনে পড়ছে না । এমনকি স্বয়ং ঈশ্বরেরও
মানুষজন্ম এতো অনিশ্চিত যে টিভির সামনে বসে থাকতে থাকতে, পত্রিকার
পাতায় চোখ বুলাতে বুলাতে, ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে, রাস্তা পার হতে হতে
আমি প্রায়ই মরে যাই। সেদিন রূপার সাথে আমার লাশও পড়ে ছিল রাস্তার পাশে

তারপর আর কিছুই মনে থাকে না
স্ত্রীর আলিঙ্গন, সন্তানের অভিমানী চোখ, হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকার মুখ। কিচ্ছু মনে পড়ে না
কাকরাইল মোড়ে ফুটপাথে চা খেতে খেতে কার সাথে যেন ধাক্কা লাগে, বুঝি অনস্তিত্ব

আমার কবিতার খাতা খোলা পড়ে থাকে।
নিজের মৃত্যুতে একটা শোক প্রস্তাব পাঠানোর কথাও ভুলে যাই

১৩.০৩.২০১৮


এইসব পরাগায়নের খোশগল্প


আপনি যখন হাঁটেন, পৃথিবী যদি কেঁপে উঠে
আপনি যখন হাসেন, পৃথিবী যদি দুলে উঠে

আপনি নুতে চাইলে পৃথিবী যদি স্বয়ং উঠে আসে আপনার হাতে
আপনি ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালে পৃথিবীর নন অ্যাক্রোব্যাট শরীরে
যদি ফাটল দেখা দেয়
আপনি যদি আটকে থাকেন ২২ বছরে
আর হাজার বছরের পৃথিবী যদি আপনাকে কুর্নিশ করে
আপনার বাঁকে যদি ঝলমল করে উঠে দীঘলবাক

তবে বুঝবেন
মধ্যরাতের গোপন পাপের মত পৃথিবীও ভিজতে থাকে পরাগায়নের খোশগল্পে

১৪.০২.২০১৮


শৈশবের মাঠ


অন্ধকার ডানা মেলে দিলে ঘুমের ঘোরে তুমি কি ছোঁও

মনে আছে?
আমাদের মাঠে কোনোদিন অন্ধকার নামতো না
চাঁদ না থাকলে আমাদের সঙ্গ দিত কোনো কোনো মুখশ্রী
সেইসব মুখ আর মুখশ্রী আর প্রেয়সি মাঠ
ছিল আমাদের শৈশবের ভোর, সন্নিবদ্ধ রোদের দুপুর
রাত্রি জুড়ে লেপ্টে থাকা হতবিহবল ঘোর

মনে আছে?
বিষাদগুলো আমাদের পায়ের পাতায় লেগে থাকা কুয়াশা হয়ে
গল্প লিখতো কচি ঘাসে, যদিও আমাদের কবিতাগুলো ছিল প্রেমের
আমরা আবৃত্তি করতাম বিদ্রোহের কবিতা
যথারীতি আবৃত্তি/আবৃতি বানান নিয়ে তুমি ছিলে নিঃসংশয়
আমার সংশয়ের শুরু সেখানেই

মনে আছে?
মাঠের কোনায় হাসনাহেনার ঝাড়, একটা চাপকল, ঘরবাড়ি
এই চাপকলই ছিল আমাদের তৃষ্ণা মেটানোর আধার
একদিন হাসনাহেনার ঝাড় উঠে গেলে, আমরা
ছড়াতে থাকলাম বিভিন্ন দিকে, সমুদয় তৃষ্ণা জমিয়ে রেখে
একদিন উঠে গেলো চাপকলও

উড্ডয়ন স্পৃহা বুকে নিয়ে ভালবাসার যে বীজ পুতেছিলাম আমরা
হাইস্কুলের মাঠে, তার সাথে লাইলনের মোটা দড়ি দিয়ে বাঁধা ছিল চাঁদ

এখন ইদগার ধারালো গ্রিলএ ছিঁড়ে টিরে গেছে সেইসব দড়ি
                                 

চন্দ্রনিঘাপুরের চাঁদ


পুল ওভারে ঢাকা স্তনের পাহাড় থেকে
এইমাত্র নেমে, আমরা সমতলে দাঁড়িয়েছি
তোমার কেটলিতে বলক উঠছে
আমাদের ঘুমঘোর চোখে নেমে আসা চাঁদ দেখতে দেখতে

ও চন্দ্রনিঘাপুরের চাঁদ
চায়ের কাপে ঠোঁটে জড়াই তোমার উত্তাপ

সেইখানে, চন্দ্রনিঘাপুরের সেই পাহাড় ঘেঁষা সমতলে
ঘোরলাগা এক কুয়াশা রাতে, আমাদের বুকে পেরেক ঠুকে
ছবি হয়ে ঝুলে যায় একটা সুন্দর

সুন্দরের কেটলির গরম ভাপে আমরা দাঁড়িয়ে আছি। অন্তকাল